০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এক ঘণ্টার বৃষ্টি ঢাকায় জলাবদ্ধতা ও যানজটে অসহনীয় ভোগান্তি

●নিউমার্কেট হাঁটু পানির নিচে, ঈদ কেনাকাটায় ভাটা
●ঢাকার ৪৬টি খাল পুনরুদ্ধারের দাবি বাপার
●বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে যাওয়ার ড্রেনেজ ব্যবস্থায় জোর

রাজধানীতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি নামে। বেলা পৌনে তিনটার দিকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি চলে পৌনে চারটা পর্যন্ত। টানা এক ঘণ্টার ঝুম বৃষ্টিতেই নাজেহাল অবস্থা ঢাকাবাসীর। অল্প সময়ের এই বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

রাজধানীর রাজারবাগ, শান্তিনগর, পল্টন, গুলিস্তান ও নিউমার্কেট এলাকায় ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। এ কারণে অফিস ফেরত যাত্রীদের পড়তে হয়েছে ভয়াবহ বিড়ম্বনায়। এমনিতেই চলছে মুসলিমদের পবিত্র মাহে রমজান মাস। তার ওপরে যানজট বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষজনকে মেজাজ হারাতে দেখা যায়। অনেকেই ফিরতি পথে রিকশাচালক, বাসচালক, সিএনজিচালকদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এই বিপদে যারা মেট্রোরেলে যাতায়াতের উদ্দেশ্যে উঠেন তারাও পড়েন বিড়ম্বনায়। কেননা, পাঁচটার পর টানা আধা ঘণ্টা মেট্রোরেল বন্ধ ছিল।

নিউমার্কেটের বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী (৪০) জানান, দুপুরের পর হঠাৎ বৃষ্টিতে পুরো নিউমার্কেট এলাকাজুড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কিছু সড়কে জমেছে গোড়ালি সমান পানি। আবার পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পানি ঢুকেছে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটেও। এমন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

নগরীর এই জলাবদ্ধতা নতুন নয়। একটু বৃষ্টি হলেই জলের তলায় ডুবে যায় নগরীর রাস্তাঘাট। এই অবস্থার আশু পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির। তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে বলতে ২৫ বছর কেটে গেল। প্রতি বছরই এই জলাবদ্ধতাকে পুঁজি করে প্রজেক্ট তৈরি হয় কিন্তু সেই প্রজেক্টের সুফল আমরা জনগণ পাই না। দীর্ঘদিন ঢাকা শহরের খালগুলো ওয়াসার অধীনে ছিল। পরে সেগুলো সিটি করপোরেশনের অধীনে গেছে। তখন বলেছিল ১/২ মাসের মধ্যে আমাদের ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতার কোনো স্থান হবে না। সব জলাবদ্ধতা দূর করে দিবে। কিন্তু যা বলে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র আমরা দেখতে পাই। হাজার হাজার কোটি টাকা প্রজেক্টের নামে লুটপাট চলে কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনের কোনো চিত্র আমরা দেখতে পাই না। ফলে, যা আগে দেখেছি এখনো তাই চলছে। এই জায়গাগুলো উত্তরণের জন্য আমাদের যে সমন্বিত উদ্যোগ, একেক সময় একেক ডিপার্টমেন্ট রাস্তাগুলো খোঁড়াখুঁড়ি করে এতে আমরা সমন্বয়হীনতা দেখছি। ফলে ড্রেনেজ সিস্টেমটা আমাদের একদম খুবই বাজে সিস্টেম। এর পানিগুলো যাওয়ার যে খালগুলো, সেই খালগুলো পানি ধারণের ক্ষমতায় নেই। সেই খালগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে পানি ধারণ করবে কোথায়? জলাশয়গুলো না থাকাতে আজকে অল্প একটু বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানি ড্রেনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। নদীতে পানি যাবার মতো পরিস্থিতিও নেই। এই অবস্থায় প্রজেক্টের নামে শুধু টাকার শ্রাদ্ধ হয় জলাবদ্ধতা নিরসন হয় না।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি যে, হঠাৎ বেশি বৃষ্টি হয়, সেই বৃষ্টির পানি ধারন করার কোনো ক্ষমতা এই ঢাকা শহরের নেই। ঢাকা শহরের যে খালগুলো ছিল ৪৬টি বা তারও বেশি। সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। সেই খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে এবং এই পানি যেন বৃষ্টি হলেই খুব সহজেই এই খালগুলোতে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আর খালগুলোর পাশাপাশি আমাদের ঢাকার চারপাশের যে বৃত্তাকার নৌপথ আছে, সেই নৌপথের নদীগুলোতে এই বৃষ্টির পানিগুলো যেন আমরা সহজেই নিয়ে যেতে পারি সেই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।
সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিউমার্কেট এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। নিউমাকের্ট এবং এর আশপাশের পুরো এলাকায় এই জলাবদ্ধতা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। নিউমার্কেট কাঁচাবাজার এলাকায় যারা ইফতার নিতে আসেন তারাও অনেক বিড়ম্বনায় পড়েন। ধানমন্ডি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি সংলগ্ন আবাসিক এলাকায়ও প্রচুর পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ময়লা পানিতে পুরো সড়ক ডুবে থাকার কারণে হেঁটে কেউ নিজের বাসায় যেতে পারছেন না।
ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী আফসারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় জমে এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীর মীরপুর-১ থেকে নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা সুমাইয়া আহমেদ বলেন, এমন বৃষ্টি আজ হবে জানলে কিছুতেই কেনাকাটা করতে আসতাম না। এখন এত কষ্ট হচ্ছে যে কী বলব! মার্কেটে জল জমে যাওয়ায় কেনাকাটাও করতে পারছি না, আবার বাসায় যে যাব তারও উপায় নেই! তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর যদি আগে থেকে বৃষ্টির ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিত তাহলে খুব উপকার হত!

