🔴 সবচেয়ে দূষিত শহর রংপুর, দ্বিতীয় অবস্থানে রাজশাহী
🔴 বায়ুর মান উন্নয়নে বেশি পরিমাণে গাছ লাগানোর পরামর্শ
🔴 বায়ুদূষণজনিত রোগ বাড়ার শঙ্কা
দেশের শহরগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে রংপুর শহর, যার বায়ুর মানমাত্রা ১৯০। এরপরেই দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী, যার বায়ুর মান মাত্রা ১৭১। পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালিত ডেইলি এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে এতথ্য জানা গেছে।
অন্যান্য শহরগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ যার বায়ুর মান মাত্রা ১৫৯, চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নরসিংদী যার মাত্রা ১৪৭, পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা, যার মাত্রা ১৪৫, ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লা যার মাত্রা ১৩৯, সপ্তম অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর যার মাত্রা ১৩১, অষ্টম অবস্থানে রয়েছে খুলনা যার মাত্রা ১২৫, নবম অবস্থানে রয়েছে বরিশাল যার মাত্রা ১০১ এবং দশম অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ যার মাত্রা ৮৩। একাদশতম শহর হিসেবে সিলেটের বায়ুর মান মাত্রা ৬১, যা ভাল বায়ুর চেয়ে একটু খারাপ অবস্থা। সূচকে ০-৫০ এর মধ্যে বায়ুর মান থাকলে সেটি স্বাস্থ্যকর। ৫১-১০০ এর মধ্যে থাকলে সেটি মধ্যম মানের। আর ১০১-১৫০ এর মধ্যে হলে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি বা অসুস্থদের জন্য অস্বাস্থ্যকর। আর ১৫১ এর উপর বায়ুর মান থাকলে সেটা সকলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এদিকে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এর তথ্যানুযায়ী, বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২০ শহরের মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার স্থান সপ্তম, যার স্কোর ১৪৪। এটি সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। এসময় বিশে^র দূষিত শহরের তালিকায় ছিল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু, যার স্কোর ২০৬। ভারতের দিল্লি দ্বিতীয় দূষিত শহর, যার অবস্থান ১৯১ এবং তৃতীয় পাকিস্তানের লাহোর, যার স্কোর ১৭০।
আইকিউ এয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুর মান মাত্রার স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা অস্বাস্থ্যকর বায়ু। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা খুবই অস্বাস্থ্যকর বায়ু। ৩০১ এর উপরে বায়ুর মান মাত্রা গেলে সেটিকে বায়ুদূষণের দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজশাহীর জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. চিন্ময় দাস দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, এখানে প্রচুর গাছগাছালি লাগানো প্রয়োজন। গাছ রোপণ করা হচ্ছে কিন্তু সেই গাছের বায়ুদূষণ রোধ করার কতটুকু ক্ষমতা সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। এখন যে উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে শহরের মধ্যে বায়ুদূষণের এটাও একটা অন্যতম কারণ। প্রচুর পরিমাণে উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায়। আশপাশে ইটভাটা আছে। আবার, শহরে জলাশয় একেবারেই কমে গেছে। এটা বায়ুদূষণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে আমি বলব যে, নগরীর যে পরিকল্পনা এ ব্যাপারে এখনই সতর্ক না হলে সামনে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বাড়বে। এটা আমাদের পর্যবেক্ষণ। তিনি বলেন, বায়ুদূষণের কারণে শ^াসযন্ত্রের রোগগুলো বেশি হয়। শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে। তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এখনও হচ্ছে। অ্যাজমা থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। যারা হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত তারা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে আমাদের অবশ্যই বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে মনোযোগ দেয়া দরকার।
পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের পরিচালক ফরহাদ হোসেন দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের বিধিমালা অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট অব্যাহত আছে। সিটি করপোরেশনের ভেতর সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এমনিতে রংপুর শহরকে গাছপালায় ঘেরা একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবেই দেখা হয়, সেক্ষেত্রে বায়ুমান মাত্রায় ঝুঁকির মধ্যে থাকার পেছনে কি বৈশি^ক বায়ুমান মাত্রার নিম্নমানমুখিতা দায়ী এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ঐভাবে বলতে পারব না। কারণ এটার কোন এসেসমেন্ট রিপোর্ট আমাদের কাছে নাই। তবে, আপনি যেটা বলছেন, ট্রান্সবাউন্ডারি একটা ইস্যু আছে। এটা গ্লোবালি একটা ইস্যু। তবে, আপনি যেটা জিজ্ঞেস করলেন, এটার কারণে হচ্ছে ঐ ধরণের কোন স্টাডি আমার কাছে নেই, কোন রিপোর্ট হাতে নেই বা সমীক্ষা নেই।


















