০৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আট টাকার ঔষধ ৬শ’ টাকায় বিক্রি

➤চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

 

প্রসূতি মায়েদের সন্তান জন্মের সময় ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয় ‘জি-পেথিডিন’ ইনজেকশন। অত্যন্ত সংবেদনশীল এ ওষুধ অপারেশনের সময় বা অপারেশনের পর চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেন। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ ইনজেকশনই দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে নকল করে বাজারজাত করে আসছিল সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এমনই একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। গ্রেফতার করা হয়েছে চক্রের সক্রিয় ৩ সদস্যকে। এরা হলেন- আলমগীর খাঁন (৪০), মাসুদ রানা (২৯) ও আহসান হাবীব শাওন (৩০)। এসময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল সংখ্যক ভেজাল ইনজেকশনসহ অন্যান্য উপকরণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশ বলছে, চক্রটি প্রচলিত ‘জি-ডায়াজিপাম’ ঘুমের ইনজেকশনকে ঘরোয়াভাবে রূপান্তর করে চেতনানাশক ‘জি-পেথিডিন’ ইনজেকশন হিসেবে চালানো হতো। অথচ ‘জি-পেথিডিন’ তৈরির জন্য শুধু অনুমোদন রয়েছে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের।

জি-ডায়াজিপাম নামের ঘুমের ইনজেকশনের লেবেল পাল্টে চেতনানাশক জি-পেথিডিন ইনজেকশনে রূপান্তরিত করা হতো। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিস Íারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, গত সোমবার গোপন সংবাদে রাজধানীর মতিঝিল, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় এ চক্রের সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এসময় অভিযান চালিয়ে চক্রের সক্রিয় ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি মতিঝিল বিভাগ। তখন তাদের কাছ থেকে ২০০ পিস জি-পেথিডিন ইনজেকশন, ২২০ পিস জি-পেথিডিনের অ্যাম্পুল, ১ হাজার ১০ জি-ডায়াজিপামের অ্যাম্পুল, ৫২০ পিস জি-পেথিডিনের খালি বক্স, ২০০ পাতা জি-পেথিডিন ইনটেক স্টিকার, ৫ কেজি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।

ডিবি জানায়, গ্রেফতার আলমগীর মিটফোর্ড এলাকা থেকে ঘুমের ইনজেকশন জি-ডায়াজিপাম প্রতি পিস ৮ টাকায় কেনেন। বাসায় এনে অ্যাম্পুলগুলো অ্যাসিডে ভিজিয়ে রেখে লেবেলগুলো তুলে ফেলে। পরে সেগুলোতে ব্যথানাশক জি-পেথিডিনের লেবেল লাগিয়ে ফয়েল পেপার দিয়ে প্যাকেটজাত করেন। ৮ টাকায় কেনা জি-ডায়াজিপাম ইনজেকশনের লেবেল পাল্টে প্রতি পিস ৬০০ টাকায় বাজারজাত করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

ডিবি প্রধান বলেন, পেথিডিন ইনজেকশন সাধারণত অপারেশনে চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ভেজাল পেথিডিন প্রয়োগে নানা দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। ঘুমের ইনজেকশন কেনা ও লেবেল পাল্টাতে পিস প্রতি ৮-১০ টাকা খরচ করে পেথিডিনে রূপান্তরিত করে ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হতো। এতে চক্রটির লাভ প্রতি পিসে প্রায় ৫৯০ টাকা।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ আরও বলেন, পেথিডিন ইনজেকশন ব্যবহার করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন নামি-দামি হাসপাতালের ফার্মেসিতে এসব ভেজাল পেথিডিন ইনজেকশন বিক্রি করা হতো। তথ্যের ভিত্তিতে বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ২০০ ভেজাল পেথিডিনসহ সেখান থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা প্রধান বলেন, এসব ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে একদিকে মুনাফা, অন্যদিকে রোগীদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে চক্রটি। মিটফোর্ডে কারা এসব ঘুমের ইনজেকশন বিক্রি করতো এবং কোন কোন স্থানে এসব প্যাথেডিন বিক্রি করা হচ্ছে এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্যাথেডিন ইনজেকশন প্রয়োগে কেউ মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছে কি-না এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আট টাকার ঔষধ ৬শ’ টাকায় বিক্রি