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এক ঘণ্টার বৃষ্টি ঢাকায় জলাবদ্ধতা ও যানজটে অসহনীয় ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৮:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

●নিউমার্কেট হাঁটু পানির নিচে, ঈদ কেনাকাটায় ভাটা
●ঢাকার ৪৬টি খাল পুনরুদ্ধারের দাবি বাপার
●বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে যাওয়ার ড্রেনেজ ব্যবস্থায় জোর

রাজধানীতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি নামে। বেলা পৌনে তিনটার দিকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি চলে পৌনে চারটা পর্যন্ত। টানা এক ঘণ্টার ঝুম বৃষ্টিতেই নাজেহাল অবস্থা ঢাকাবাসীর। অল্প সময়ের এই বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

রাজধানীর রাজারবাগ, শান্তিনগর, পল্টন, গুলিস্তান ও নিউমার্কেট এলাকায় ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। এ কারণে অফিস ফেরত যাত্রীদের পড়তে হয়েছে ভয়াবহ বিড়ম্বনায়। এমনিতেই চলছে মুসলিমদের পবিত্র মাহে রমজান মাস। তার ওপরে যানজট বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষজনকে মেজাজ হারাতে দেখা যায়। অনেকেই ফিরতি পথে রিকশাচালক, বাসচালক, সিএনজিচালকদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এই বিপদে যারা মেট্রোরেলে যাতায়াতের উদ্দেশ্যে উঠেন তারাও পড়েন বিড়ম্বনায়। কেননা, পাঁচটার পর টানা আধা ঘণ্টা মেট্রোরেল বন্ধ ছিল।

নিউমার্কেটের বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী (৪০) জানান, দুপুরের পর হঠাৎ বৃষ্টিতে পুরো নিউমার্কেট এলাকাজুড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কিছু সড়কে জমেছে গোড়ালি সমান পানি। আবার পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পানি ঢুকেছে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটেও। এমন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

