০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত’ প্রজ্ঞাপন বৈষম্যমূলক: নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় জারিকৃত সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত’ বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। বৃহস্পতিবার ২১ মার্চ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড.বিপ্লব মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক ড.মো.আনিসুজ্জামান সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনটি যেমন বৈষম্যমূলক তেমনি অধিকার বিবেচনায় সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মনে করে, এই পেনশন ব্যবস্থাপনার আওতায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ চরম বৈষম্যের শিকার হবেন। এই প্রজ্ঞাপন জারির ফলে সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের অমর্যাদা, অবজ্ঞা ও অবহেলা করে কোনো জাতির উন্নতি হয়েছে এমন নজির বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রজ্ঞাপন কাম্য নয়। স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে সেই গুরুত্ব এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নত এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন ব্যাহত হবে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষা ও গবেষণায় একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করতে না পারেন। পাশাপাশি নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির আশংঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চনামূলক এমন পদক্ষেপ মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত করবে, যা সার্বিকভাবে উচ্চ শিক্ষার অবনমন ঘটাবে। ফলশ্রুতিতে ব্যাহত হবে গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান এবং গবেষণা, তৈরি হবে মেধাশূন্য ও অদক্ষ জাতি।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজমান উৎকণ্ঠা, অসন্তুষ্টি লাঘব করার জন্য অনতিবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক, অবান্তর এবং অগ্রহণযোগ্য প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে। এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারপূর্বক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের মর্যাদাকে সমুন্নত করার জোর দাবি জানায় শিক্ষক নেতারা।

উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ১৩ মার্চ ২০২৪ সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটিতে বলা হয়েছে “সকল স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং উহাদের অধীনস্থ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানসমূহের চাকরিতে যে সকল কর্মকর্তা বা কর্মচারী, তাহারা যে নামেই অভিহিত হউন না কেন, ১ জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ ও তৎপরবর্তী সময়ে নূতন যোগদান করিবেন, তাহাদেরকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত করা হইবে”।

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত’ প্রজ্ঞাপন বৈষম্যমূলক: নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় জারিকৃত সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত’ বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। বৃহস্পতিবার ২১ মার্চ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড.বিপ্লব মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক ড.মো.আনিসুজ্জামান সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনটি যেমন বৈষম্যমূলক তেমনি অধিকার বিবেচনায় সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মনে করে, এই পেনশন ব্যবস্থাপনার আওতায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ চরম বৈষম্যের শিকার হবেন। এই প্রজ্ঞাপন জারির ফলে সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের অমর্যাদা, অবজ্ঞা ও অবহেলা করে কোনো জাতির উন্নতি হয়েছে এমন নজির বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রজ্ঞাপন কাম্য নয়। স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে সেই গুরুত্ব এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নত এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন ব্যাহত হবে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষা ও গবেষণায় একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করতে না পারেন। পাশাপাশি নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির আশংঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চনামূলক এমন পদক্ষেপ মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত করবে, যা সার্বিকভাবে উচ্চ শিক্ষার অবনমন ঘটাবে। ফলশ্রুতিতে ব্যাহত হবে গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান এবং গবেষণা, তৈরি হবে মেধাশূন্য ও অদক্ষ জাতি।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজমান উৎকণ্ঠা, অসন্তুষ্টি লাঘব করার জন্য অনতিবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক, অবান্তর এবং অগ্রহণযোগ্য প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে। এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারপূর্বক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের মর্যাদাকে সমুন্নত করার জোর দাবি জানায় শিক্ষক নেতারা।

উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ১৩ মার্চ ২০২৪ সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটিতে বলা হয়েছে “সকল স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং উহাদের অধীনস্থ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানসমূহের চাকরিতে যে সকল কর্মকর্তা বা কর্মচারী, তাহারা যে নামেই অভিহিত হউন না কেন, ১ জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ ও তৎপরবর্তী সময়ে নূতন যোগদান করিবেন, তাহাদেরকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত করা হইবে”।