◉ চারদিনে প্রায় ২ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ
◉ যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় রোমে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ইসরায়েল
দখলদার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার জন্য নতুন আদেশ জারি করেছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের বাসিন্দাদের জন্য এটি কার্যকর হবে। পাঁচ ইসরায়েলির মৃতদেহ উদ্ধার এবং নতুন অভিযানের সতর্কবার্তা দেওয়ার পর এ আদেশ জারি করল তারা। অন্যদিকে জাতিসংঘ বলেছে, গত সোমবার সামরিক বাহিনী খান ইউনিসে অভিযান শুরুর পর থেকে ভয়াবহ লড়াইয়ে ওই এলাকা থেকে এরই মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি পালিয়ে গেছে। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার আদেশ ও ‘তীব্র শত্রুতা’ ত্রাণ কার্যক্রমকে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে অস্থিতিশীল’ করে তুলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ’।
এর আগে হামাসশাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইসরায়েল সতর্ক করার পর তাদের বাহিনী খান ইউনিস অঞ্চলে ‘জোরপূর্বক অভিযান’ চালাবে। এর মধ্যে নিরাপদ মানবিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা এলাকাও রয়েছে। খান ইউনিসে ইসরায়েলি অভিযানে এরই মধ্যে ৭০ জন নিহত ও দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। সামরিক বাহিনী সেই সময় বলেছিল, তারা ওই এলাকা থেকে ইসরায়েলের দিকে আসা রকেট নিক্ষেপ বন্ধ করতে কাজ করবে, যেখানে বছরের শুরুতে প্রচণ্ড লড়াই হয়েছিল। পরে বুধবার সামরিক বাহিনী জানায়, তারা খান ইউনিসে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচ ইসরায়েলির মরদেহ উদ্ধার করেছে। ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধাদের ইসরায়েলে হামলার সময় তারা নিহত হয়েছিলেন। ওই সময় তাদের লাশ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপরই শনিবার সামরিক বাহিনী খান ইউনিসের অন্যান্য অংশের বাসিন্দাদের ‘আল-মাওয়াসির সাময়িক মানবিক এলাকায় সাময়িকভাবে সরে যেতে’ নির্দেশ দেয়। এক সপ্তাহের মধ্যে নিরাপদ অঞ্চলে এ ধরনের দ্বিতীয় পরিবর্তন এটি। এদিকে শহরের নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় গভর্নরেটের বিভিন্ন অংশ থেকে অন্তত ১৬টি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বোমা হামলা থেকে বাঁচতে মাত্র চারদিনে গাজা উপত্যকার খান ইউনিস শহরে প্রায় দুই লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া আরও হাজার হাজার মানুষ পূর্ব খান ইউনিসে আটকা পড়েছেন। গত শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ বলেছে, সম্প্রতি খান ইউনিস এলাকায় লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গাজায় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে। সোমবার ও বৃহস্পতিবারের মাঝে মধ্য ও পূর্ব খান ইউনিস থেকে এক লাখ ৮২ হাজারের মতো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে হামাসের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য ইতালির রাজধানী রোমে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। শুক্রবার ফ্লোরিডা রাজ্যের মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে নেতানিয়াহু এ তথ্য জানান। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেন ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী। বাইডেন প্রশাসন জানিয়েছে, গাজায় য্দ্ধু বন্ধ নিয়ে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সেটি সমাধানের চেষ্টা করছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বলেছেন, গাজায় বেসামরিক মানুষের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে তিনি চুপ থাকবেন না। এই সংকট সমাধানে তিনি উভয় পক্ষকে একটি অবস্থানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

























