০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাফাহ ছেড়েছেন সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, বাস্তুচ্যুত আরো ১ লাখ

⦿ গাজায় নিহতদের ৫৬ শতাংশ নারী ও শিশু : জাতিসংঘ
⦿ ইসরায়েলের সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
⦿ ইসরায়েলকে শত কোটি ডলারের অস্ত্র দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
⦿ রাফাহ ক্রসিং বন্ধের জন্য দায়ী একমাত্র ইসরায়েল : মিসর
⦿ ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা করছে না : বাইডেন প্রশাসন

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় একদিনে আরো ৮২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যা বহু সপ্তাহের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। বর্বর এই আগ্রাসনে নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। দখলদার ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আগেই। এখন বাকি রয়েছে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটির রাফাহ শহর। গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় এই শহরেই এরই মধ্যে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। আর এরই জেরে শহর ছেড়েছেন সাড়ে ৪ লাখ মানুষ। অন্যদিকে উত্তর গাজায় ইসরায়েলের নতুন অভিযানে আরো ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলি সৈন্যরা উত্তর গাজার জেইতুন এবং জাবালিয়া এলাকায় আবারও ফিরে গেছে। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাফাহতে অবস্থানরত জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর মুখপাত্র লুইস ওয়াটারিজ এক্সে লিখেছেন, মানুষ ক্রমাগত ক্লান্তি, ক্ষুধা এবং ভয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। শহরে এখনো যেসব পরিবার অবস্থান করছেন তারা ‘যতদূর সম্ভব আরো পশ্চিমে চলে গেছেন’ এবং তারা এখন ভূমধ্যসাগরের উপকূলের সৈকতে তাঁবু স্থাপন করেছেন। আর শহরের ভেতরের পরিস্থিতি এমন যে, এখন এটি ভূতের শহর।

 

এদিকে ইসরায়েলের একটি সেনা ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। রাজধানী তেল আবিবে অবস্থিত ‘হাসোমের’ নামে একটি ঘাঁটিতে এই ঘটনা ঘটে। ওই ঘাঁটিতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সংরক্ষণ করা হয়, আগুন নেভাতে প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ২৮টি দল কাজ করে। তবে কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত হল সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রাইসিস২৪ নামের অপর এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগুনে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের কারণে সেখানকার স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পূর্ব সতর্কতার অংশ হিসেবে আশপাশের অবকাঠামো থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

 

অন্যদিকে ইসরায়েলকে আরো ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থের অস্ত্র সহায়তা দিতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই অস্ত্র সহায়তার মধ্যে ট্যাংকের গোলাবারুদ, মর্টার এবং কৌশলগত সাঁজোয়া যান-সহ অন্যান্য আরও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। যদিও এই প্যাকেজটি এখনও অনুমোদন করা হয়নি। রাফাতে হামলা চালানো নিয়ে মতবিরোধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অস্ত্রের চালান আটকে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিল, তার সপ্তাহখানেকের মাথায় নতুন এই তথ্য সামনে এলো।
গতকাল সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য জানিয়েছে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইসরায়েলকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অস্ত্র সহায়তার প্যাকেজ নিয়ে সামনে এগিয়ে চলেছে। নতুন এই অস্ত্র সহায়তার মধ্যে ট্যাংকের গোলাবারুদ, মর্টার এবং কৌশলগত সাঁজোয়া যান-সহ অন্যান্য আরো সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন অস্ত্র ইসরায়েলের জন্য এখনো পাইপলাইনে রয়ে গেছে। বোমার একটি চালান বিলম্বিত হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের অন্যদের এই বিষয়ে পর্যালোচনা সত্ত্বেও আক্রমণে এসব অস্ত্রের ব্যবহার ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে অস্ত্রের নতুন এই প্যাকেজের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। মূলত এই সহায়তা প্যাকেজ ইসরায়েলে পাঠানোর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

 

অপরদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের রাফা ক্রসিং বন্ধের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে মিসর। দেশটি বলছে, রাফা ক্রসিং বন্ধের জন্য একমাত্র ইসরায়েল দায়ী। এর আগে গাজার লাইফ লাইন বলে পরিচিত এই ক্রসিং বন্ধের জন্য মিসরকে অভিযুক্ত করেছিল ইসরায়েল। গতকাল বার্তাসংস্থা আনাদোলু’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাফা এলাকায় সামরিক অভিযানের মধ্যে দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় রাফা সীমান্ত ক্রসিং বন্ধে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলকে দায়ী করেছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিরা যে মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, তার জন্য একমাত্র ইসরায়েল দায়ী। এর আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মঙ্গলবার রাফা ক্রসিংয়ের মাধ্যমে গাজায় সাহায্য সরবরাহে বাধা দেওয়ার জন্য মিসরকে দায়ী করেন।

 

এর আগে, গত সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেন, আমরা মনে করি না যে গাজায় এখন যা ঘটছে তা গণহত্যা। আমরা যে বরাবরই এই ধারণা (গণহত্যা) প্রত্যাখ্যান করে এসেছি, তার প্রমাণ আছে। নিরীহ সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং মঙ্গলের জন্য ইসরায়েলের আরো কিছু করার আছে। আর তা তাদের করাও উচিত। সুলিভানের এই মন্তব্যের এক দিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেছিলেন। ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, তিনি ওই প্রাথমিক প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত, যেখানে বলা হয়েছিল, ‘এটা মূল্যায়ন করা যুক্তিসংগত’ যে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে হামাস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েল যেভাবে হামাসকে নির্মূল করতে অভিযান শুরু করেছে, তাতে সমর্থন জোগানোর জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার দলের ভেতরেই সমালোচিত হচ্ছেন। গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজায় ইহুদিদের ওপর হামলা চালায় হামাস। সেখানে ১১শ’র বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত হন। বাইডেনের সমালোচকেরা তাকে ‘জেনোসাইড বলে আখ্যায়িত করছেন।

ফের পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেল নারানগিরি বাঁশের সাঁকো: দূর্ভোগে শত শত গ্রামবাসী

রাফাহ ছেড়েছেন সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, বাস্তুচ্যুত আরো ১ লাখ

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

⦿ গাজায় নিহতদের ৫৬ শতাংশ নারী ও শিশু : জাতিসংঘ
⦿ ইসরায়েলের সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
⦿ ইসরায়েলকে শত কোটি ডলারের অস্ত্র দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
⦿ রাফাহ ক্রসিং বন্ধের জন্য দায়ী একমাত্র ইসরায়েল : মিসর
⦿ ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা করছে না : বাইডেন প্রশাসন

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় একদিনে আরো ৮২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যা বহু সপ্তাহের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। বর্বর এই আগ্রাসনে নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। দখলদার ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আগেই। এখন বাকি রয়েছে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটির রাফাহ শহর। গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় এই শহরেই এরই মধ্যে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। আর এরই জেরে শহর ছেড়েছেন সাড়ে ৪ লাখ মানুষ। অন্যদিকে উত্তর গাজায় ইসরায়েলের নতুন অভিযানে আরো ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলি সৈন্যরা উত্তর গাজার জেইতুন এবং জাবালিয়া এলাকায় আবারও ফিরে গেছে। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাফাহতে অবস্থানরত জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর মুখপাত্র লুইস ওয়াটারিজ এক্সে লিখেছেন, মানুষ ক্রমাগত ক্লান্তি, ক্ষুধা এবং ভয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। শহরে এখনো যেসব পরিবার অবস্থান করছেন তারা ‘যতদূর সম্ভব আরো পশ্চিমে চলে গেছেন’ এবং তারা এখন ভূমধ্যসাগরের উপকূলের সৈকতে তাঁবু স্থাপন করেছেন। আর শহরের ভেতরের পরিস্থিতি এমন যে, এখন এটি ভূতের শহর।

 

