◉ দেশের বর্তমান সময়কে পর্যটক সহায়ক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
◉ পর্যটন এলাকা ঘিরে নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান
◉ পর্যটন শিল্পের বিকালে ট্যুরিস্ট পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে : আইজিপি
➥ দেশের তরুণ প্রজন্মসহ পর্যটন শিল্পের নিবিড় এবং টেকসই উন্নয়নে ‘পর্যটন সপ্তাহ’ ও ‘পর্যটন মাস’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে Ñনাসরীন জাহান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব
➥# আন্দোলন সংগ্রামে পর্যটন শিল্পে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, মো. কলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, হোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন
বাংলাদেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম ল্যান্ডমার্ক হতে পারে এ পর্যটন শিল্প। দেশের মোট জিডিপির শতকরা ৩.০২ শতাংশ আসে এই শিল্প থেকে। বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে এই শিল্প। গত কয়েকমাস দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বড় ক্ষতি হয়েছে সম্ভাবনাময়ী এই শিল্পে। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন ধারায় দেশ চালাচ্ছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এতে সব খাতে দ্রুতই কমে আসছে দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের পর্যটন খাত নিয়েও নতুন আশা জেগেছে। কেননা দেশের বর্তমান স্থিতিশীল এই পরিস্থিতিকে পর্যটক সহায়ক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই বিগত দিনের ক্ষতি ও নানা জটিলতা কাটিয়ে এই খাতকে চাঙা করতে নতুন নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার বলে তাদের অভিমত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটন শুধু এককভাবে সরকারের কাজ নয়। জনসাধারণ এর মূল অংশীদার। তাই পর্যটন শিল্পের বিকাশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। এদিকে পর্যটন খাতের চলমান বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আজ পালিত হবে বিশ^ পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যথাযথভাবে দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত এ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ঞড়ঁৎরংস ধহফ চবধপব’ যার বাংলা প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘পর্যটন শান্তির সোপান’।
দেশের পর্যটনের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার। সাড়ে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট আছে এখানে। এসব হোটেলে দিনে ধারণক্ষমতা দুই লাখের বেশি। দিনে লাখো পর্যটকের সমাগম থাকে ছুটির দিনগুলোয়। দেশের রাজনৈতিক এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় সময় বড় ধাক্কা লাগে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি বিগত জুলাই মাসের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সৃষ্ট পরিস্থিতির ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারে নাই। ঐ সময় বন্ধ ছিল তিন হাজারের বেশি দোকান ও পাঁচ শতাধিক রেস্তোরাঁ।
কালাতলি মোড়ের হোটেল সী-সাইনের পরিচালক মো. দেলোয়ার বলেন, গত কয়েকমাস আমাদের জন্য বড় ক্ষতি হয়েছে। যে সময় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তখন ছিল আমাদের পর্যটন ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সময়। আমরা আশাকরি এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক।
আর এক ব্যবসায়ী মাঈনুল ইসলাম বলেন, জুলাই মাসের শুরু থেকেই ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে শঙ্কা তৈরি হয় পর্যটন খাতে। এরপর সংঘর্ষ শুরু হলে একে একে বাতিল হতে থাকে সব বুকিং। এরপর শুরু হয় কারফিউ। এমন অবস্থায় লোকসানে পড়েছেন ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল-মোটেল রেস্তোরাঁসহ সংশ্লিষ্ট শতাধিক খাতের উদ্যোক্তারা। করোনা মহামারির পর আবার বড় ধাক্কা খেয়েছে পর্যটন খাত। প্রায় ৪০ লাখ মানুষ এই খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
পর্যটন দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার হোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কলিম বলেন, বিগত ছাত্র আন্দোলনের সময় পর্যটন খাতে প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কিছু সময় লাগবে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। বিগত সময়ের মত পর্যটন দিবসকে কেন্দ্র করে মেলা বা অন্য কোন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় নাই। আশাকরি আগের মত করে এই শিল্প এগিয়ে যাবে।
পর্যটন শিল্পে ট্যুরিস্ট পুলিশ অবদান উল্লেখ করে পুলিশের আইজি মো. ময়নুল ইসলাম বলেছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের বিকাশে ট্যুরিস্ট পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর পাশাপাশি টেকসই পরিবেশ সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
পর্যটন দিবস নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা খাতগুলোর মধ্যে ‘পর্যটন’ অন্যতম। পর্যটন শিল্প একটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ সংরক্ষণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরীন জাহান বলেছেন, দেশের তরুণ প্রজন্মসহ পর্যটন শিল্পের নিবিড় এবং টেকসই উন্নয়নে দেশের জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ‘পর্যটন সপ্তাহ’ ও ‘পর্যটন মাস’ উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। পর্যটন শিল্প বিকাশের সব সম্ভাবনা এ দেশে বিরাজমান। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে আরো নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়া হবে। দেশের মোট জিডিপির শতকরা ৩.০২ শতাংশ আসে এই শিল্প থেকে। জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২-এ পর্যটনশিল্পের ১২টি উপখাতের উল্লেখ রয়েছে যেখানে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে ‘ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান’ অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
























