০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জিতেও পা মাটিতেই বাটলারের

সংবাদ সম্মেলনে ঋতুপর্ণা চাকমাকে পাশে বসিয়ে হাসিমুখে কথা বলছিলেন জাতীয় নারী দলের কোচ পিটার বাটলার। ঠিক এমন একটা জয়ই হয়তো মনে মনে আশা করেছিলেন এই বৃটিশ কোচ। তাকে নিয়ে তো কম সমালোচনা হয়নি দেশের ফুটবলাঙ্গনে। সিনিয়র ফুটবলারদের বিদ্রোহের ইস্যুতে সব সময় তাকে এক পক্ষ খলনায়ক বানিয়ে রেখেছিলেন। সত্যিই বাটলারের চোখ দক্ষিণ এশিয়ার গন্ডি ছেড়ে এশিয়ার মূল মঞ্চে, সেটা তিনি দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই বুঝিয়েছিলেন।

অবশেষে এশিয়া কাপের বাছাইয়ে বাটলারের অধীনে বাংলাদেশ হারিয়েছে মিয়ানমারকে। যে দলটির র‌্যাঙ্কিং ৫৫। যেখানে বাংলাদেশ ৭৩ ধাপ পিছিয়ে। দিনের অন্য ম্যাচে বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান ড্র হওয়া বাংলাদেশ এশিয়ার সেরা ১২টি দলের মধ্যে উঠে গেল। পৌছে গেল এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে।

কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ না খেলার আগে কোচ পা মাটিতেই রাখছেন । সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেছেন, “ওদের আমরা গুড়িয়ে দেয়নি। এটাকে তেমন জয় বলব না। শুধু এটা বলব আমি এখনও মাটিতে পা রেখেছি। এখনও আমাদের কাজ শেষ হয়নি। পরের প্রতিপক্ষকে আমরা সমীহ করছি। ওই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। তবে এটা সত্যি মিয়ানমারের বিপক্ষে মেয়েরা পেয়েছে অসাধারণ জয়।”

ম্যাচটিতে বাংলাদেশ পুরো সময় আধিপত্য ছড়িয়ে খেলেছে। বাটলার যেন আগেই জানতেন ম্যাচটি জিতবে বাংলাদেশ, ‘আমি জানি আমার ফুটবলারদের সামর্থ্য। যেভাবে আমরা খেলেছি যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ওরা তাতে এমন জয় আসতোই। এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব আমার মেয়েদের দিব। দলের প্রতিটি পজিশনে সবাই ভালো খেলেছে। ডিফেন্ডাররা দারুণ খেলেছে। মিডফিল্ড, ফরোয়ার্ড সবাই দুর্দান্ত ছিল।”

ঋতুপর্ণার দুটি গোলই ছিল নজরকাড়া। পাশে বসে ঋতুপর্ণাকে নিয়ে মজা করতে ভোলেননি বাটলার। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘এই কোমলমতি চঞ্চলা মেয়েটি অসাধারণ খেলেছে। এই মেয়ের অনেক দূরে যাওয়ার সামর্থ্য আছে।” ঋতুপর্ণার প্রশংসা করে বললেন, “ঋতুপর্ণা বর্তমানে ভুটান লিগে খেলছে। আরব দেশে বা মধ্যপ্রাচ্যে ডাক পেয়েছে। সেখানেও খেলতে পারে। চঞ্চলা কোমলমতি মেয়ে সে। বয়সে এখনও তরুণ। আমি মনে করি অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এবং সে এটা ডিজার্ভ করে।”

ঋতুপর্ণা নিঃসন্দেহে ম্যাচের সেরা ফুটবলার। এবারের এশিয়া কাপ বাছাই যেন তাকে দুহাত উজাড় করে দিচ্ছে। ২৯ জুন প্রথম ম্যাচে একটি দুর্দান্ত গোল করেছেন। যে গোলটি তিনি উৎসর্গ করেন প্রয়াত ভাই পার্বন চাকমাকে। এরপর গতকাল করলেন আরও দুটি। প্রথমটি সেট পিস থেকে। পরের গোলটি বা প্রান্ত দিয়ে বা পায়ের রংধনু শটে জালে ঢুকিয়েছেন। যে কাজটি তিনি নিয়মিতই করে থাকেন ইদানিং। সব মিলিয়ে এশিয়া কাপে এরই মধ্যে ৩ গোল নিজের নামের পাশে লিখে ফেলেছেন রাঙামাটির ফুটবলার।

মিয়ানমারের মতো বড় দলকে হারিয়ে একটা লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। এশিয়া কাপের বড় বাধা পেরিয়েও এতটুকু নির্ভার নন ঋতুপর্ণা। বরং নিজেদের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল। তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসে সেটাই বললেন, “আমরা বাংলাদেশ থেকে একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচ বাই ম্যাচ জয় পাওয়া। এখানে ২টা ম্যাচই জিতেছি। এখনও আমাদের একটা ম্যাচ বাকি আছে। ওই ম্যাচ যদি জিততে পারি অবশ্যই সেলিব্রেট করব। পরের ম্যাচটির জন্য আমরা এখন প্রস্তুত হচ্ছি।”

জনপ্রিয় সংবাদ

জিতেও পা মাটিতেই বাটলারের

আপডেট সময় : ০১:০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

সংবাদ সম্মেলনে ঋতুপর্ণা চাকমাকে পাশে বসিয়ে হাসিমুখে কথা বলছিলেন জাতীয় নারী দলের কোচ পিটার বাটলার। ঠিক এমন একটা জয়ই হয়তো মনে মনে আশা করেছিলেন এই বৃটিশ কোচ। তাকে নিয়ে তো কম সমালোচনা হয়নি দেশের ফুটবলাঙ্গনে। সিনিয়র ফুটবলারদের বিদ্রোহের ইস্যুতে সব সময় তাকে এক পক্ষ খলনায়ক বানিয়ে রেখেছিলেন। সত্যিই বাটলারের চোখ দক্ষিণ এশিয়ার গন্ডি ছেড়ে এশিয়ার মূল মঞ্চে, সেটা তিনি দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই বুঝিয়েছিলেন।

অবশেষে এশিয়া কাপের বাছাইয়ে বাটলারের অধীনে বাংলাদেশ হারিয়েছে মিয়ানমারকে। যে দলটির র‌্যাঙ্কিং ৫৫। যেখানে বাংলাদেশ ৭৩ ধাপ পিছিয়ে। দিনের অন্য ম্যাচে বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান ড্র হওয়া বাংলাদেশ এশিয়ার সেরা ১২টি দলের মধ্যে উঠে গেল। পৌছে গেল এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে।

কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ না খেলার আগে কোচ পা মাটিতেই রাখছেন । সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেছেন, “ওদের আমরা গুড়িয়ে দেয়নি। এটাকে তেমন জয় বলব না। শুধু এটা বলব আমি এখনও মাটিতে পা রেখেছি। এখনও আমাদের কাজ শেষ হয়নি। পরের প্রতিপক্ষকে আমরা সমীহ করছি। ওই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। তবে এটা সত্যি মিয়ানমারের বিপক্ষে মেয়েরা পেয়েছে অসাধারণ জয়।”

ম্যাচটিতে বাংলাদেশ পুরো সময় আধিপত্য ছড়িয়ে খেলেছে। বাটলার যেন আগেই জানতেন ম্যাচটি জিতবে বাংলাদেশ, ‘আমি জানি আমার ফুটবলারদের সামর্থ্য। যেভাবে আমরা খেলেছি যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ওরা তাতে এমন জয় আসতোই। এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব আমার মেয়েদের দিব। দলের প্রতিটি পজিশনে সবাই ভালো খেলেছে। ডিফেন্ডাররা দারুণ খেলেছে। মিডফিল্ড, ফরোয়ার্ড সবাই দুর্দান্ত ছিল।”

ঋতুপর্ণার দুটি গোলই ছিল নজরকাড়া। পাশে বসে ঋতুপর্ণাকে নিয়ে মজা করতে ভোলেননি বাটলার। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘এই কোমলমতি চঞ্চলা মেয়েটি অসাধারণ খেলেছে। এই মেয়ের অনেক দূরে যাওয়ার সামর্থ্য আছে।” ঋতুপর্ণার প্রশংসা করে বললেন, “ঋতুপর্ণা বর্তমানে ভুটান লিগে খেলছে। আরব দেশে বা মধ্যপ্রাচ্যে ডাক পেয়েছে। সেখানেও খেলতে পারে। চঞ্চলা কোমলমতি মেয়ে সে। বয়সে এখনও তরুণ। আমি মনে করি অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এবং সে এটা ডিজার্ভ করে।”

ঋতুপর্ণা নিঃসন্দেহে ম্যাচের সেরা ফুটবলার। এবারের এশিয়া কাপ বাছাই যেন তাকে দুহাত উজাড় করে দিচ্ছে। ২৯ জুন প্রথম ম্যাচে একটি দুর্দান্ত গোল করেছেন। যে গোলটি তিনি উৎসর্গ করেন প্রয়াত ভাই পার্বন চাকমাকে। এরপর গতকাল করলেন আরও দুটি। প্রথমটি সেট পিস থেকে। পরের গোলটি বা প্রান্ত দিয়ে বা পায়ের রংধনু শটে জালে ঢুকিয়েছেন। যে কাজটি তিনি নিয়মিতই করে থাকেন ইদানিং। সব মিলিয়ে এশিয়া কাপে এরই মধ্যে ৩ গোল নিজের নামের পাশে লিখে ফেলেছেন রাঙামাটির ফুটবলার।

মিয়ানমারের মতো বড় দলকে হারিয়ে একটা লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। এশিয়া কাপের বড় বাধা পেরিয়েও এতটুকু নির্ভার নন ঋতুপর্ণা। বরং নিজেদের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল। তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসে সেটাই বললেন, “আমরা বাংলাদেশ থেকে একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচ বাই ম্যাচ জয় পাওয়া। এখানে ২টা ম্যাচই জিতেছি। এখনও আমাদের একটা ম্যাচ বাকি আছে। ওই ম্যাচ যদি জিততে পারি অবশ্যই সেলিব্রেট করব। পরের ম্যাচটির জন্য আমরা এখন প্রস্তুত হচ্ছি।”