⏺হোয়াইট হাউজে বুধবার বসছেন বাইডেন ও ট্রাম্প
⏺দ্বিতীয় মেয়াদে হ্যালি-পম্পেওকে প্রশাসনে রাখছেন না ট্রাম্প
⏺৫৩৮’র মধ্যে ট্রাম্প ৩১২, কমলা ২২৬
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেরার ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোড়ন। সম্প্রতি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ট্রাম্প। তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ আমেরিকান তার ওপর আস্থা রেখে তাকে নির্বাচিত করেছেন। ৩১২টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো দেশটির সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন। প্রথম মেয়াদে তার অধীনে মাইক পম্পেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিকি হ্যালি জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে এবার তিনি তার প্রশাসনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করছেন না। নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে, এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
নারীদের প্রজনন অধিকার নিয়ে হুমকি তৈরি হওয়া ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে গণহারে অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার ডোনাল্ড ট্রাম্পের অঙ্গীকারের প্রেক্ষাপটে গত শনিবার এ বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভে অংশ নিতে নিউইয়র্ক ও সিয়াটলসহ অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। নিউইয়র্কে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেসি গ্রুপের কর্মীরাও। তারা কর্মীদের অধিকার ও অভিবাসীদের বিষয়ে ন্যায়বিচারের আশ্রয় নেওয়ার দাবি জানান। ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টাওয়ারের সামনে এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল, আমরা আমাদের রক্ষা করি, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, নারীরা তাদের স্বাধীনতার জন্য আর কত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করবেন, আমরা পিছু হটব না এমন নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। কাউকে কাউকে স্লোগান দিতে শোনা যায়, আমরা এখানে আছি এবং আমরা চলে যাচ্ছি না। একই ধরনের প্রতিবাদ ওয়াশিংটন ডিসিতে হয়েছে। যেখানে হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন সংগঠন ‘উইমেন্স মার্চ’-এর কর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিক্ষোভ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান-সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার হোয়াইট হাউজে সাক্ষাৎ করবেন। গত শনিবার হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র প্রেস সেক্রেটারি কারিন জন পিয়ের এক বিবৃতিতে জানান, বাইডেনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে হোয়াইট হাউজে যাচ্ছেন ট্রাম্প। বিবৃতিতে পিয়ের বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউজে আসছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার তারা ওভাল দপ্তরে সাক্ষাৎ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ট্রাম্প। ২০ জানুয়ারি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটির ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। এ নির্বাচনে বাইডেনই প্রথমে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু জুলাইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক বিপর্যয়কর বিতর্কের পর তাকে নির্বাচনী দৌঁড় থেকে সরিয়ে নেয় তার দল।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে নিকি হ্যালি ও মাইক পম্পেওকে রাখছেন না। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পম্পেও ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আর হ্যালি ছিলেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ট্রুথ সোশ্যাল) দেওয়া পোস্টে গত শনিবার বলেন, তিনি তার প্রশাসনে যোগ দেওয়ার জন্য হ্যালি ও পম্পেওকে আমন্ত্রণ জানাবেন না। তবে অতীতে তাদের সঙ্গে কাজ ট্রাম্প খুবই উপভোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন এবং তাদের দেশ সেবার প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে ট্রাম্পের নতুন প্রশাসন গঠনের কাজ চলছে। ২০ জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ট্রাম্প তার প্রশাসনে যাদের নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সাউথ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর হ্যালি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত হিসাবে কাজ করেছিলেন। পরে এবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে (প্রাইমারি) ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন হ্যালি। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনাও করেছিলেন হ্যালি। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না পেয়ে তিনি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন এবং ট্রাম্পকে সমর্থন দেন। সদ্য হয়ে যাওয়া নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পর তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে কে কে স্থান পেতে পারেন সে জল্পনার মধ্যে হ্যালি ও পম্পেওর নামও এসেছিল। কিন্তু ট্রাম্প স্পষ্টই জানালেন, এই দুইজন তার প্রশাসনে স্থান পাচ্ছেন না।
এদিকে অ্যারিজোনায় ইলেকটোরাল কলেজের ভোট ১১টি। এ ভোট নিশ্চিত হওয়ার পর ট্রাম্পের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩১২। যা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে প্রয়োজনীয় ২৭০ ভোটের থেকে অনেক বেশি। ট্রাম্পের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসের ঝুলিতে গেছে ২২৬ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। ভোটের আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছিল, ইতিহাস তৈরির হাতছানি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সামনে। অপরদিকে গত নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি মুছে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যয় রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তবে জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল। কমলা হ্যারিস-ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গ্রিন পার্টির জিল স্টেইন, লিবারটারিয়ান পার্টির চেইস অলিভার, স্বতন্ত্র প্রার্থী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র (নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলেও এখনো বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যের ব্যালটে তার নাম রয়েছে) ও করনেল ওয়েস্ট (স্বতন্ত্র) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ট্রাম্পের এবারের নির্বাচনী প্রচারণার পর্বকে ইতিহাসের অংশ বললে কম বলা হবে না। প্রচারণার সময় ট্রাম্পকে দুই দফা হত্যার চেষ্টা করা হয়, তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন নির্বাচনের কয়েক মাস আগে নাম সরিয়ে নেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেই অঙ্গরাজ্যগুলোতে হয়েছে, সেসব অঙ্গরাজ্যে আমেরিকানরা ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ভোটারদের অনেকেই ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার পেছনে অর্থনীতি ও অভিবাসনের মত ইস্যুগুলোকে সামনে রাখছেন। ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি মিলে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হতে হলে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট প্রয়োজন। একেক রাজ্যে একেক সংখ্যায় ইলেকটোরাল কলেজ ভোট আছে। যে রাজ্যে যে দল জয়ী হয়, সেই রাজ্যের সব ইলেকটোরাল কলেজ ভোট সেই দল পেয়ে যায়। অর্থাৎ উইনার্স গেট অল।

























