০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকার নির্ধারিত দামের বাস্তবায়ন নেই বাজারে

নতুন মোড়কের বোতলজাত তেল আসেনি
অজুহাত দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে আগের দামই নিচ্ছে
দাম বাড়লে রাতারাতি, কমানোর সময় ধীরগতি
সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০ টাকা কমে ১৬৩ টাকায় পাওয়ার কথা। কিন্তু সরকারি ঘোষণার চার দিন পেরিয়ে গেলেও বাজারে মিলছে না সরকার নির্ধারিত দামের সয়াবিন তেল। সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন দোকান ঘুরে প্রকাশিত মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, অধিকাংশই আগের দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন। কোথাও কোথাও সয়াবিনের দাম কিছুটা কম রাখা হচ্ছে। বাজারে নতুন মোড়কের বোতলজাত সয়াবিন আসেনি, এমন অজুহাত দেখিয়ে অনেক বিক্রেতা সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে আগের দামই নিচ্ছে।
পরিবেশকরা বলছেন, মিল থেকে নতুন দামের তেল সরবরাহ হয়নি। তবে মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা বলছেন, নতুন দামের তেল ছাড়া হয়েছে। দোকানিরা মিথ্যা বলছেন। তবে কোম্পানিগুলো নতুন দরের সয়াবিন বাজারে ছেড়েছে বলে দাবি করেছে। সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেলে।
ঢাকার কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, মগবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের বাধ্য হয়ে ১৭৩ টাকা লিটার দামেই বোতলজাত সয়াবিন কিনতে হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দামও ৮০০ টাকায়  নামেনি। সে জন্য ৮৪৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বিক্রেতাকে অবশ্য গায়ের দামের চেয়ে কিছুটা কম রাখতে দেখা যায়। খোলা সয়াবিন তেল এখন ১৪৯ টাকা লিটার দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে খোলা সয়াবিনের দাম ১৫০ টাকার ওপরে।
সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের হাজি মিজান এন্টারপ্রাইজের মো. রাসেল সবুজ বাংলাকে বলেন, নতুন দরের সয়াবিন এখনো বাজারে আসেনি। তাই নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে না। ডিলাররা এখনো পুরোনো দামের সয়াবিনই দিচ্ছে। দাম সামান্য করে কমাচ্ছে। তাতে আমরা আগের থেকে কিছুটা কম দামে ক্রেতাদের সয়াবিন দিতে পারছি।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সালাহ উদ্দিন সাইফ বলেন, আগের দামে  আমাদের ক্রয় করতে হচ্ছে। কোনো জিনিসের দাম বাড়লে রাতারাতি বেড়ে যায় কিন্তু কমানোর ক্ষেত্রে তা উল্টো। আজকে সরকারের ঘোষণার চার দিন হয়ে গেছে তবুও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। সামনে রমজান যেভাবে প্রতিনিয়ত ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে আমাদের কী হবে?
বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি এবং ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দাম বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, খোলা তেলের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, বাজার এখন তার নিচে আছে। বাজারে সরবরাহেরও সংকট নেই। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে খোলা তেলের সরকারি দাম কার্যকর হবে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের বোতলের গায়ে বাড়তি দামের মোড়ক লাগিয়ে সবসময় প্রস্তুত থাকে। কিন্তু কমানোর সময় ধীরগতিতে কমায়। এবার নতুন দাম কার্যকরের ঘোষণা বেশ আগেভাগে দেওয়া হলেও মিল থেকে ডিলার হয়ে এখনো নতুন দামের পণ্য আসেনি। সে জন্য ভোক্তা পর্যায়ে এখনো ভোজ্যতেলের দাম কমানোর সুবিধা পুরোটা মিলছে না।
ভোক্তা পর্যায়ে সরকার ঘোষিত দাম কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তা নিয়ে টিসিবির বাজার দরের প্রতিবেদনও বলছে, ভোক্তা পর্যায়ে এখনো সয়াবিন তেলের দাম কমেনি। ঢাকার বাজারে প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকায় এবং ৫ লিটারের বোতল ৮৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। টিসিবির হিসাবে, লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫২ থেকে ১৫৫ টাকায়।
গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, রমজান উপলক্ষে এবার কোনো পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, যথেষ্ট সরবরাহ আছে। তারপরও রমজানে পরিবহনব্যবস্থা যাতে শৃঙ্খলিত থাকে ও সরবরাহে কোথাও প্রতিবন্ধকতা না হয় সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছি।
প্রসঙ্গত, রোজার মাসে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকার ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) একটি বিশ্লেষণ বলছে, শুল্ক-কর কমানোর কারণে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের আমদানি ব্যয় লিটারে পাঁচ টাকার মতো কমার কথা। পাম তেলে প্রভাব পড়বে প্রায় সাড়ে চার টাকা। তবে সরকার শুধু সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ দফায় বাজারে পাম তেলের দাম কমেনি।
জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবি পরিচালক পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট বর্জনের আলটিমেটাম

