০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শাহজাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র  চিকিৎসক সংকট,আছে মাত্র দুজন

◉দুই চিকিৎসক দিয়ে  চলছে ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসা

◉প্রতি রাতে থাকে  না চিকিৎসক 

◉করতে হচ্ছে টানা ডিউটি  

◉চিকিৎসক ও নার্সদের উপড় চাপ বাড়ছে

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ১১ চিকিৎসকের মধ্যে ৯ জন চিকিৎসকই নেই। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কাটিল রোগে শহরমুখী হতে হচ্ছে স্বনীয় বাসিন্দাদের।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ও ৬ মেডিকেল কর্মকর্তা নেই এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।  রয়েছে দুজন চিকিৎসক প্রশিক্ষণে। মাত্র দুই চিকিৎসক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার  মানুষের চিকিৎসার  ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দায়িত্বে থাকা দুজন চিকিৎসক প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডিউটি করে। আর প্রতিদিন বিকেল ২টা থেকে সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত থাকছে না ডাক্তার।এতে একদিকে যেমন রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে অপরদিকে হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক নার্সদের উপড়  বাড়তি চাপ হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় দুজন চিকিৎসককে টানা ডিউটি করতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় ইমারজেন্সি বিভাগে প্রতিদিন  একজন করে নার্স ডিউটি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন তিনজন চিকিৎসক । আবার এই ৩ চিকিৎসকের মধ্যে একজন হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, যিনি অফিসিয়াল কাজে সবসময় থাকেন প্রায়। এখন শুধু দুজন চিকিৎসক  এই হাসপাতালের অন্ত: ও বহি: বিভাগে  রোগীদের দেখাশোনা করছেন। গত এক বছরে বিভিন্ন সময়ে এসব ডাক্তার চলে যাওয়ায় এই চিকিৎসক   শুন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
 বুধবার সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, দুটি ওয়ার্ডে দুপুর পর্যন্ত ৪৮ জন রোগী ভর্তি ছিলো ১৮ জন রোগী ছাড়পত্র দেওয়ার পর ৩০ জন রোগী ভর্তি আছে। চিকিৎসা নিতে আসা  রোগীদের  সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এর ফলে মেডিকেল কর্মকর্তা নিয়ে হাসপাতালে আউটডোরে রোগী দেখা বন্ধ হয়ে গেছে তবে আউটডোরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা । বর্তমানে হাসপাতালে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে  সেবা কার্যক্রম চলমান আছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
রোগীরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আলম বলেন, ডাক্তার সংকটের কারণে রোগীদের প্রায়ই অন্য হাসপাতালে রেফার (স্থানান্তর) করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আকার দেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। এছাড়া সব সময় অন কলে আছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোসহ সামনের জেলা উন্নয়ন সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করব।
অপরদিকে, সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন রাম পদ রায় বলেন কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট আছে। চিকিৎসকের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য চিকিৎসক পাব।

শাহজাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র  চিকিৎসক সংকট,আছে মাত্র দুজন

আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪

◉দুই চিকিৎসক দিয়ে  চলছে ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসা

◉প্রতি রাতে থাকে  না চিকিৎসক 

◉করতে হচ্ছে টানা ডিউটি  

◉চিকিৎসক ও নার্সদের উপড় চাপ বাড়ছে

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ১১ চিকিৎসকের মধ্যে ৯ জন চিকিৎসকই নেই। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কাটিল রোগে শহরমুখী হতে হচ্ছে স্বনীয় বাসিন্দাদের।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ও ৬ মেডিকেল কর্মকর্তা নেই এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।  রয়েছে দুজন চিকিৎসক প্রশিক্ষণে। মাত্র দুই চিকিৎসক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার  মানুষের চিকিৎসার  ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দায়িত্বে থাকা দুজন চিকিৎসক প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডিউটি করে। আর প্রতিদিন বিকেল ২টা থেকে সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত থাকছে না ডাক্তার।এতে একদিকে যেমন রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে অপরদিকে হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক নার্সদের উপড়  বাড়তি চাপ হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় দুজন চিকিৎসককে টানা ডিউটি করতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় ইমারজেন্সি বিভাগে প্রতিদিন  একজন করে নার্স ডিউটি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন তিনজন চিকিৎসক । আবার এই ৩ চিকিৎসকের মধ্যে একজন হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, যিনি অফিসিয়াল কাজে সবসময় থাকেন প্রায়। এখন শুধু দুজন চিকিৎসক  এই হাসপাতালের অন্ত: ও বহি: বিভাগে  রোগীদের দেখাশোনা করছেন। গত এক বছরে বিভিন্ন সময়ে এসব ডাক্তার চলে যাওয়ায় এই চিকিৎসক   শুন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
 বুধবার সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, দুটি ওয়ার্ডে দুপুর পর্যন্ত ৪৮ জন রোগী ভর্তি ছিলো ১৮ জন রোগী ছাড়পত্র দেওয়ার পর ৩০ জন রোগী ভর্তি আছে। চিকিৎসা নিতে আসা  রোগীদের  সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এর ফলে মেডিকেল কর্মকর্তা নিয়ে হাসপাতালে আউটডোরে রোগী দেখা বন্ধ হয়ে গেছে তবে আউটডোরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা । বর্তমানে হাসপাতালে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে  সেবা কার্যক্রম চলমান আছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
রোগীরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আলম বলেন, ডাক্তার সংকটের কারণে রোগীদের প্রায়ই অন্য হাসপাতালে রেফার (স্থানান্তর) করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আকার দেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। এছাড়া সব সময় অন কলে আছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোসহ সামনের জেলা উন্নয়ন সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করব।
অপরদিকে, সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন রাম পদ রায় বলেন কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট আছে। চিকিৎসকের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য চিকিৎসক পাব।