নগরীর এই জলাবদ্ধতা নতুন নয়। একটু বৃষ্টি হলেই জলের তলায় ডুবে যায় নগরীর রাস্তাঘাট। এই অবস্থার আশু পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির। তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে বলতে ২৫ বছর কেটে গেল। প্রতি বছরই এই জলাবদ্ধতাকে পুঁজি করে প্রজেক্ট তৈরি হয় কিন্তু সেই প্রজেক্টের সুফল আমরা জনগণ পাই না। দীর্ঘদিন ঢাকা শহরের খালগুলো ওয়াসার অধীনে ছিল। পরে সেগুলো সিটি করপোরেশনের অধীনে গেছে। তখন বলেছিল ১/২ মাসের মধ্যে আমাদের ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতার কোনো স্থান হবে না। সব জলাবদ্ধতা দূর করে দিবে। কিন্তু যা বলে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র আমরা দেখতে পাই। হাজার হাজার কোটি টাকা প্রজেক্টের নামে লুটপাট চলে কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনের কোনো চিত্র আমরা দেখতে পাই না। ফলে, যা আগে দেখেছি এখনো তাই চলছে। এই জায়গাগুলো উত্তরণের জন্য আমাদের যে সমন্বিত উদ্যোগ, একেক সময় একেক ডিপার্টমেন্ট রাস্তাগুলো খোঁড়াখুঁড়ি করে এতে আমরা সমন্বয়হীনতা দেখছি। ফলে ড্রেনেজ সিস্টেমটা আমাদের একদম খুবই বাজে সিস্টেম। এর পানিগুলো যাওয়ার যে খালগুলো, সেই খালগুলো পানি ধারণের ক্ষমতায় নেই। সেই খালগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে পানি ধারণ করবে কোথায়? জলাশয়গুলো না থাকাতে আজকে অল্প একটু বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানি ড্রেনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। নদীতে পানি যাবার মতো পরিস্থিতিও নেই। এই অবস্থায় প্রজেক্টের নামে শুধু টাকার শ্রাদ্ধ হয় জলাবদ্ধতা নিরসন হয় না।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি যে, হঠাৎ বেশি বৃষ্টি হয়, সেই বৃষ্টির পানি ধারন করার কোনো ক্ষমতা এই ঢাকা শহরের নেই। ঢাকা শহরের যে খালগুলো ছিল ৪৬টি বা তারও বেশি। সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। সেই খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে এবং এই পানি যেন বৃষ্টি হলেই খুব সহজেই এই খালগুলোতে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আর খালগুলোর পাশাপাশি আমাদের ঢাকার চারপাশের যে বৃত্তাকার নৌপথ আছে, সেই নৌপথের নদীগুলোতে এই বৃষ্টির পানিগুলো যেন আমরা সহজেই নিয়ে যেতে পারি সেই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।
সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিউমার্কেট এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। নিউমাকের্ট এবং এর আশপাশের পুরো এলাকায় এই জলাবদ্ধতা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। নিউমার্কেট কাঁচাবাজার এলাকায় যারা ইফতার নিতে আসেন তারাও অনেক বিড়ম্বনায় পড়েন। ধানমন্ডি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি সংলগ্ন আবাসিক এলাকায়ও প্রচুর পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ময়লা পানিতে পুরো সড়ক ডুবে থাকার কারণে হেঁটে কেউ নিজের বাসায় যেতে পারছেন না।
ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী আফসারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় জমে এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীর মীরপুর-১ থেকে নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা সুমাইয়া আহমেদ বলেন, এমন বৃষ্টি আজ হবে জানলে কিছুতেই কেনাকাটা করতে আসতাম না। এখন এত কষ্ট হচ্ছে যে কী বলব! মার্কেটে জল জমে যাওয়ায় কেনাকাটাও করতে পারছি না, আবার বাসায় যে যাব তারও উপায় নেই! তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর যদি আগে থেকে বৃষ্টির ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিত তাহলে খুব উপকার হত!