০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিয়োগ-দুর্নীতি নিয়ে উত্তপ্ত বিএসএমএমইউ

➤ভিসিপন্থিদের মারধর করে বের করে দিল বিরোধীরা
➤ উপাচার্যের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ
➤ পিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা; আর পাঁচদিন মেয়াদ আছে, এই সময়ে কোনো কিছু হবে না : উপাচার্য
➤চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীদের আন্দোলনে উত্তাল ক্যাম্পাস
➤ সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে প্রক্টর

 

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগ এবং কর্মচারী আইন তৈরির দাবিতে আন্দোলন করেছে চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীরা। এ নিয়ে ধাওয়া ও মারামারির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনে কাজ করেছে উপাচার্যের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. রাসেল, ভাগিনা বাহারুল পিয়াস এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা দেবাশীষ বৈরাগী। তাদের অভিযোগ ভাগিনা বাহারুল পিয়াস তার মামার হয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরণের আর্থিক লেনদেন করেছেন। তবে, কোন আর্থিক লেনদেনের প্রমাণের কপি দেখাতে পারেননি আন্দোলনকারিরা। এদিকে, উপাচার্য আর কোন নিয়োগের কাজ করবেন না জানিয়ে বলেছেন, আর্থিক লেনদেনের সমস্ত খবর সর্বৈব মিথ্যা।

গতকাল শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগপন্থি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সংগঠনের শিক্ষকরা। এতে অংশ নেন কর্মকর্তা-কার্মচারীরাও। একপর্যায়ে উপাচার্যের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ডাক্তার মো. রাসেলকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে উপাচার্যের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড শাখাতেও একজনকে মারধর করা হয়েছে বলে জানা যায়।

বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, বিএসএমএমইউ ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল বিশ^বিদ্যালয় আইনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকে এর পূর্ণাঙ্গ বিশ^বিদ্যালয় হতে পরিধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আর এর কারণে বিভিন্ন পদ তৈরি এবং নিয়োগের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। বিএসএমএমইউতে বেশ কয়েকজন উপাচার্যের সময়ে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। পরে, কোনটি সত্য আবার কোনটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। উপাচার্য হিসেবে কনক কান্তি বড়ুয়া ২০১৮ সালের ২৪ মার্চ থেকে ২০১২ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়ে ৪৫০ জন কর্মচারির চাকরি স্থায়ীকরণ হয়।

স্বাচিপের বিএসএমএমইউ শাখার সদস্য সচিব অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটো বলেন, ‘সাধারণত উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার পর আগের উপাচার্য শুধু দৈনন্দিন রুটিন কাজ করেন। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য শতাধিক ডাক্তার, কর্মচারী ও প্রায় ৩০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। অনেকের ধারণা, এর পেছনে অর্থেরও লেনদেন রয়েছে।’
স্বাচিপের চিকিৎসক, শিক্ষক, বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিতে বাধা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এখানকার ইট-পাথরও জানে, টাকা-পয়সা ছাড়া এখানে চাকরি হয় না, তিনি বিএসএমএমইউকে একটা ব্যবসা কেন্দ্র বানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না। আমরা কোনোক্রমেই সিন্ডিকেট বসতে দিব না, যার কারণে সমবেত হয়ে আমরা প্রতিবাদ করছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি গত তিন বছর ধরে ব্যাপক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন, যা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। আমরা তার তিন বছরে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের একেকজনের ১৬ বছর, ১৭ বছর চাকরির বয়স ছিল। কিন্তু তারা সবাই ডেইলি বেসিসে ছিল। তারা কোন ধরনের সার্ভিস বেনেফিট পাচ্ছিল না। এটা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তাদেরকে নিয়মিতকরণের জন্য আমি একটি বোর্ড করে ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। আমি তাদের চাকরি নিয়মিতকরণ করেছিলাম। কিন্তু তখন অপপ্রচার করা হয়েছিল আমি নিয়োগ দিচ্ছি। আমি কোন নিয়োগ দিইনি।’

তিনি বলেন, আমি জানি না নতুনজন এসে কতজনকে স্থায়ী করেছে। আমি সাড়ে চারশ জনকে স্থায়ী করেছি। এরমধ্যে নতুনজন এসে অনেক কাটছাট করেছে, অনেককে বাতিল করেছে এইরকম শুনেছি। উনারা কোন প্রক্রিয়ায় করল তা জানি না। কিছু কিছু স্টাফ আমার কাছে অভিযোগ করেছে, স্যার আপনারা ইন্টারভিউ নিয়ে আমাদের নিয়োগ দিলেন আর উনি এসে আমাদের বাদ দিয়ে দিল। কাদেরকে বাদ দিয়েছে। এটার পরিসংখ্যান কি? এটা তো আমি জানি না।’

