০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পারমাণবিক অস্ত্র মহড়ার দ্বিতীয় ধাপ শুরু রাশিয়ার

➤ককেশাসে রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত
➤রাশিয়া জিতলে স্বর্ণের খনি হারাবে পশ্চিমারা : মার্কিন সিনেটর
➤রাশিয়ান পদার্থবিদদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ‘বাধা’
➤উত্তর কোরিয়া-ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন পুতিন
➤ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত

বেলারুশিয়ান সেনাদের সঙ্গে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মহড়ার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছে রাশিয়া। এই ধাপে অস্ত্র মোতায়েনের অনুশীলন করবে উভয় দেশের সেনারা। পশ্চিমা শক্তির কাছ থেকে পাওয়া হুমকির মুখে এই মহড়া শুরু করেছে দেশ দুটি। গতকাল রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা ইউক্রেনকে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র দিয়ে বিশ্বকে পারমাণবিক সংঘর্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। পশ্চিমা সরবরাহকৃত এই অস্ত্রের মধ্যে কিছু কিছু রুশ ভূখণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। মহড়ার প্রথম পর্যায়ে রুশ সেনারা ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রকে কীভাবে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ও মোতায়েন করতে হয় সে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, গতকাল মঙ্গলবার ঘোষিত মহড়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে রুশ ও বেলারুশিয়ান ইউনিটের যৌথ প্রশিক্ষণে ‘যুদ্ধে অ-কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার’ অনুশীলন করা হবে। এই মহড়ার লক্ষ্য, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে যুদ্ধে রাশিয়া ও বেলারুশের অ-কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য ইউনিটের কর্মী ও সরঞ্জামগুলোকে সদা প্রস্তুত রাখা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ফুটেজে, একটি ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মোতায়েন করতে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। এছাড়া, ভিডিওটিতে কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী মিগ-৩১ সুপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এবং টুপোলেভ টিইউ-২২এমবি দূরপাল্লার সুপারসনিক বোমারু বিমানগুলোও দেখানো হয়েছে।

 

ককেশাসে রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত
রাশিয়ার অত্যাধুনিক এক বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানটির ক্রু নিহত হয়েছেন। অবশ্য বিমানটির আরোহী কতজন ছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি। অত্যাধুনিক সুখোই এসইউ-৩৪ ফাইটার জেট সোভিয়েত আমলের উৎপত্তিগত রাশিয়ান অল-ওয়েদার সুপারসনিক মিডিয়াম-রেঞ্জ ফাইটার-বোমারু বিমান। গতকাল বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় ককেশাস পর্বতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। রাশিয়ান এসইউ-৩৪ বোমারু বিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে ককেশাস পর্বতে বিধ্বস্ত হয়েছে। এর ক্রুর মৃত্যু হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, নর্থ ওসেটিয়া-আলানিয়া প্রজাতন্ত্রে পাহাড়ি এলাকায় রাশিয়ান অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি এসইউ-৩৪ বিমান নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় বিধ্বস্ত হয়। ফলে বিধ্বস্তস্থলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ক্রু নিহত হয়েছেন। অবশ্য বিমানটিতে কতজন ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

 

রাশিয়া জিতলে স্বর্ণের খনি হারাবে পশ্চিমারা : মার্কিন সিনেটর
ইউক্রেন যুদ্ধে ওয়াশিংটন কোনোভাবেই রাশিয়াকে বিজয়ী দেখতে পারে না। কারণ এটি হলে বিশাল পরিমাণ খনিজ সম্পদ সরাসরি আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। গত রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম দাবি করেন, পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে পুরোনো রুশ সাম্রাজ্যকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় মেতেছেন। কারণ ইউক্রেনে রয়েছে ১০ থেকে ১২ ট্রিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। এর যথাযথ ব্যবহারে ইউক্রেনে ইউরোপের সবচেয়ে ধনী দেশ হতে পারে! এখন আমরা যদি ইউক্রেনকে সাহায্য করি, তাহলে তারা আমাদের সেরা ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।

গ্রাহামের মন্তব্যের এক দিন আগে হির টিভির সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান বলেন, পশ্চিমারা চায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে কিয়েভ জিতুক। ফলে পশ্চিমারা ইউক্রেনের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কারণ তারা (পশ্চিমারা) কিয়েভকে বিপুল আয়ের উৎস হিসেবে দেখছেন। পশ্চিমাদের নানাবিদ সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপেরে কারণেই ইউক্রেন যুদ্ধ এত দিন ধরে চলছে।

 