এদিকে ইসরায়েলের একটি সেনা ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। রাজধানী তেল আবিবে অবস্থিত ‘হাসোমের’ নামে একটি ঘাঁটিতে এই ঘটনা ঘটে। ওই ঘাঁটিতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সংরক্ষণ করা হয়, আগুন নেভাতে প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ২৮টি দল কাজ করে। তবে কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত হল সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রাইসিস২৪ নামের অপর এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগুনে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের কারণে সেখানকার স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পূর্ব সতর্কতার অংশ হিসেবে আশপাশের অবকাঠামো থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

 

অন্যদিকে ইসরায়েলকে আরো ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থের অস্ত্র সহায়তা দিতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই অস্ত্র সহায়তার মধ্যে ট্যাংকের গোলাবারুদ, মর্টার এবং কৌশলগত সাঁজোয়া যান-সহ অন্যান্য আরও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। যদিও এই প্যাকেজটি এখনও অনুমোদন করা হয়নি। রাফাতে হামলা চালানো নিয়ে মতবিরোধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অস্ত্রের চালান আটকে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিল, তার সপ্তাহখানেকের মাথায় নতুন এই তথ্য সামনে এলো।
গতকাল সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য জানিয়েছে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইসরায়েলকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অস্ত্র সহায়তার প্যাকেজ নিয়ে সামনে এগিয়ে চলেছে। নতুন এই অস্ত্র সহায়তার মধ্যে ট্যাংকের গোলাবারুদ, মর্টার এবং কৌশলগত সাঁজোয়া যান-সহ অন্যান্য আরো সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন অস্ত্র ইসরায়েলের জন্য এখনো পাইপলাইনে রয়ে গেছে। বোমার একটি চালান বিলম্বিত হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের অন্যদের এই বিষয়ে পর্যালোচনা সত্ত্বেও আক্রমণে এসব অস্ত্রের ব্যবহার ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে অস্ত্রের নতুন এই প্যাকেজের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। মূলত এই সহায়তা প্যাকেজ ইসরায়েলে পাঠানোর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

 

অপরদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের রাফা ক্রসিং বন্ধের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে মিসর। দেশটি বলছে, রাফা ক্রসিং বন্ধের জন্য একমাত্র ইসরায়েল দায়ী। এর আগে গাজার লাইফ লাইন বলে পরিচিত এই ক্রসিং বন্ধের জন্য মিসরকে অভিযুক্ত করেছিল ইসরায়েল। গতকাল বার্তাসংস্থা আনাদোলু’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাফা এলাকায় সামরিক অভিযানের মধ্যে দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় রাফা সীমান্ত ক্রসিং বন্ধে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলকে দায়ী করেছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিরা যে মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, তার জন্য একমাত্র ইসরায়েল দায়ী। এর আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মঙ্গলবার রাফা ক্রসিংয়ের মাধ্যমে গাজায় সাহায্য সরবরাহে বাধা দেওয়ার জন্য মিসরকে দায়ী করেন।

 

এর আগে, গত সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেন, আমরা মনে করি না যে গাজায় এখন যা ঘটছে তা গণহত্যা। আমরা যে বরাবরই এই ধারণা (গণহত্যা) প্রত্যাখ্যান করে এসেছি, তার প্রমাণ আছে। নিরীহ সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং মঙ্গলের জন্য ইসরায়েলের আরো কিছু করার আছে। আর তা তাদের করাও উচিত। সুলিভানের এই মন্তব্যের এক দিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেছিলেন। ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, তিনি ওই প্রাথমিক প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত, যেখানে বলা হয়েছিল, ‘এটা মূল্যায়ন করা যুক্তিসংগত’ যে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে হামাস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েল যেভাবে হামাসকে নির্মূল করতে অভিযান শুরু করেছে, তাতে সমর্থন জোগানোর জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার দলের ভেতরেই সমালোচিত হচ্ছেন। গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজায় ইহুদিদের ওপর হামলা চালায় হামাস। সেখানে ১১শ’র বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত হন। বাইডেনের সমালোচকেরা তাকে ‘জেনোসাইড বলে আখ্যায়িত করছেন।