বিএসএমএমইউ-এর উপাচার্যরা অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছেÑ এমন অভিযোগ প্রায়ই উঠছে। আপনার সময়ে আপনি কিভাবে নিয়োগের বিষয়গুলো পার করেছেন এ প্রসঙ্গে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আমার সময়ে নিয়োগের আগে অভিযোগ করেছিল আমি ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিচ্ছি। কিন্তু আমি তো স্বচ্ছ একটি পরীক্ষার মাধ্যমে রিটেনে যারা টিকেছে, তাদের মধ্যে ভাইভার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছি। একটা বোর্ডের মাধ্যমে সবকিছু করেছি। আমি তো ইন্ডিভিজ্যুয়ালি কোনো নিয়োগ দিইনি। আমি কোনো এডহক নিয়োগও দিইনি। বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলো, বিজ্ঞপ্তির এগেইনেস্টে ১৭ হাজার মেডিক্যাল অফিসার রিটেনে পরীক্ষা দিল। ১৭ হাজারের মধ্যে থেকে ১টা পোস্টের জন্য তিনজনকে ডাকা হলো তাদের মেধার ভিত্তিতে। পিএসসিতে যেটা করা হয়। সরকারের যে নিয়ম। সেই নিয়ম অনুসারেই ভাইভাতে ডাকা হলো। ভাইভাতে ডেকে তাদের মধ্য থেকে ১৮০ জন মেডিক্যাল অফিসার এবং ২০ জন ডেন্টাল সার্জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।’

এদিকে, উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৮ মার্চ। এরই মধ্যে গত ১১ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক দীন মো. নূরুল হককে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘আমি কোনো নিয়োগ দিচ্ছি না, কোনো পদোন্নতি না, কিচ্ছু না। সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সেলিংয়ের মিটিংয়ে তাদের বাধার মুখে বন্ধ হয়ে আছে এবং এটা আমাকে হেয় করার জন্য অতীতে যারা ভিসি হতে চেয়েছিল ট্রেজারারসহ যারা যারা তারাই তাদের লোকজন দিয়ে এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। পিয়াসের বিরুদ্ধে অর্থ নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এইরকম কোন কিছু নাই। এটা একদম সর্বৈব মিথ্যা। এ ঘটনাটি কোনোভাবেই সত্য নয়। আমি তো জানি তাকে। ও একদম নিরীহ ছেলে। এ জাতীয় যে কথা আসছে এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ ‘আর পাঁচদিন মেয়াদ আছে, এই সময়ে কোন কিছু হবে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে আর কোনকিছু হবে না। কোনো মিটিং হবে না। কিচ্ছু হবে না। আমি রুটিন ওয়ার্কগুলো করে ২৮ তারিখ পর্যন্ত আমার অর্পিত দায়িত্বগুলো পালন করব।’ এ ব্যাপারে বাহারুল পিয়াসের নাম্বারে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেনি। এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কর্মরত সুব্রত মণ্ডল জানান, পিয়াস খুবই নিরীহ ছেলে তার ব্যাপারে এসব অভিযোগ হাস্যকর।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএসএমএমইউ’র ট্রেজারার প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘এই বিষয়ে উপাচার্য বা প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলুন। আমি তো উপাচার্য হইনি, উপাচার্য হয়েছে দীন মোহাম্মদ স্যার। আমার সাথে উল্টাপাল্টা কথা বলে লাভ নাই। আপনি প্রক্টরের সাথে কথা বলেন।’
বিশ^বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ভিসির অফিস স্টাফকে কারা মারধর করেছে আমরা জানি না। এটুকুই বলতে পারি, আমাদের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনে শয়তান ঢুকে গেছে। তারা এই কাজ করেছে। আমরা আমাদের দাবিদাওয়া নিয়ে এখানে আন্দোলন করছি। যদি আজকের মধ্যে দাবি না মানা হয় তাহলে আমরা আগামীকাল থেকে কঠোর আন্দোলনে যাব।’ এদিকে, সকলকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান (দুলাল) নোটিস দিয়ে জানিয়েছেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হলো।’ তিনি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের বর্তমান ভিসিকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে চাই।’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়োগ-দুর্নীতি নিয়ে উত্তপ্ত বিএসএমএমইউ