রাশিয়ান পদার্থবিদদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ‘বাধা’ :
রুশ বিজ্ঞানীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন। অথচ তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা কার্যত আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। নয় হাজারের মতো রুশ বিজ্ঞানী এক খোলা চিঠির মাধ্যমে এ হামলার নিন্দা জানান। পুতিনের সরকার স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টাকে ভালোভাবে নেয়নি। ফলে শুরু হয় গ্রেপ্তার, নির্যাতন নিপীড়ন, নির্যাতন সবচেয়ে বেশি নেমে আসে পদার্থবিদদের ওপর। তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয় দেশদ্রোহিতার অভিযোগে। তখন রুশ বিজ্ঞানীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের সহজে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করে হোয়াইট হাউস। কিন্তু সেই উদ্যোগ বিশেষ কোনো সাফল্য পায়নি।

রাশিয়ার ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইট ফোরাম ভিনসোকোগো জানায়, কিছুদিন আগেও রুশ সামরিক বাহিনীর কর্মীদের ভিসা দিতো অ্যামেরিকা। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনের রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার অনেক বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট আবেদনের অন্তত ৪০ শতাংশ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অথচ ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরু আগে মোট প্রত্যাখ্যাত আবেদন ১৫ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করতো।

 

উত্তর কোরিয়া-ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন পুতিন
আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন দুই এশীয় দেশ উত্তর কোরিয়া ও ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। সব ঠিক থাকলে সামনের সপ্তাহেই হতে পারে এই সফর। রুশ দৈনিক ভেদোমোস্তিকে উত্তর কোরিয়ায় নিযুক্ত রুশ রাষ্টদূত বলেছেন, প্রথমে উত্তর কোরিয়া সফরে আসবেন পুতিন, তারপর সেখান থেকেই রওনা দেবেন ভিয়েতনামে। পুতিনকে স্বাগত জানাতে পিয়ংইয়ং জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভিয়েতনামের এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, পুতিন যে হ্যানয় সফরে আসছেন তা নিশ্চিত এবং এই সফরে ভিয়েতনামের জ্বালানি, শিক্ষা, দুই দেশের বাণিজ্যে নিজ নিজ মুদ্রার ব্যবহার ও সামরিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাচুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত
ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার নতুন সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা আরআইএ। গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, ইরানের অংশীদারদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার বিষয়ে একটি নতুন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। সম্প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান-রাশিয়ার সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে নিরাপত্তা খাতে সম্পর্ক জোরদার করতেই রাশিয়ার সাথে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারকে সই করে ইরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি আকবার আহমাদিয়ান ও তার রাশিয়ার কাউন্টারপার্ট নিকোলাই পাত্রুশেভ এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এই চুক্তির আওতায় তেহরান ও মস্কো নিরাপত্তা ইস্যুতে অনেক কৌশলগত বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতার কথা ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

পারমাণবিক অস্ত্র মহড়ার দ্বিতীয় ধাপ শুরু রাশিয়ার

আপডেট সময় : ০৮:২০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

➤ককেশাসে রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত
➤রাশিয়া জিতলে স্বর্ণের খনি হারাবে পশ্চিমারা : মার্কিন সিনেটর
➤রাশিয়ান পদার্থবিদদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ‘বাধা’
➤উত্তর কোরিয়া-ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন পুতিন
➤ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত

বেলারুশিয়ান সেনাদের সঙ্গে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মহড়ার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছে রাশিয়া। এই ধাপে অস্ত্র মোতায়েনের অনুশীলন করবে উভয় দেশের সেনারা। পশ্চিমা শক্তির কাছ থেকে পাওয়া হুমকির মুখে এই মহড়া শুরু করেছে দেশ দুটি। গতকাল রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা ইউক্রেনকে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র দিয়ে বিশ্বকে পারমাণবিক সংঘর্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। পশ্চিমা সরবরাহকৃত এই অস্ত্রের মধ্যে কিছু কিছু রুশ ভূখণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। মহড়ার প্রথম পর্যায়ে রুশ সেনারা ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রকে কীভাবে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ও মোতায়েন করতে হয় সে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, গতকাল মঙ্গলবার ঘোষিত মহড়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে রুশ ও বেলারুশিয়ান ইউনিটের যৌথ প্রশিক্ষণে ‘যুদ্ধে অ-কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার’ অনুশীলন করা হবে। এই মহড়ার লক্ষ্য, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে যুদ্ধে রাশিয়া ও বেলারুশের অ-কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য ইউনিটের কর্মী ও সরঞ্জামগুলোকে সদা প্রস্তুত রাখা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ফুটেজে, একটি ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মোতায়েন করতে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। এছাড়া, ভিডিওটিতে কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী মিগ-৩১ সুপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এবং টুপোলেভ টিইউ-২২এমবি দূরপাল্লার সুপারসনিক বোমারু বিমানগুলোও দেখানো হয়েছে।

 

