০৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদারগঞ্জে ভোটার সমাগম প্রচুর, প্রার্থীরা বলছেন ৮০ শতাংশ ভোট পড়বে

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তৃতীয় ধাপের  নির্বাচনে ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে সকাল ৮ টা থেকে। এ উপজেলাটি নির্বাচনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। এই উপজেলাতেই বাড়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি’র। মাদারগঞ্জ এবং মেলান্দহ এই দুই উপজেলা নিয়ে জামালপুর-৩ আসন। এই আসন থেকেই তিনি ৯১ সাল থেকে পরপর সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জানা যায়, ইতিপূর্বে মির্জা আজম এপি’র উপস্থিতিতে মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বর্তমান চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমানকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার অভিযোগ রয়েছে। ১ম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পূর্বে ৫ প্রার্থী একত্র হয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে ভয়-ভীতির অভিযোগ তুলে জেলা শহরে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

এছাড়া নির্বাচনে প্রতীক পাওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে কেন্দ্র ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

এবার মাদারগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিয়ে উপজেলা পরিষদ। ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৫৬১ জন। নারী ভোটার – মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৮ হাজার ৫২০ ও তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন। ৬৩টি ভোট কেন্দ্রের ৫৭৬টি  বুথে ইভিএম এ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সরজমিনে দেখা যায়, মাদারগঞ্জে বালিজুরি রওশন আরা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল থেকেই প্রচুর ভোটারের সমাগম। সকাল ৮টায় এই কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে।

ভোটার ইসহাক আলী জানান, গত ১৭ বছর পরে মনে হচ্ছে ভোট দিতে পারবো। এতদিন ভোট কেন্দ্রে এসেছি কিন্তু ভোট না দিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। সকালেই কেন্দ্রে এসেছি, পরিবেশ বুজতেছি। মনে হচ্ছে ভোট দিতে পারবো। প্রচুর ভোটার এসেছে। কোন সমস্যা দেখতেছি না।

একজন ভোটার নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, জাতীয় সংসদ এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা কমে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের উপজেলায় আশা রাখি নির্বাচনে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে। বেলা বাড়ছে ভোটার সংখ্যা বাড়ছে। এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে মনে হচ্ছে।

ফাজিলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর ভোটারের সমাগম এবং লম্বা লাইন কিন্তু ইভিএমে ভোট গ্রহন খুব ধীরগতি।

এবিষয়ে প্রিজাইডিল অফিসার আবু বকর সিদ্দিক জানান, ভোটারা ইভিএমে কিভাবে ভোট দিতে হয় একদম বুঝে না। অনেকক্ষণ ধরে বুঝিয়ে দিতে হয় এ কারনে ধীরগতি। এছাড়া মহিলা ভোটারা বাটন টিপতে ভয় পাচ্ছে। অনেকক্ষণ সময় নিয়ে ভোটারদের বুঝাতে হয়।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফুটবল প্রতীকের পোলিং এজেন্ট জানান, ভোট গ্রহণ ধীরগতি হলেও যারা ভোট দিয়ে যাচ্ছে তারা বাড়ীতে গিয়ে বলতেছে কিভাবে ভোট দিতে হয়। আশা রাখি এই ধীরগতি কমে যাবে এবং দিনশেষে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে।

এত ভোটার কেন্দ্রে আসার কারন হিসেবে কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টরা বলেন, আমরা প্রত্যেক প্রার্থীর পক্ষ থেকে বাড়ী বাড়ী গিয়ে বুঝিয়ে এসেছি যেন ভোটারা কেন্দ্রে যায়। ভোটারা প্রার্থীদের কথা রেখেছে এবং তারা কেন্দ্রে আসতেছে।

সাধারন ভোটারা বলেন, মনে হচ্ছে আমরা ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। এই উপজেলায় নির্বাচন ছয়জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে হচ্ছে না। এখানে নির্বাচন হচ্ছে মির্জা আজম (দোয়াত-কলম প্রতীকের ওবায়দুর রহমান বেলাল) বনাম কাপ-পিরিচের রিমু এবং হেলিকপ্টারের প্রার্থী জয়নাল আবেদিন আয়নার সাথে। প্রার্থীরাই ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসতেছে। এখানে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কেউ কারোর থেকে কোন অংশে কম না।

এবিষয়ে প্রার্থীরা বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচারণারের সময় প্রত্যেক ভোটারের কাছে পৌছানোর চেষ্টা করেছি। সবাইকে বুঝিয়ে বলেছি আমাকে ভাল লাগলে ভোট দিয়েন, না লাগলে অন্যজনকে ভোট দিয়েন কোন সমস্যা নাই কিন্তু আপনারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। ভোটারা আমাদের কথা রাখছে এবং উৎসবমূখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। আশা করি দিনশেষে ৭০ থেকে ৮০ ভোট পড়বে আমাদের উপজেলায়।

এছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার ৮ থেকে ১০টি কেন্দ্রে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর ভোটারে সমাগম এবং কেন্দ্রগুলি ঘিরে রেখেছে হাজারো জনতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসির ওয়েবসাইট জটিলতা : জামালপুরে-৪ আসনে সিপিবি’র প্রার্থীতা বৈধ