আপডেট সময় : ০৭:২৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪

➤ভিসিপন্থিদের মারধর করে বের করে দিল বিরোধীরা
➤ উপাচার্যের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ
➤ পিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা; আর পাঁচদিন মেয়াদ আছে, এই সময়ে কোনো কিছু হবে না : উপাচার্য
➤চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীদের আন্দোলনে উত্তাল ক্যাম্পাস
➤ সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে প্রক্টর

 

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগ এবং কর্মচারী আইন তৈরির দাবিতে আন্দোলন করেছে চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীরা। এ নিয়ে ধাওয়া ও মারামারির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনে কাজ করেছে উপাচার্যের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. রাসেল, ভাগিনা বাহারুল পিয়াস এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা দেবাশীষ বৈরাগী। তাদের অভিযোগ ভাগিনা বাহারুল পিয়াস তার মামার হয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরণের আর্থিক লেনদেন করেছেন। তবে, কোন আর্থিক লেনদেনের প্রমাণের কপি দেখাতে পারেননি আন্দোলনকারিরা। এদিকে, উপাচার্য আর কোন নিয়োগের কাজ করবেন না জানিয়ে বলেছেন, আর্থিক লেনদেনের সমস্ত খবর সর্বৈব মিথ্যা।

গতকাল শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগপন্থি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সংগঠনের শিক্ষকরা। এতে অংশ নেন কর্মকর্তা-কার্মচারীরাও। একপর্যায়ে উপাচার্যের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ডাক্তার মো. রাসেলকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে উপাচার্যের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড শাখাতেও একজনকে মারধর করা হয়েছে বলে জানা যায়।

বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, বিএসএমএমইউ ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল বিশ^বিদ্যালয় আইনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকে এর পূর্ণাঙ্গ বিশ^বিদ্যালয় হতে পরিধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আর এর কারণে বিভিন্ন পদ তৈরি এবং নিয়োগের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। বিএসএমএমইউতে বেশ কয়েকজন উপাচার্যের সময়ে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। পরে, কোনটি সত্য আবার কোনটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। উপাচার্য হিসেবে কনক কান্তি বড়ুয়া ২০১৮ সালের ২৪ মার্চ থেকে ২০১২ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়ে ৪৫০ জন কর্মচারির চাকরি স্থায়ীকরণ হয়।

স্বাচিপের বিএসএমএমইউ শাখার সদস্য সচিব অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটো বলেন, ‘সাধারণত উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার পর আগের উপাচার্য শুধু দৈনন্দিন রুটিন কাজ করেন। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য শতাধিক ডাক্তার, কর্মচারী ও প্রায় ৩০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। অনেকের ধারণা, এর পেছনে অর্থেরও লেনদেন রয়েছে।’
স্বাচিপের চিকিৎসক, শিক্ষক, বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিতে বাধা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এখানকার ইট-পাথরও জানে, টাকা-পয়সা ছাড়া এখানে চাকরি হয় না, তিনি বিএসএমএমইউকে একটা ব্যবসা কেন্দ্র বানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না। আমরা কোনোক্রমেই সিন্ডিকেট বসতে দিব না, যার কারণে সমবেত হয়ে আমরা প্রতিবাদ করছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি গত তিন বছর ধরে ব্যাপক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন, যা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। আমরা তার তিন বছরে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের একেকজনের ১৬ বছর, ১৭ বছর চাকরির বয়স ছিল। কিন্তু তারা সবাই ডেইলি বেসিসে ছিল। তারা কোন ধরনের সার্ভিস বেনেফিট পাচ্ছিল না। এটা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তাদেরকে নিয়মিতকরণের জন্য আমি একটি বোর্ড করে ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। আমি তাদের চাকরি নিয়মিতকরণ করেছিলাম। কিন্তু তখন অপপ্রচার করা হয়েছিল আমি নিয়োগ দিচ্ছি। আমি কোন নিয়োগ দিইনি।’

তিনি বলেন, আমি জানি না নতুনজন এসে কতজনকে স্থায়ী করেছে। আমি সাড়ে চারশ জনকে স্থায়ী করেছি। এরমধ্যে নতুনজন এসে অনেক কাটছাট করেছে, অনেককে বাতিল করেছে এইরকম শুনেছি। উনারা কোন প্রক্রিয়ায় করল তা জানি না। কিছু কিছু স্টাফ আমার কাছে অভিযোগ করেছে, স্যার আপনারা ইন্টারভিউ নিয়ে আমাদের নিয়োগ দিলেন আর উনি এসে আমাদের বাদ দিয়ে দিল। কাদেরকে বাদ দিয়েছে। এটার পরিসংখ্যান কি? এটা তো আমি জানি না।’

