০২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে আমবাগানে বস্তায় আদা চাষে দুই বন্ধুর চমক উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন চাষিরা

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিরালদহ এলাকার আশিকুজ্জামান ও মেসবাহউদ্দিন নামের দুই বন্ধু আম বাগানের মধ্যে পতিত জমি ও গাছতলায় বস্তায় আদা চাষ করে এলাকায় চমক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রথমবার এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন তারা। ইউটিউবে গাছ তলায় আদা চাষ করা দেখে রংপুর বিভাগের প গড় থেকে আদার বীজ সংগ্রহ করে আম বাগনের ভেতর বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন দুই বন্ধু।
আম বাগানের ভেতর পতিত জমি ও গাছ তলায় প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে আদা চাষে তারা ২ হাজার ৬শ টি বস্তা ব্যবহার করেছেন। নতুন এই প্রযুক্তিতে বস্তায় আদা চাষ করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন তারা। বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে, দেশে মসলা ফসলের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি অর্থনৈতিক ভাবে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আদা চাষী মোঃ আশিকুজ্জামান বলেন, ইউটিউবে দেখি যে আম বাগানের পতিত জমিতে আদা চাষ হচ্ছে। এই দেখে আমরা উদ্বুদ্ধ হয়ে প গড় থেকে আদার বীজ আনায়। তারপর ২৬ শ বস্তায় রোপন করি এবং এই বস্তা গুলোতে আমরা গোবর সার, সাধারণ মাটি, কিছু পাউস, কিছু ডুমার বালি এগুলো দিয়ে ও হালকা পরিমাণে কিছু রাসায়নিক সার ব্যবহার করি। আমাদের এখানে ২০শতাংশ জমির উপরে প্রায় দুই হাজার ছয়শত বস্তা আছে। এই বস্তাগুলো থেকে আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে লাভবান হবো। আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছে জেলা কৃষি অফিসার, উপজেলা কৃষি অফিসার এবং ব্লক সুপার ভাইজার। কী করা লাগবে? কী সার দেওয়া লাগবে এগুলো সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। আমরা বলবো যে কেউ যদি আদা চাষ করতে চাই পতিত জমিতে করতে পারেন।
প্রায় ১ লাখ খরচ করে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষক আশিকুজ্জামান ও মেসবাহউদ্দিন । আর আমের বাগানের ভিতরে আদা চাষ করা দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় এক যুবক বলেন, আশিক ভাইদের আম বাগানের ভেতর এই আদা চাষ পদ্ধতি দেখে খুব ভালো লাগছে। আমার বাড়িতে একটা জাইগাতে আমি এই পদ্ধতিতে আদা চাষ শুরু করছি। যদি লাভবান হই ভালো ফলন হয় পরবর্তীতে আমি এমন আম বাগানে আদা চাষ শুরু করবো। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, আম বাগানে আদা চাষ এভাবে আমরা কখনো দেখিনি। তবে এভাবে আদা চাষ হচ্ছে এটা আমরাও করার চেষ্টা করবো।
পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার স্মৃতি রানী সরকার বলেন, আমাদের উপজেলায় এই প্রথম আম বাগানে বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছে দুই যুবক। আদার গাছও খুব সুন্দর হয়েছে। আমরা সবসময় পর্যবেক্ষন করছি আশা করি ভালো ফলন হবে। আমরা এখন থেকে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সামনে যাতে প্রায় ৩০ হেক্টর আম বাগানে আদা চাষ করতে পারি যে জন্য কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করছি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, মাজদার হোসেন জানান, রাজশাহী জেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। এই ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আম গাছের মাঝে আদা চাষ করা সম্ভব। আমাদের নয়টি উপজেলায় আমরা উদ্দ্যেগ গ্রহন করেছি। চাষী ভাইদের উদ্বুদ্ধ করে আদা চাষ শুরু করতে। চাষী ভাই এখন প্রযুক্তিগত সহায়তা আমাদের কাছ থেকে পাচ্ছে। আদা যে সহজেই রাজশাহীতে চাষ করা সম্ভব এটা কিন্তু মানুষ বিশ্বাস করতে চাইনি। আমরা বস্তা পদ্ধতিতে তাদেরকে বিশ্বাস করতে অনেকটা উৎসাহিত করেছি। চাষী ভাইরা অত্যন্ত আগ্রহী।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে আমবাগানে বস্তায় আদা চাষে দুই বন্ধুর চমক উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন চাষিরা