সরকার নির্ধারিত দামের বাস্তবায়ন নেই বাজারে

আপডেট সময় : ০৫:১৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪
নতুন মোড়কের বোতলজাত তেল আসেনি
অজুহাত দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে আগের দামই নিচ্ছে
দাম বাড়লে রাতারাতি, কমানোর সময় ধীরগতি
সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০ টাকা কমে ১৬৩ টাকায় পাওয়ার কথা। কিন্তু সরকারি ঘোষণার চার দিন পেরিয়ে গেলেও বাজারে মিলছে না সরকার নির্ধারিত দামের সয়াবিন তেল। সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন দোকান ঘুরে প্রকাশিত মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, অধিকাংশই আগের দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন। কোথাও কোথাও সয়াবিনের দাম কিছুটা কম রাখা হচ্ছে। বাজারে নতুন মোড়কের বোতলজাত সয়াবিন আসেনি, এমন অজুহাত দেখিয়ে অনেক বিক্রেতা সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে আগের দামই নিচ্ছে।
পরিবেশকরা বলছেন, মিল থেকে নতুন দামের তেল সরবরাহ হয়নি। তবে মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা বলছেন, নতুন দামের তেল ছাড়া হয়েছে। দোকানিরা মিথ্যা বলছেন। তবে কোম্পানিগুলো নতুন দরের সয়াবিন বাজারে ছেড়েছে বলে দাবি করেছে। সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেলে।
ঢাকার কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, মগবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের বাধ্য হয়ে ১৭৩ টাকা লিটার দামেই বোতলজাত সয়াবিন কিনতে হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দামও ৮০০ টাকায়  নামেনি। সে জন্য ৮৪৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বিক্রেতাকে অবশ্য গায়ের দামের চেয়ে কিছুটা কম রাখতে দেখা যায়। খোলা সয়াবিন তেল এখন ১৪৯ টাকা লিটার দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে খোলা সয়াবিনের দাম ১৫০ টাকার ওপরে।
সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের হাজি মিজান এন্টারপ্রাইজের মো. রাসেল সবুজ বাংলাকে বলেন, নতুন দরের সয়াবিন এখনো বাজারে আসেনি। তাই নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে না। ডিলাররা এখনো পুরোনো দামের সয়াবিনই দিচ্ছে। দাম সামান্য করে কমাচ্ছে। তাতে আমরা আগের থেকে কিছুটা কম দামে ক্রেতাদের সয়াবিন দিতে পারছি।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সালাহ উদ্দিন সাইফ বলেন, আগের দামে  আমাদের ক্রয় করতে হচ্ছে। কোনো জিনিসের দাম বাড়লে রাতারাতি বেড়ে যায় কিন্তু কমানোর ক্ষেত্রে তা উল্টো। আজকে সরকারের ঘোষণার চার দিন হয়ে গেছে তবুও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। সামনে রমজান যেভাবে প্রতিনিয়ত ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে আমাদের কী হবে?
বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি এবং ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দাম বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, খোলা তেলের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, বাজার এখন তার নিচে আছে। বাজারে সরবরাহেরও সংকট নেই। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে খোলা তেলের সরকারি দাম কার্যকর হবে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের বোতলের গায়ে বাড়তি দামের মোড়ক লাগিয়ে সবসময় প্রস্তুত থাকে। কিন্তু কমানোর সময় ধীরগতিতে কমায়। এবার নতুন দাম কার্যকরের ঘোষণা বেশ আগেভাগে দেওয়া হলেও মিল থেকে ডিলার হয়ে এখনো নতুন দামের পণ্য আসেনি। সে জন্য ভোক্তা পর্যায়ে এখনো ভোজ্যতেলের দাম কমানোর সুবিধা পুরোটা মিলছে না।
ভোক্তা পর্যায়ে সরকার ঘোষিত দাম কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তা নিয়ে টিসিবির বাজার দরের প্রতিবেদনও বলছে, ভোক্তা পর্যায়ে এখনো সয়াবিন তেলের দাম কমেনি। ঢাকার বাজারে প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকায় এবং ৫ লিটারের বোতল ৮৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। টিসিবির হিসাবে, লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫২ থেকে ১৫৫ টাকায়।
গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, রমজান উপলক্ষে এবার কোনো পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, যথেষ্ট সরবরাহ আছে। তারপরও রমজানে পরিবহনব্যবস্থা যাতে শৃঙ্খলিত থাকে ও সরবরাহে কোথাও প্রতিবন্ধকতা না হয় সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছি।
প্রসঙ্গত, রোজার মাসে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকার ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) একটি বিশ্লেষণ বলছে, শুল্ক-কর কমানোর কারণে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের আমদানি ব্যয় লিটারে পাঁচ টাকার মতো কমার কথা। পাম তেলে প্রভাব পড়বে প্রায় সাড়ে চার টাকা। তবে সরকার শুধু সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ দফায় বাজারে পাম তেলের দাম কমেনি।