বিএসএমএমইউ-এর উপাচার্যরা অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছেÑ এমন অভিযোগ প্রায়ই উঠছে। আপনার সময়ে আপনি কিভাবে নিয়োগের বিষয়গুলো পার করেছেন এ প্রসঙ্গে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আমার সময়ে নিয়োগের আগে অভিযোগ করেছিল আমি ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিচ্ছি। কিন্তু আমি তো স্বচ্ছ একটি পরীক্ষার মাধ্যমে রিটেনে যারা টিকেছে, তাদের মধ্যে ভাইভার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছি। একটা বোর্ডের মাধ্যমে সবকিছু করেছি। আমি তো ইন্ডিভিজ্যুয়ালি কোনো নিয়োগ দিইনি। আমি কোনো এডহক নিয়োগও দিইনি। বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলো, বিজ্ঞপ্তির এগেইনেস্টে ১৭ হাজার মেডিক্যাল অফিসার রিটেনে পরীক্ষা দিল। ১৭ হাজারের মধ্যে থেকে ১টা পোস্টের জন্য তিনজনকে ডাকা হলো তাদের মেধার ভিত্তিতে। পিএসসিতে যেটা করা হয়। সরকারের যে নিয়ম। সেই নিয়ম অনুসারেই ভাইভাতে ডাকা হলো। ভাইভাতে ডেকে তাদের মধ্য থেকে ১৮০ জন মেডিক্যাল অফিসার এবং ২০ জন ডেন্টাল সার্জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।’

এদিকে, উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৮ মার্চ। এরই মধ্যে গত ১১ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক দীন মো. নূরুল হককে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘আমি কোনো নিয়োগ দিচ্ছি না, কোনো পদোন্নতি না, কিচ্ছু না। সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সেলিংয়ের মিটিংয়ে তাদের বাধার মুখে বন্ধ হয়ে আছে এবং এটা আমাকে হেয় করার জন্য অতীতে যারা ভিসি হতে চেয়েছিল ট্রেজারারসহ যারা যারা তারাই তাদের লোকজন দিয়ে এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। পিয়াসের বিরুদ্ধে অর্থ নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এইরকম কোন কিছু নাই। এটা একদম সর্বৈব মিথ্যা। এ ঘটনাটি কোনোভাবেই সত্য নয়। আমি তো জানি তাকে। ও একদম নিরীহ ছেলে। এ জাতীয় যে কথা আসছে এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ ‘আর পাঁচদিন মেয়াদ আছে, এই সময়ে কোন কিছু হবে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে আর কোনকিছু হবে না। কোনো মিটিং হবে না। কিচ্ছু হবে না। আমি রুটিন ওয়ার্কগুলো করে ২৮ তারিখ পর্যন্ত আমার অর্পিত দায়িত্বগুলো পালন করব।’ এ ব্যাপারে বাহারুল পিয়াসের নাম্বারে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেনি। এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কর্মরত সুব্রত মণ্ডল জানান, পিয়াস খুবই নিরীহ ছেলে তার ব্যাপারে এসব অভিযোগ হাস্যকর।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএসএমএমইউ’র ট্রেজারার প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘এই বিষয়ে উপাচার্য বা প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলুন। আমি তো উপাচার্য হইনি, উপাচার্য হয়েছে দীন মোহাম্মদ স্যার। আমার সাথে উল্টাপাল্টা কথা বলে লাভ নাই। আপনি প্রক্টরের সাথে কথা বলেন।’
বিশ^বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ভিসির অফিস স্টাফকে কারা মারধর করেছে আমরা জানি না। এটুকুই বলতে পারি, আমাদের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনে শয়তান ঢুকে গেছে। তারা এই কাজ করেছে। আমরা আমাদের দাবিদাওয়া নিয়ে এখানে আন্দোলন করছি। যদি আজকের মধ্যে দাবি না মানা হয় তাহলে আমরা আগামীকাল থেকে কঠোর আন্দোলনে যাব।’ এদিকে, সকলকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান (দুলাল) নোটিস দিয়ে জানিয়েছেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হলো।’ তিনি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের বর্তমান ভিসিকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে চাই।’