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিরালদহ এলাকার আশিকুজ্জামান ও মেসবাহউদ্দিন নামের দুই বন্ধু আম বাগানের মধ্যে পতিত জমি ও গাছতলায় বস্তায় আদা চাষ করে এলাকায় চমক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রথমবার এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন তারা। ইউটিউবে গাছ তলায় আদা চাষ করা দেখে রংপুর বিভাগের প গড় থেকে আদার বীজ সংগ্রহ করে আম বাগনের ভেতর বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন দুই বন্ধু।
আম বাগানের ভেতর পতিত জমি ও গাছ তলায় প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে আদা চাষে তারা ২ হাজার ৬শ টি বস্তা ব্যবহার করেছেন। নতুন এই প্রযুক্তিতে বস্তায় আদা চাষ করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন তারা। বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে, দেশে মসলা ফসলের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি অর্থনৈতিক ভাবে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আদা চাষী মোঃ আশিকুজ্জামান বলেন, ইউটিউবে দেখি যে আম বাগানের পতিত জমিতে আদা চাষ হচ্ছে। এই দেখে আমরা উদ্বুদ্ধ হয়ে প গড় থেকে আদার বীজ আনায়। তারপর ২৬ শ বস্তায় রোপন করি এবং এই বস্তা গুলোতে আমরা গোবর সার, সাধারণ মাটি, কিছু পাউস, কিছু ডুমার বালি এগুলো দিয়ে ও হালকা পরিমাণে কিছু রাসায়নিক সার ব্যবহার করি। আমাদের এখানে ২০শতাংশ জমির উপরে প্রায় দুই হাজার ছয়শত বস্তা আছে। এই বস্তাগুলো থেকে আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে লাভবান হবো। আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছে জেলা কৃষি অফিসার, উপজেলা কৃষি অফিসার এবং ব্লক সুপার ভাইজার। কী করা লাগবে? কী সার দেওয়া লাগবে এগুলো সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। আমরা বলবো যে কেউ যদি আদা চাষ করতে চাই পতিত জমিতে করতে পারেন।
প্রায় ১ লাখ খরচ করে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষক আশিকুজ্জামান ও মেসবাহউদ্দিন । আর আমের বাগানের ভিতরে আদা চাষ করা দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় এক যুবক বলেন, আশিক ভাইদের আম বাগানের ভেতর এই আদা চাষ পদ্ধতি দেখে খুব ভালো লাগছে। আমার বাড়িতে একটা জাইগাতে আমি এই পদ্ধতিতে আদা চাষ শুরু করছি। যদি লাভবান হই ভালো ফলন হয় পরবর্তীতে আমি এমন আম বাগানে আদা চাষ শুরু করবো। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, আম বাগানে আদা চাষ এভাবে আমরা কখনো দেখিনি। তবে এভাবে আদা চাষ হচ্ছে এটা আমরাও করার চেষ্টা করবো।
পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার স্মৃতি রানী সরকার বলেন, আমাদের উপজেলায় এই প্রথম আম বাগানে বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছে দুই যুবক। আদার গাছও খুব সুন্দর হয়েছে। আমরা সবসময় পর্যবেক্ষন করছি আশা করি ভালো ফলন হবে। আমরা এখন থেকে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সামনে যাতে প্রায় ৩০ হেক্টর আম বাগানে আদা চাষ করতে পারি যে জন্য কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করছি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, মাজদার হোসেন জানান, রাজশাহী জেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। এই ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আম গাছের মাঝে আদা চাষ করা সম্ভব। আমাদের নয়টি উপজেলায় আমরা উদ্দ্যেগ গ্রহন করেছি। চাষী ভাইদের উদ্বুদ্ধ করে আদা চাষ শুরু করতে। চাষী ভাই এখন প্রযুক্তিগত সহায়তা আমাদের কাছ থেকে পাচ্ছে। আদা যে সহজেই রাজশাহীতে চাষ করা সম্ভব এটা কিন্তু মানুষ বিশ্বাস করতে চাইনি। আমরা বস্তা পদ্ধতিতে তাদেরকে বিশ্বাস করতে অনেকটা উৎসাহিত করেছি। চাষী ভাইরা অত্যন্ত আগ্রহী।