যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের একটি ভবনের দুই তিন ও চার তলায় রয়েছে ইউনিক হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনেই বেসরকারি এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। আনুমানিক ২শ’ ৫০ বর্গফুটের একেকটি কক্ষে ৫/৬ টি শয্যা। হাসপাতালে রোগী থাকলেও অনুপস্থিত মানসম্মত অপারেশন থিয়েটার। একই ভবনের নিচতলায় রয়েছে কমটেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার । যেটি দালাল নির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। আরেকটি ফ্লাটে রয়েছে অর্থোপেডিক ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আরেকটি অংশের ২য় তলায় রয়েছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তার নিচ তলায় গড়ে ওঠা ল্যাবজোন স্পেশালাইজিড হসপিটালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উন্নতমানের কোনো যন্ত্রপাতি নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উল্লিখিত তিনটিসহ ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের ৫শ’ মিটার এলাকার মধ্যে, মোট ১৬ টি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার সবগুলোই পাশাপাশি ভবনজুড়ে অবস্থিত। এরমধ্যে ১৩ প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই বলে নিশ্চিত করেছেন যশোর সিভিল সার্জন অফিস। কর্মকর্তারা বলেছেন, নিজেদের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠানে বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই ভবনে একাধিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরনা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে অবগত হয়েছেন। ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকটিতে জরিমানা করা হয়েছে। জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল আসা রোগীদের কেন্দ্র করেই মূলত সরকারি হাসপাতালের সামনেই সারিবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বেসরকারি এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক। অথচ ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল গঠন এবং পরিচালনার দিকনির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালের ৩০০ গজের মধ্যে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক থাকতে পারবে না। কিন্তু আইন অনুযায়ী যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনের চিত্র সম্পন্ন ভিন্ন। এখানে বেসরকারি হাসপাতাল, কিèলিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন করার ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নিয়মনীতি ।
বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারি হাসপাতালের সামনে হওয়ায় সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ রোগীরা। নিম্নমান ও অনুমোদনহীন এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের নিয়োগ করা দালালের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন তারা।
সূত্র জানায়, একই ভবনে গড়ে ওঠা একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করে থাকনে। তারা রোগীর নিয়মিত অপারেশনসহ সকল চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। প্রাইভেট চেম্বারে বসে প্রতিদিন আয় করছেন মোটা অংকের টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কমটেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবার কোন পরিবেশ নেই। দালালের উপর ভর করেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানকার নিয়োগকৃত দালালরা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে এখানে আনার পর গলাকাটা বানিজ্য করা হয়। বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্ট ও ল্যাব টেকনশিয়ান না থাকলেও রোগীদের প্যাথলজি রিপোর্ট হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উন্নতমানের যন্ত্রপাতিও নেই। মূলত রোগীদের সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতানোর ধান্দায় ব্যস্ত রয়েছেন কমটেক কর্তৃপক্ষ।
ইউনিক হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। আলোচিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নানা অনিয়মের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এছ্ড়াা রয়েছে অপচিকিৎসার অভিযোগ। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপতালের কতিপয় চিকিৎসক সরকারি এই হাসপাতাল থেকে হাত পা ভেঙ্গে যাওয়া রোগীদের গোপনে ইউনিক হসপিটালে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া বিগত দিনে এখানে ডা. আনসার আলীর অপচিকিৎসায় চৌগাছার মাড়ুয়া গ্রামের দিনমজুর ফজলুর রহমানের ছেলে শামিনুর রহমানের (১০) জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ছেলেকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন ফজলুর রহমান। এঘটনায় রোগীর স্বজনরা ইউনিক হসপিটালে হাম,লা চালিয়ে ভাংচুর করে। ওই সময় হাসপাতালের পরিচালক উজ্জল বিশ্বাসও জখম হয়েছিলেন। এদিকে ছোট ছোট কক্ষে ৬ থেকে ৮ টি করে শয্যা বিছানো হয়েছে। মোটা অংকের টাকা ব্যয় করেও আরাম দায়ক পরিবেশে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব হাসপাতাল গড়ে তোলার পেছনে রয়েছেন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কখনো নিজের নামে, কখনো আবার অন্যের নামে এসব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন তারা। আর্থিকভাবে লাভবান হতে তারা একই এলাকায় পাশাপাশি ভবনে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
শিরোনাম
একেক ভবনে রয়েছে ৪ থেকে ৫টি যশোরে ৫শ’ মিটারে ১৬ হসপিটাল-ক্লিনিক
-
যশোর প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ১২:২৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪
- ।
- 102
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে একই ভবনে একাধিক হাসপাতাল ক্লিনিক স্থাপনের বিষয়টি দুঃখজনক। এতে নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আবার স্বল্প জায়গায় হাসপাতাল ক্লিনিক স্থাপন করায় নিয়মমতো অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি বিভাগ, চিকিৎসা ওয়ার্ড তৈরি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। যে কারণে চিকিৎসাসেবায় ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও জরিমানা করা হয়েছে। অচিরেই বাকিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ























