০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল-রেস্তোরাঁয় ভিড়

 

মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ দুপুর বেলায় বাইরে বের হয় না। আমাদের দেশেও প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও সন্ধ্যায় করা যেতে পারে -আইনুন নিশাত, জলাবায়ু বিশেষজ্ঞ

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে তাপপ্রবাহ। রেকর্ড তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস জনজীবন। সূর্যের প্রখরতা এড়াতে সকাল কিংবা সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারেন অনেকে। প্রায় দিন মধ্যদুপুরে রাস্তাঘাট ও বিপণিবিতান ক্রেতাশূন্য থাকে। তবে সন্ধ্যা নামার পর ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সকালের দিকে ঢাকার তাপমাত্রা থাকছে ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা যত বাড়ে, তাপমাত্রাও তত বাড়তে থাকে। সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ অবস্থা চলে। ২টার পর আবার তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। কোনো কোনো দিন ঢাকার তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪৩ ডিগ্রিতে ওঠার রেকর্ডও হয়েছে।
তবে তাপমাত্রা এত বেশি যে, সাধারণত মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বা হচ্ছেন না। এখন বিকালের দিকে তাপমাত্রা কমলে বের হন তারা। যেহেতু সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হচ্ছে, তাই এ সময়ের মধ্যেই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন অনেকে।

গত কয়েক দিন রাজধানীর মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ণ মল্লিকা, মৌচাক, বেইলী রোড, কাকরাইলের কয়েকটি বিপণিবিতান ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাপমাত্রার জন্য দিনের বেশির ভাগ সময় তারা বাইরে বের হতে পারছেন না। এ কারণে তারা ঘরেই থাকছেন। তাপমাত্রা কমলে বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে বের হচ্ছেন।
চলতি তাপপ্রবাহে মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ফলে সন্ধ্যার পর ক্রেতারা কেনাকাটা করতে বের হন। বিশেষ করে নারী ক্রেতারা দিনে সংসারের কাজে সামলিয়ে সন্ধ্যার পর প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারেন। রাজধানীর মৌচাক মার্কেটে সন্ধ্যায় সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন তানিয়া বেগম। সন্ধ্যায় কেন এলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিনের বেলায় তাপমাত্রার কারণে বের হওয়া কঠিন। এ জন্য সন্ধ্যার পর ছাড়া বের হওয়া সম্ভব না।

এদিকে ক্রেতারা ঝুঁকছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমলে। এতে গরমে একটু স্বস্তি মেলে। এছাড়া গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁয় ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গরম থেকে বাঁচতে সন্ধ্যার পর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় করেন কেউ কেউ। যার কারণে দিনের তুলনায় রাতে বেড়েছে বিক্রি। কিছুটা স্বস্তির আশায় রেস্তোরাঁয় ভিড় করছে নগরবাসী। রেস্তোরাঁর শীতল যন্ত্রের নিচে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। এতে সবুজ গাছ কিংবা সন্তানের সঙ্গে খেলার সুযোগ না থাকলেও কিছুটা সস্তি মিলছে গরম থেকে। রেস্টুরেন্টে আসা একজন বলেন, বাইরে প্রচুর গরম। এই কারণে রেস্টুরেন্টে পরিবারকে নিয়ে আসা।
এদিকে সারা দেশে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নূর তাপস ঘোষণা করেছেন, রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখলে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। পাওয়ার সেলের তরফ থেকেও রাত ৮টায় দোকান বন্ধের নির্দেশ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কয়েক দিন ধরেই দিনের বেলায় রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোয় ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। এসব বিপণিবিতানের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই গরমে তাদের বিক্রি কমে গেছে। বিকালের দিকে বিক্রি হলেও দিনের বেশির ভাগ সময়ে তাদের বসেই কাটাতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের আরও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাজের ধরনের পরিবর্তন করা যায় কি না, জানতে চাইলে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, চৈত্র ও বৈশাখে যুগ যুগ ধরে এমন গরম পড়ে আসছে। প্রচণ্ড গরমে সৌদি আরব, কাতার কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ দুপুর বেলায় বাইরে বের হয় না। তারা সকাল বেলায় অফিস করে, দুপুর বেলায় ঘুমায়, আর সন্ধ্যার আগে থেকে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত কাজ করে। আমাদের দেশেও এমন করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণশ্রমিকরা দিনে কাজ না করে রাতে বাতি জ্বালিয়ে কাজ করতে পারেন। প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও সন্ধ্যায় করা যেতে পারে। রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধ হলেও বিকালে রোদ কমলে বের হয়েও তো কেনাকাটা করা সম্ভব। এখন তো কোনো উৎসবের সময় নয়। ফলে গরমকে বিবেচনায় নিয়ে এই সময় শুধু দরকারি কেনাকাটা করা উচিত বলেই আমি মনে করি।

 

গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল-রেস্তোরাঁয় ভিড়

আপডেট সময় : ০২:৩২:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪

 

মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ দুপুর বেলায় বাইরে বের হয় না। আমাদের দেশেও প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও সন্ধ্যায় করা যেতে পারে -আইনুন নিশাত, জলাবায়ু বিশেষজ্ঞ

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে তাপপ্রবাহ। রেকর্ড তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস জনজীবন। সূর্যের প্রখরতা এড়াতে সকাল কিংবা সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারেন অনেকে। প্রায় দিন মধ্যদুপুরে রাস্তাঘাট ও বিপণিবিতান ক্রেতাশূন্য থাকে। তবে সন্ধ্যা নামার পর ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সকালের দিকে ঢাকার তাপমাত্রা থাকছে ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা যত বাড়ে, তাপমাত্রাও তত বাড়তে থাকে। সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ অবস্থা চলে। ২টার পর আবার তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। কোনো কোনো দিন ঢাকার তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪৩ ডিগ্রিতে ওঠার রেকর্ডও হয়েছে।
তবে তাপমাত্রা এত বেশি যে, সাধারণত মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বা হচ্ছেন না। এখন বিকালের দিকে তাপমাত্রা কমলে বের হন তারা। যেহেতু সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হচ্ছে, তাই এ সময়ের মধ্যেই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন অনেকে।

গত কয়েক দিন রাজধানীর মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ণ মল্লিকা, মৌচাক, বেইলী রোড, কাকরাইলের কয়েকটি বিপণিবিতান ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাপমাত্রার জন্য দিনের বেশির ভাগ সময় তারা বাইরে বের হতে পারছেন না। এ কারণে তারা ঘরেই থাকছেন। তাপমাত্রা কমলে বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে বের হচ্ছেন।
চলতি তাপপ্রবাহে মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ফলে সন্ধ্যার পর ক্রেতারা কেনাকাটা করতে বের হন। বিশেষ করে নারী ক্রেতারা দিনে সংসারের কাজে সামলিয়ে সন্ধ্যার পর প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারেন। রাজধানীর মৌচাক মার্কেটে সন্ধ্যায় সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন তানিয়া বেগম। সন্ধ্যায় কেন এলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিনের বেলায় তাপমাত্রার কারণে বের হওয়া কঠিন। এ জন্য সন্ধ্যার পর ছাড়া বের হওয়া সম্ভব না।

এদিকে ক্রেতারা ঝুঁকছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমলে। এতে গরমে একটু স্বস্তি মেলে। এছাড়া গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁয় ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গরম থেকে বাঁচতে সন্ধ্যার পর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় করেন কেউ কেউ। যার কারণে দিনের তুলনায় রাতে বেড়েছে বিক্রি। কিছুটা স্বস্তির আশায় রেস্তোরাঁয় ভিড় করছে নগরবাসী। রেস্তোরাঁর শীতল যন্ত্রের নিচে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। এতে সবুজ গাছ কিংবা সন্তানের সঙ্গে খেলার সুযোগ না থাকলেও কিছুটা সস্তি মিলছে গরম থেকে। রেস্টুরেন্টে আসা একজন বলেন, বাইরে প্রচুর গরম। এই কারণে রেস্টুরেন্টে পরিবারকে নিয়ে আসা।
এদিকে সারা দেশে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নূর তাপস ঘোষণা করেছেন, রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখলে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। পাওয়ার সেলের তরফ থেকেও রাত ৮টায় দোকান বন্ধের নির্দেশ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কয়েক দিন ধরেই দিনের বেলায় রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোয় ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। এসব বিপণিবিতানের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই গরমে তাদের বিক্রি কমে গেছে। বিকালের দিকে বিক্রি হলেও দিনের বেশির ভাগ সময়ে তাদের বসেই কাটাতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের আরও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাজের ধরনের পরিবর্তন করা যায় কি না, জানতে চাইলে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, চৈত্র ও বৈশাখে যুগ যুগ ধরে এমন গরম পড়ে আসছে। প্রচণ্ড গরমে সৌদি আরব, কাতার কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ দুপুর বেলায় বাইরে বের হয় না। তারা সকাল বেলায় অফিস করে, দুপুর বেলায় ঘুমায়, আর সন্ধ্যার আগে থেকে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত কাজ করে। আমাদের দেশেও এমন করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণশ্রমিকরা দিনে কাজ না করে রাতে বাতি জ্বালিয়ে কাজ করতে পারেন। প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও সন্ধ্যায় করা যেতে পারে। রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধ হলেও বিকালে রোদ কমলে বের হয়েও তো কেনাকাটা করা সম্ভব। এখন তো কোনো উৎসবের সময় নয়। ফলে গরমকে বিবেচনায় নিয়ে এই সময় শুধু দরকারি কেনাকাটা করা উচিত বলেই আমি মনে করি।