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

➤চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

 

প্রসূতি মায়েদের সন্তান জন্মের সময় ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয় ‘জি-পেথিডিন’ ইনজেকশন। অত্যন্ত সংবেদনশীল এ ওষুধ অপারেশনের সময় বা অপারেশনের পর চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেন। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ ইনজেকশনই দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে নকল করে বাজারজাত করে আসছিল সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এমনই একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। গ্রেফতার করা হয়েছে চক্রের সক্রিয় ৩ সদস্যকে। এরা হলেন- আলমগীর খাঁন (৪০), মাসুদ রানা (২৯) ও আহসান হাবীব শাওন (৩০)। এসময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল সংখ্যক ভেজাল ইনজেকশনসহ অন্যান্য উপকরণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশ বলছে, চক্রটি প্রচলিত ‘জি-ডায়াজিপাম’ ঘুমের ইনজেকশনকে ঘরোয়াভাবে রূপান্তর করে চেতনানাশক ‘জি-পেথিডিন’ ইনজেকশন হিসেবে চালানো হতো। অথচ ‘জি-পেথিডিন’ তৈরির জন্য শুধু অনুমোদন রয়েছে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের।

জি-ডায়াজিপাম নামের ঘুমের ইনজেকশনের লেবেল পাল্টে চেতনানাশক জি-পেথিডিন ইনজেকশনে রূপান্তরিত করা হতো। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিস Íারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, গত সোমবার গোপন সংবাদে রাজধানীর মতিঝিল, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় এ চক্রের সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এসময় অভিযান চালিয়ে চক্রের সক্রিয় ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি মতিঝিল বিভাগ। তখন তাদের কাছ থেকে ২০০ পিস জি-পেথিডিন ইনজেকশন, ২২০ পিস জি-পেথিডিনের অ্যাম্পুল, ১ হাজার ১০ জি-ডায়াজিপামের অ্যাম্পুল, ৫২০ পিস জি-পেথিডিনের খালি বক্স, ২০০ পাতা জি-পেথিডিন ইনটেক স্টিকার, ৫ কেজি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।

ডিবি জানায়, গ্রেফতার আলমগীর মিটফোর্ড এলাকা থেকে ঘুমের ইনজেকশন জি-ডায়াজিপাম প্রতি পিস ৮ টাকায় কেনেন। বাসায় এনে অ্যাম্পুলগুলো অ্যাসিডে ভিজিয়ে রেখে লেবেলগুলো তুলে ফেলে। পরে সেগুলোতে ব্যথানাশক জি-পেথিডিনের লেবেল লাগিয়ে ফয়েল পেপার দিয়ে প্যাকেটজাত করেন। ৮ টাকায় কেনা জি-ডায়াজিপাম ইনজেকশনের লেবেল পাল্টে প্রতি পিস ৬০০ টাকায় বাজারজাত করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

ডিবি প্রধান বলেন, পেথিডিন ইনজেকশন সাধারণত অপারেশনে চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ভেজাল পেথিডিন প্রয়োগে নানা দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। ঘুমের ইনজেকশন কেনা ও লেবেল পাল্টাতে পিস প্রতি ৮-১০ টাকা খরচ করে পেথিডিনে রূপান্তরিত করে ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হতো। এতে চক্রটির লাভ প্রতি পিসে প্রায় ৫৯০ টাকা।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ আরও বলেন, পেথিডিন ইনজেকশন ব্যবহার করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন নামি-দামি হাসপাতালের ফার্মেসিতে এসব ভেজাল পেথিডিন ইনজেকশন বিক্রি করা হতো। তথ্যের ভিত্তিতে বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ২০০ ভেজাল পেথিডিনসহ সেখান থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা প্রধান বলেন, এসব ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে একদিকে মুনাফা, অন্যদিকে রোগীদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে চক্রটি। মিটফোর্ডে কারা এসব ঘুমের ইনজেকশন বিক্রি করতো এবং কোন কোন স্থানে এসব প্যাথেডিন বিক্রি করা হচ্ছে এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্যাথেডিন ইনজেকশন প্রয়োগে কেউ মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছে কি-না এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।