০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লঞ্চ ব্যবসায় ধস, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা

►পেশা বদলাচ্ছেন নৌযান শ্রমিক, হকার, কুলি
►লঞ্চ ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় মনোযোগ মালিকদের

 

 

ঈদ আসলে লঞ্চগুলোতে উপচেপড়া ভিড়, টিকিটের জন্য কাড়াকাড়ি এমনটায় ছিল রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালের দৃশ্য। তবে কয়েক বছরে বদলে গেছে দৃশ্যপট, এখন যাত্রীর অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সদরঘাট থেকে বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগওলোকে। তবু মেলে না যাত্রী, অনেক সময় সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যেতে হয় গন্তব্যে। মূলত পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে লাভ তো দূরের কথা, আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা। যাত্রী স্বল্পতার কারণে নৌপথের অন্তত ১০টি রুটে লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু লঞ্চ মালিকরা নয়, রেশ পড়েছে নৌযান শ্রমিক ও সদরঘাট কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী, কুলি মজুরদের মাঝেও। তাদের কেউ করেছেন জায়গা বদল, কেউবা বদলেছেন পেশা।
শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) গতবছরের এক জরিপে দেখা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর গত এক বছরে ঢাকার লঞ্চযাত্রী কমেছে ৩৪ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ব্যবসায় মন্দার কারণে মালিকরা এক বছরে অন্তত ২০টি লঞ্চ স্ক্র্যাপ করে ফেলেছেন। এ ছাড়া আরো অন্তত ছয়টি লঞ্চ স্ক্র্যাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

 

লঞ্চ মালিকরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর আগে প্রতি দিন ঢাকা থেকে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ লঞ্চে বরিশালসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় যেত। আর ঈদের সময় যাত্রী অর্ধকোটি মানুষ সদরঘাটে ভিড় করতেন। সেখানে এখন যাত্রী অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। বাধ্য হয়ে তাই রোটেশনে চালানো হচ্ছে লঞ্চ। প্রতিদিন ঢাক থেকে ছেড়ে যায় ২টি করে লঞ্চ। সে হিসাবে পাঁচ দিন পর একটি আপডাউন ট্রিপ পাচ্ছে লঞ্চগুলো। আবার কেউ কেউ ছেড়েছেন লঞ্চ ব্যবসা, আবার কেউ কেউ ছেড়ে দিবেন বলেও ভাবছেন।

 

লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, ব্যবসাতো আর নেই। যাত্রী এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ থেকে উত্তরণের রাস্তাও আমাদের জানা নেই। আমার নিজের ৫টা লঞ্চ ছিল, ৪টা কেটে বিক্রি করেছি।

 

আর সদরঘাটের হকাররা বলছেন, বেচাকেনা কম হওয়ায় টার্মিনাল থেকে অনেক হকার চলে গেছেন। অনেকে অন্য জায়গায় গিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। আগে পন্টুনের দুই পাশে হকারদের সরব অবস্থান থাকত। এখন যারা আছেন তারা কোনোভাবে এক পাশে বসে পণ্য বিক্রি করছেন। আগের সেই জমজমাট অবস্থা এখন আর নেই। একসময় যারা ফল বিক্রি করতেন, তারা ব্যবসা পরিবর্তন করে বাদাম, ঝালমুড়ি ইত্যাদি বিক্রি করছেন। একই ধরনের কথা টার্মিনালের সামনের ব্যবসায়ীদেরও।

 

সদরঘাটে পন্টুনে ডিম বিক্রেতা সাইদুর রহমান বলেন, পদ্মাসেতু হওয়ার আগে দিনে কয়েক হাজার টাকার ডিম বিক্রি করতাম। এখনতো খুব বেশি হলেও চার-পাঁচশ টাকার বেশি হয় না। অল্প টাকায়, ঘর ভাড়া দিয়ে চলা মুশকিল। অনেকেই সদরঘাট ছেড়ে অন্য জায়গায় গেছে ব্যবসা নিয়ে। আবার আমার মতো অনেকেই কষ্ট করছে এখানে।

 

টার্মিনালের সামনে মুদি দোকানদার খাইরুল হাসান বলেন, আগেতো ঈদের সময় ২০-৩০ হাজার টাকাও বিক্রি হয়েছে আর সাধারণ সময় ৪-৫ হাজার টাকা। এখনতো খুব বেশি হলে ১ হাজার টাকা হয়। আশপাশে অনেকে দোকান ছেড়ে দিয়ে গ্রামে গেছে। অনেকে কেরানীগঞ্জে দোকান দিচ্ছে এ অবস্থায়তো ব্যবসা চলে ন। সবারই পরিবার আছে। তারাও কতদিন থাকতে পারবে জানি না, কারণ প্রতিদিনিই লোক কমছে এদিকে।

 

লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের মাসগুলোতে ৫ তারিখের মধ্যে বেতন মিললেও এখন বেতন পেতে ১৫-২০ তারিখ হয়ে যায়। অধিকাংশ লঞ্চের শ্রমিকের ৪-৫ মাসের বেতনও বাকি আছে। শ্রমিকরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যেখানে বেতন বাড়ার কথা, সেখানে এখন নিয়মিত বেতন পাওয়াই দায়। অনেকে লঞ্চ না থাকায় এখন কার্গোতে কম বেতনে চাকরি নিয়েছেন।

 

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য আতিকুল ইসলাম টিটু বলেন ব্যবসা না থাকায় মালিকরাও টাকা দিতে পারছে না। আমরা যে চাপ দিবো সে সুযোগও নেই। বাধ্য হয়েই সবাই কার্গোতে যাচ্ছে কম বেতনে চাকরি করছে। কষ্ট করে সংসার করছে। আমাদের তো স্কিলের কাজ। এর বাইরে কাজ জানা নেই যে, অন্য পেশায় যাব।
আওলাদ লঞ্চের স্টাফ কামাল বলেন, অনেক দিন ধরে একই বেতনে কাজ করছি। আমাদের বেতন বাড়ার কথা ছিল। পদ্মা সেতু হওয়ার পর যাত্রী কমে গেছে। এখন তো আর বেতন বাড়ার সুযোগ নেই। ১০-১২ হাজার টাকায় নিজের খরচ চালিয়ে পরিবারের জন্য টাকা পাঠানো কঠিন। তাও যদি সঠিক সময়ে বেতন পেতাম। এখন বেতন পেতে মাসের ১৫-১৬ তারিখ হয়ে যায়। এছাড়াও আমার ২ মাসের বেতন বাকি। কবে দিবে কে জানে।

 

 

সার্বিক বিষয়ে কথা বলা হলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, বাজার অর্থনীতিতে বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে যদি মান উন্নত না হয়, তাহলে ভোক্তাদের আকর্ষণ থাকবে না। ভোক্তাদের আকর্ষণ করে এমন বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। লঞ্চ অনেক আরমদায়ক একটি যান। তারা সেবার মান বাড়ালে যাত্রী অবশ্যই বাড়বে। শুধু লঞ্চ না সদরঘাটকে তেমন আকর্ষণের জায়গা করা গেলেও এখানে মানুষ আসবে বেশি। তখন একে কেন্দ্র করে যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আছেন তাদের ব্যবসাও চাঙা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লঞ্চ ব্যবসায় ধস, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

►পেশা বদলাচ্ছেন নৌযান শ্রমিক, হকার, কুলি
►লঞ্চ ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় মনোযোগ মালিকদের

 

 

ঈদ আসলে লঞ্চগুলোতে উপচেপড়া ভিড়, টিকিটের জন্য কাড়াকাড়ি এমনটায় ছিল রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালের দৃশ্য। তবে কয়েক বছরে বদলে গেছে দৃশ্যপট, এখন যাত্রীর অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সদরঘাট থেকে বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগওলোকে। তবু মেলে না যাত্রী, অনেক সময় সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যেতে হয় গন্তব্যে। মূলত পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে লাভ তো দূরের কথা, আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা। যাত্রী স্বল্পতার কারণে নৌপথের অন্তত ১০টি রুটে লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু লঞ্চ মালিকরা নয়, রেশ পড়েছে নৌযান শ্রমিক ও সদরঘাট কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী, কুলি মজুরদের মাঝেও। তাদের কেউ করেছেন জায়গা বদল, কেউবা বদলেছেন পেশা।
শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) গতবছরের এক জরিপে দেখা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর গত এক বছরে ঢাকার লঞ্চযাত্রী কমেছে ৩৪ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ব্যবসায় মন্দার কারণে মালিকরা এক বছরে অন্তত ২০টি লঞ্চ স্ক্র্যাপ করে ফেলেছেন। এ ছাড়া আরো অন্তত ছয়টি লঞ্চ স্ক্র্যাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

 

লঞ্চ মালিকরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর আগে প্রতি দিন ঢাকা থেকে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ লঞ্চে বরিশালসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় যেত। আর ঈদের সময় যাত্রী অর্ধকোটি মানুষ সদরঘাটে ভিড় করতেন। সেখানে এখন যাত্রী অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। বাধ্য হয়ে তাই রোটেশনে চালানো হচ্ছে লঞ্চ। প্রতিদিন ঢাক থেকে ছেড়ে যায় ২টি করে লঞ্চ। সে হিসাবে পাঁচ দিন পর একটি আপডাউন ট্রিপ পাচ্ছে লঞ্চগুলো। আবার কেউ কেউ ছেড়েছেন লঞ্চ ব্যবসা, আবার কেউ কেউ ছেড়ে দিবেন বলেও ভাবছেন।

 

লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, ব্যবসাতো আর নেই। যাত্রী এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ থেকে উত্তরণের রাস্তাও আমাদের জানা নেই। আমার নিজের ৫টা লঞ্চ ছিল, ৪টা কেটে বিক্রি করেছি।

 

আর সদরঘাটের হকাররা বলছেন, বেচাকেনা কম হওয়ায় টার্মিনাল থেকে অনেক হকার চলে গেছেন। অনেকে অন্য জায়গায় গিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। আগে পন্টুনের দুই পাশে হকারদের সরব অবস্থান থাকত। এখন যারা আছেন তারা কোনোভাবে এক পাশে বসে পণ্য বিক্রি করছেন। আগের সেই জমজমাট অবস্থা এখন আর নেই। একসময় যারা ফল বিক্রি করতেন, তারা ব্যবসা পরিবর্তন করে বাদাম, ঝালমুড়ি ইত্যাদি বিক্রি করছেন। একই ধরনের কথা টার্মিনালের সামনের ব্যবসায়ীদেরও।

 

সদরঘাটে পন্টুনে ডিম বিক্রেতা সাইদুর রহমান বলেন, পদ্মাসেতু হওয়ার আগে দিনে কয়েক হাজার টাকার ডিম বিক্রি করতাম। এখনতো খুব বেশি হলেও চার-পাঁচশ টাকার বেশি হয় না। অল্প টাকায়, ঘর ভাড়া দিয়ে চলা মুশকিল। অনেকেই সদরঘাট ছেড়ে অন্য জায়গায় গেছে ব্যবসা নিয়ে। আবার আমার মতো অনেকেই কষ্ট করছে এখানে।

 

টার্মিনালের সামনে মুদি দোকানদার খাইরুল হাসান বলেন, আগেতো ঈদের সময় ২০-৩০ হাজার টাকাও বিক্রি হয়েছে আর সাধারণ সময় ৪-৫ হাজার টাকা। এখনতো খুব বেশি হলে ১ হাজার টাকা হয়। আশপাশে অনেকে দোকান ছেড়ে দিয়ে গ্রামে গেছে। অনেকে কেরানীগঞ্জে দোকান দিচ্ছে এ অবস্থায়তো ব্যবসা চলে ন। সবারই পরিবার আছে। তারাও কতদিন থাকতে পারবে জানি না, কারণ প্রতিদিনিই লোক কমছে এদিকে।

 

লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের মাসগুলোতে ৫ তারিখের মধ্যে বেতন মিললেও এখন বেতন পেতে ১৫-২০ তারিখ হয়ে যায়। অধিকাংশ লঞ্চের শ্রমিকের ৪-৫ মাসের বেতনও বাকি আছে। শ্রমিকরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যেখানে বেতন বাড়ার কথা, সেখানে এখন নিয়মিত বেতন পাওয়াই দায়। অনেকে লঞ্চ না থাকায় এখন কার্গোতে কম বেতনে চাকরি নিয়েছেন।

 

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য আতিকুল ইসলাম টিটু বলেন ব্যবসা না থাকায় মালিকরাও টাকা দিতে পারছে না। আমরা যে চাপ দিবো সে সুযোগও নেই। বাধ্য হয়েই সবাই কার্গোতে যাচ্ছে কম বেতনে চাকরি করছে। কষ্ট করে সংসার করছে। আমাদের তো স্কিলের কাজ। এর বাইরে কাজ জানা নেই যে, অন্য পেশায় যাব।
আওলাদ লঞ্চের স্টাফ কামাল বলেন, অনেক দিন ধরে একই বেতনে কাজ করছি। আমাদের বেতন বাড়ার কথা ছিল। পদ্মা সেতু হওয়ার পর যাত্রী কমে গেছে। এখন তো আর বেতন বাড়ার সুযোগ নেই। ১০-১২ হাজার টাকায় নিজের খরচ চালিয়ে পরিবারের জন্য টাকা পাঠানো কঠিন। তাও যদি সঠিক সময়ে বেতন পেতাম। এখন বেতন পেতে মাসের ১৫-১৬ তারিখ হয়ে যায়। এছাড়াও আমার ২ মাসের বেতন বাকি। কবে দিবে কে জানে।

 

 

সার্বিক বিষয়ে কথা বলা হলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, বাজার অর্থনীতিতে বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে যদি মান উন্নত না হয়, তাহলে ভোক্তাদের আকর্ষণ থাকবে না। ভোক্তাদের আকর্ষণ করে এমন বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। লঞ্চ অনেক আরমদায়ক একটি যান। তারা সেবার মান বাড়ালে যাত্রী অবশ্যই বাড়বে। শুধু লঞ্চ না সদরঘাটকে তেমন আকর্ষণের জায়গা করা গেলেও এখানে মানুষ আসবে বেশি। তখন একে কেন্দ্র করে যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আছেন তাদের ব্যবসাও চাঙা হবে।