০৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন ঘিরে অগ্নিগর্ভ পাকিস্তান

  • জুলহাস কবির
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • 88

 

✅  ইমরানকে কারাগারে রেখেই আজ ভোটগ্রহণ

✅ ভোটের আগের দিন পরপর বিস্ফোরণে নিহত ২৬

✅ সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে তরুণরা

✅ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৬৭টি রাজনৈতিক দল

 

চরম উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে রেখেই আজ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৬তম জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ৪ প্রদেশ ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে এই ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে দেশটির ১৬৭ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এ নির্বাচন ঘিরে দেশটিতে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক সহিংসতা চলছে। নির্বাচনের আগের দিনও পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বালুচিস্তান প্রদেশে পরপর জোড়া বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন। চলছে অর্থনৈতিক নানা সংকট।
এদিকে একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস (সাইফার) এবং তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে যথাক্রমে ১০ ও ১৪ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। এই নির্বাচনে প্রার্থিতা করতে পারছেন না তিনি। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) যেসব প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদেরকে দলের নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও আদালত। ফলে নিজেদের বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থীদের তুলনায় বেশ বেকায়দায় আছেন পিটিআই প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজহার আব্বাস গণমাধ্যমকে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আদালতের বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। যেহেতু পিটিআইয়ের নির্বাচনী প্রতীক বাতিল হয়ে গেছে, কার্যতই তারা ভোটে অংশ নিতে পারছে না। পরিস্থিতি খারাপ থেকে অধিকতর খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে পাকিস্তানে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা চান পাকিস্তানের বাসিন্দারা। নানা কারণে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানে উত্তেজনা-উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল, স্বাভাবিকভাবেই তা অনেকটা ফিকে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক জটিলতার কারণে নির্বাচনের গতানুগতিক জৌলুস হারিয়ে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও অন্যান্য সদস্যদেরপ্রার্থিতা বাতিলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পর এবারের নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে গেছে বলেও মত তাদের। দেশটির শীর্ষ জাতীয় দৈনিক ডন গতকাল বুধবার তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ‘অর্ধনৈতিক অস্থিতিশীলথা ইস্যুতে প্রধান ৩টি দলের কোনোটিই এখন পর্যন্ত কোনো দিশা দেখাতে পারেনি। সবাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সমস্যার কথা বলছে, কিন্তু কোনো দলের নির্বাচনী ইশতেহারে এটি পরিলক্ষিত হয়নি যে, কীভাবে এসব সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।’ মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো সমান সুবিধা (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) পায়নি। কিন্তু তার পরও নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানে যতখানি উত্তেজনা রয়েছে তার মূল অবদান এই দু’টি দলের। এবং অসম হলেও প্রকৃত লড়াই হচ্ছে পিএমএলএন এবং পিটিআইয়ের প্রার্থীদের মধ্যে। একদিকে পিএমএলএন পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং অন্যদিকে পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খান পাকিস্তানের শীর্ষ জনপ্রিয় নেতা। যদিও পাকিস্তানের ১৬৭টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

 

 

 

স/ম

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন ঘিরে অগ্নিগর্ভ পাকিস্তান

আপডেট সময় : ১২:০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

✅  ইমরানকে কারাগারে রেখেই আজ ভোটগ্রহণ

✅ ভোটের আগের দিন পরপর বিস্ফোরণে নিহত ২৬

✅ সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে তরুণরা

✅ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৬৭টি রাজনৈতিক দল

 

চরম উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে রেখেই আজ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৬তম জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ৪ প্রদেশ ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে এই ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে দেশটির ১৬৭ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এ নির্বাচন ঘিরে দেশটিতে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক সহিংসতা চলছে। নির্বাচনের আগের দিনও পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বালুচিস্তান প্রদেশে পরপর জোড়া বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন। চলছে অর্থনৈতিক নানা সংকট।
এদিকে একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস (সাইফার) এবং তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে যথাক্রমে ১০ ও ১৪ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। এই নির্বাচনে প্রার্থিতা করতে পারছেন না তিনি। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) যেসব প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদেরকে দলের নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও আদালত। ফলে নিজেদের বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থীদের তুলনায় বেশ বেকায়দায় আছেন পিটিআই প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজহার আব্বাস গণমাধ্যমকে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আদালতের বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। যেহেতু পিটিআইয়ের নির্বাচনী প্রতীক বাতিল হয়ে গেছে, কার্যতই তারা ভোটে অংশ নিতে পারছে না। পরিস্থিতি খারাপ থেকে অধিকতর খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে পাকিস্তানে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা চান পাকিস্তানের বাসিন্দারা। নানা কারণে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানে উত্তেজনা-উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল, স্বাভাবিকভাবেই তা অনেকটা ফিকে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক জটিলতার কারণে নির্বাচনের গতানুগতিক জৌলুস হারিয়ে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও অন্যান্য সদস্যদেরপ্রার্থিতা বাতিলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পর এবারের নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে গেছে বলেও মত তাদের। দেশটির শীর্ষ জাতীয় দৈনিক ডন গতকাল বুধবার তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ‘অর্ধনৈতিক অস্থিতিশীলথা ইস্যুতে প্রধান ৩টি দলের কোনোটিই এখন পর্যন্ত কোনো দিশা দেখাতে পারেনি। সবাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সমস্যার কথা বলছে, কিন্তু কোনো দলের নির্বাচনী ইশতেহারে এটি পরিলক্ষিত হয়নি যে, কীভাবে এসব সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।’ মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো সমান সুবিধা (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) পায়নি। কিন্তু তার পরও নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানে যতখানি উত্তেজনা রয়েছে তার মূল অবদান এই দু’টি দলের। এবং অসম হলেও প্রকৃত লড়াই হচ্ছে পিএমএলএন এবং পিটিআইয়ের প্রার্থীদের মধ্যে। একদিকে পিএমএলএন পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং অন্যদিকে পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খান পাকিস্তানের শীর্ষ জনপ্রিয় নেতা। যদিও পাকিস্তানের ১৬৭টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

 

 

 

স/ম