মাদারগঞ্জে ভোটার সমাগম প্রচুর, প্রার্থীরা বলছেন ৮০ শতাংশ ভোট পড়বে

আপডেট সময় : ০১:০১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তৃতীয় ধাপের  নির্বাচনে ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে সকাল ৮ টা থেকে। এ উপজেলাটি নির্বাচনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। এই উপজেলাতেই বাড়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি’র। মাদারগঞ্জ এবং মেলান্দহ এই দুই উপজেলা নিয়ে জামালপুর-৩ আসন। এই আসন থেকেই তিনি ৯১ সাল থেকে পরপর সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জানা যায়, ইতিপূর্বে মির্জা আজম এপি’র উপস্থিতিতে মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বর্তমান চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমানকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার অভিযোগ রয়েছে। ১ম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পূর্বে ৫ প্রার্থী একত্র হয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে ভয়-ভীতির অভিযোগ তুলে জেলা শহরে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

এছাড়া নির্বাচনে প্রতীক পাওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে কেন্দ্র ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

এবার মাদারগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিয়ে উপজেলা পরিষদ। ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৫৬১ জন। নারী ভোটার – মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৮ হাজার ৫২০ ও তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন। ৬৩টি ভোট কেন্দ্রের ৫৭৬টি  বুথে ইভিএম এ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সরজমিনে দেখা যায়, মাদারগঞ্জে বালিজুরি রওশন আরা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল থেকেই প্রচুর ভোটারের সমাগম। সকাল ৮টায় এই কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে।

ভোটার ইসহাক আলী জানান, গত ১৭ বছর পরে মনে হচ্ছে ভোট দিতে পারবো। এতদিন ভোট কেন্দ্রে এসেছি কিন্তু ভোট না দিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। সকালেই কেন্দ্রে এসেছি, পরিবেশ বুজতেছি। মনে হচ্ছে ভোট দিতে পারবো। প্রচুর ভোটার এসেছে। কোন সমস্যা দেখতেছি না।

একজন ভোটার নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, জাতীয় সংসদ এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা কমে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের উপজেলায় আশা রাখি নির্বাচনে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে। বেলা বাড়ছে ভোটার সংখ্যা বাড়ছে। এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে মনে হচ্ছে।

ফাজিলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর ভোটারের সমাগম এবং লম্বা লাইন কিন্তু ইভিএমে ভোট গ্রহন খুব ধীরগতি।

এবিষয়ে প্রিজাইডিল অফিসার আবু বকর সিদ্দিক জানান, ভোটারা ইভিএমে কিভাবে ভোট দিতে হয় একদম বুঝে না। অনেকক্ষণ ধরে বুঝিয়ে দিতে হয় এ কারনে ধীরগতি। এছাড়া মহিলা ভোটারা বাটন টিপতে ভয় পাচ্ছে। অনেকক্ষণ সময় নিয়ে ভোটারদের বুঝাতে হয়।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফুটবল প্রতীকের পোলিং এজেন্ট জানান, ভোট গ্রহণ ধীরগতি হলেও যারা ভোট দিয়ে যাচ্ছে তারা বাড়ীতে গিয়ে বলতেছে কিভাবে ভোট দিতে হয়। আশা রাখি এই ধীরগতি কমে যাবে এবং দিনশেষে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে।

এত ভোটার কেন্দ্রে আসার কারন হিসেবে কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টরা বলেন, আমরা প্রত্যেক প্রার্থীর পক্ষ থেকে বাড়ী বাড়ী গিয়ে বুঝিয়ে এসেছি যেন ভোটারা কেন্দ্রে যায়। ভোটারা প্রার্থীদের কথা রেখেছে এবং তারা কেন্দ্রে আসতেছে।

সাধারন ভোটারা বলেন, মনে হচ্ছে আমরা ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। এই উপজেলায় নির্বাচন ছয়জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে হচ্ছে না। এখানে নির্বাচন হচ্ছে মির্জা আজম (দোয়াত-কলম প্রতীকের ওবায়দুর রহমান বেলাল) বনাম কাপ-পিরিচের রিমু এবং হেলিকপ্টারের প্রার্থী জয়নাল আবেদিন আয়নার সাথে। প্রার্থীরাই ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসতেছে। এখানে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কেউ কারোর থেকে কোন অংশে কম না।

এবিষয়ে প্রার্থীরা বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচারণারের সময় প্রত্যেক ভোটারের কাছে পৌছানোর চেষ্টা করেছি। সবাইকে বুঝিয়ে বলেছি আমাকে ভাল লাগলে ভোট দিয়েন, না লাগলে অন্যজনকে ভোট দিয়েন কোন সমস্যা নাই কিন্তু আপনারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। ভোটারা আমাদের কথা রাখছে এবং উৎসবমূখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। আশা করি দিনশেষে ৭০ থেকে ৮০ ভোট পড়বে আমাদের উপজেলায়।

এছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার ৮ থেকে ১০টি কেন্দ্রে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর ভোটারে সমাগম এবং কেন্দ্রগুলি ঘিরে রেখেছে হাজারো জনতা।