ককেশাসে রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত
রাশিয়ার অত্যাধুনিক এক বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানটির ক্রু নিহত হয়েছেন। অবশ্য বিমানটির আরোহী কতজন ছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি। অত্যাধুনিক সুখোই এসইউ-৩৪ ফাইটার জেট সোভিয়েত আমলের উৎপত্তিগত রাশিয়ান অল-ওয়েদার সুপারসনিক মিডিয়াম-রেঞ্জ ফাইটার-বোমারু বিমান। গতকাল বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় ককেশাস পর্বতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। রাশিয়ান এসইউ-৩৪ বোমারু বিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে ককেশাস পর্বতে বিধ্বস্ত হয়েছে। এর ক্রুর মৃত্যু হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, নর্থ ওসেটিয়া-আলানিয়া প্রজাতন্ত্রে পাহাড়ি এলাকায় রাশিয়ান অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি এসইউ-৩৪ বিমান নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় বিধ্বস্ত হয়। ফলে বিধ্বস্তস্থলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ক্রু নিহত হয়েছেন। অবশ্য বিমানটিতে কতজন ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

 

রাশিয়া জিতলে স্বর্ণের খনি হারাবে পশ্চিমারা : মার্কিন সিনেটর
ইউক্রেন যুদ্ধে ওয়াশিংটন কোনোভাবেই রাশিয়াকে বিজয়ী দেখতে পারে না। কারণ এটি হলে বিশাল পরিমাণ খনিজ সম্পদ সরাসরি আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। গত রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম দাবি করেন, পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে পুরোনো রুশ সাম্রাজ্যকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় মেতেছেন। কারণ ইউক্রেনে রয়েছে ১০ থেকে ১২ ট্রিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। এর যথাযথ ব্যবহারে ইউক্রেনে ইউরোপের সবচেয়ে ধনী দেশ হতে পারে! এখন আমরা যদি ইউক্রেনকে সাহায্য করি, তাহলে তারা আমাদের সেরা ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।

গ্রাহামের মন্তব্যের এক দিন আগে হির টিভির সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান বলেন, পশ্চিমারা চায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে কিয়েভ জিতুক। ফলে পশ্চিমারা ইউক্রেনের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কারণ তারা (পশ্চিমারা) কিয়েভকে বিপুল আয়ের উৎস হিসেবে দেখছেন। পশ্চিমাদের নানাবিদ সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপেরে কারণেই ইউক্রেন যুদ্ধ এত দিন ধরে চলছে।

 

রাশিয়ান পদার্থবিদদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ‘বাধা’ :
রুশ বিজ্ঞানীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন। অথচ তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা কার্যত আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। নয় হাজারের মতো রুশ বিজ্ঞানী এক খোলা চিঠির মাধ্যমে এ হামলার নিন্দা জানান। পুতিনের সরকার স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টাকে ভালোভাবে নেয়নি। ফলে শুরু হয় গ্রেপ্তার, নির্যাতন নিপীড়ন, নির্যাতন সবচেয়ে বেশি নেমে আসে পদার্থবিদদের ওপর। তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয় দেশদ্রোহিতার অভিযোগে। তখন রুশ বিজ্ঞানীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের সহজে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করে হোয়াইট হাউস। কিন্তু সেই উদ্যোগ বিশেষ কোনো সাফল্য পায়নি।

রাশিয়ার ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইট ফোরাম ভিনসোকোগো জানায়, কিছুদিন আগেও রুশ সামরিক বাহিনীর কর্মীদের ভিসা দিতো অ্যামেরিকা। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনের রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার অনেক বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট আবেদনের অন্তত ৪০ শতাংশ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অথচ ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরু আগে মোট প্রত্যাখ্যাত আবেদন ১৫ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করতো।

 

উত্তর কোরিয়া-ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন পুতিন
আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন দুই এশীয় দেশ উত্তর কোরিয়া ও ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। সব ঠিক থাকলে সামনের সপ্তাহেই হতে পারে এই সফর। রুশ দৈনিক ভেদোমোস্তিকে উত্তর কোরিয়ায় নিযুক্ত রুশ রাষ্টদূত বলেছেন, প্রথমে উত্তর কোরিয়া সফরে আসবেন পুতিন, তারপর সেখান থেকেই রওনা দেবেন ভিয়েতনামে। পুতিনকে স্বাগত জানাতে পিয়ংইয়ং জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভিয়েতনামের এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, পুতিন যে হ্যানয় সফরে আসছেন তা নিশ্চিত এবং এই সফরে ভিয়েতনামের জ্বালানি, শিক্ষা, দুই দেশের বাণিজ্যে নিজ নিজ মুদ্রার ব্যবহার ও সামরিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাচুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত
ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার নতুন সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা আরআইএ। গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, ইরানের অংশীদারদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার বিষয়ে একটি নতুন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। সম্প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান-রাশিয়ার সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে নিরাপত্তা খাতে সম্পর্ক জোরদার করতেই রাশিয়ার সাথে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারকে সই করে ইরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি আকবার আহমাদিয়ান ও তার রাশিয়ার কাউন্টারপার্ট নিকোলাই পাত্রুশেভ এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এই চুক্তির আওতায় তেহরান ও মস্কো নিরাপত্তা ইস্যুতে অনেক কৌশলগত বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতার কথা ছিল।