০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৭-০ গোলে জিতে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

তুর্কমেনিস্তানের জালে বাংলাদেশের গোলবন্যা

এমন একটা হাসিখুশি ফ্রেমই দেখতে চেয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী দর্শক। এশিয়ান কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ালিফাই করার পর কোচ, খেলোয়াড়সহ সবাই। ছবি: বাফুফে

তুর্কমেনিস্তানের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১৪১। এশিয়ান কাপ নারী ফুটবলের ‘সি’ গ্রুপের বাছাইয়ের সবচেয়ে দুর্বল দল। যে দলকে প্রথম ম্যাচে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেয় মিয়ানমার। সেই দলকে বাংলাদেশও যে এতটুকু ছাড় দেবে না সেটা যেন অনুমিতই ছিল।

শনিবার ইয়াঙ্গুনে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সেই তুর্কমেনিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ তুর্কমেনিস্তানের জালে গোলের মালা পরিয়েছে। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ তাদের হারিয়েছে ৭-০ গোলে। ঋতুপর্ণা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র করেছেন জোড়া গোল। ১টি করে গোল করেছেন মনিকা চাকমা, স্বপ্না রানী ও তহুরা খাতুন।

‘সি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ ৩ ম্যাচে সব কটি জয় নিয়ে ৯ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দিনের অন্য ম্যাচে বাহরাইনকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে মিয়ানমার। তাদের পয়েন্ট ৬। এছাড়া ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে তুর্কমেনিস্তান ও বাহরাইন।

এদিন বাংলাদশের সামনে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ে রেকর্ড সামনে ছিল। বাংলাদেশের জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় জয় ভুটানের সঙ্গে। ২০১০ সালে কক্সবাজারে ওই ম্যাচে ভুটানকে হারিয়েছিল ৯-০ গোলে। এই রেকর্ড অবশ্য ছাড়িয়ে যেতে পারল না বাংলাদেশের মেয়েরা।
এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছিল। শনিবারের ম্যাচটি তাই ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতার। কিন্তু এই ম্যাচেও এতটুকু ছাড় দেননি কোচ পিটার বাটলার। গত দুই ম্যাচের একাদশকেই খেলিয়েছেন তিনি।

শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। এবং এর ফলও পেয়েছে হাতেনাতেই। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা একের পর এক বক্সে ঢুকেছেন। এবং যেন মুড়কি মুড়কির মতো গোল দিতে শুরু করেন। প্রথম গোল হয়েছে ৩ মিনিটে। ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার উঁচু শটে স্বপ্না রানী করেন ১-০। এরপর ২-০ করেন ম্যাচের ৬ মিনিটের মাথায় শামসুন্নাহার জুনিয়র। জটলার মধ্যে বক্সে বল ঢুকলে তুর্কমেনিস্তানের গোলরক্ষক আমানবারিদায়েভা আয়েশার হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। সেই বল শামসুন্নাহারের পায়ে পড়লে ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

ম্যাচের তৃতীয় গোলটি হয়েছে ১৩ মিনিটে। আবারও গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। বা প্রান্ত থেকে শামসুন্নাহার সিনিয়রের ক্রস এরপর সরাসরি বলে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোল। স্কোরলাইন হলো ৩-০। মনিকা চাকমা প্রতিযোগিতার প্রথম গোল পেলেন তৃতীয় ম্যাচে এসে। বা পায়ের জোরালো শটে ১৬ মিনিটে তিনি জালে বল জড়ান (৪-০)। ম্যাচের পঞ্চম গোলটি করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। এটি তার চতুর্থ গোল টুর্নামেন্টে। এই গোলটি হয়েছে ১৮ মিনিটে।
ষষ্ঠ গোলটি হয়েছে ২০ মিনিটে। ঋতুপর্ণার বা প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে আলতো প্লেসিংয়ে সহজে তহুরা করেন নিজের দ্বিতীয় ও ম্যাচের ষষ্ঠ গোল (৬-০)।
৪০ মিনিটে ঋতুপর্ণা করেন সপ্তম গোল। কর্ণার থেকে মনিকা বল দেনে ঋতুপর্ণাকে। এরপর সেই বলটি বা পায়ের ট্রেডমার্ক শটে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দেন জালে (৭-০)। এটি ঋতুপর্ণার এই ম্যাচে দ্বিতীয় গোল। এবং সব মিলিয়ে পঞ্চম গোল করেছেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ঋতুপর্ণাকে তুলে নেন কোচ পিটার বাটলার। কিন্তু বদলি উমহেলা মারমা গোলের খাতা খুলতে পারেনি। মারিয়া মান্দা, আফঈদা খন্দকার ও মনিকা বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাই জয়ের ব্যবধানও আর বাড়েনি। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত মনিকা চাকমা বলেন, ‘আজকে অনেক অনেক ভালো লাগছে। কারণ আমরা এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে কোয়ালিফাই করেছি। অনেক খুশি আমরা। তো আমরা চাই এভাবে আরও ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে যেন আরো ভালো রেজাল্ট করতে পারি। আজকের দিনের জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাব, কারণ তারা পুরো দলকে সাহায্য করেছে। তো আসলে আমরা খুব খুশি। আমার সমর্থকদের অনেক ধন্যবাদ। কারণ আমাকে অনেক সমর্থন করেছে। আমি চাই এভাবে সমর্থন করে যাক।’

 

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

৭-০ গোলে জিতে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

তুর্কমেনিস্তানের জালে বাংলাদেশের গোলবন্যা

আপডেট সময় : ০১:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

তুর্কমেনিস্তানের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১৪১। এশিয়ান কাপ নারী ফুটবলের ‘সি’ গ্রুপের বাছাইয়ের সবচেয়ে দুর্বল দল। যে দলকে প্রথম ম্যাচে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেয় মিয়ানমার। সেই দলকে বাংলাদেশও যে এতটুকু ছাড় দেবে না সেটা যেন অনুমিতই ছিল।

শনিবার ইয়াঙ্গুনে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সেই তুর্কমেনিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ তুর্কমেনিস্তানের জালে গোলের মালা পরিয়েছে। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ তাদের হারিয়েছে ৭-০ গোলে। ঋতুপর্ণা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র করেছেন জোড়া গোল। ১টি করে গোল করেছেন মনিকা চাকমা, স্বপ্না রানী ও তহুরা খাতুন।

‘সি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ ৩ ম্যাচে সব কটি জয় নিয়ে ৯ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দিনের অন্য ম্যাচে বাহরাইনকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে মিয়ানমার। তাদের পয়েন্ট ৬। এছাড়া ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে তুর্কমেনিস্তান ও বাহরাইন।

এদিন বাংলাদশের সামনে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ে রেকর্ড সামনে ছিল। বাংলাদেশের জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় জয় ভুটানের সঙ্গে। ২০১০ সালে কক্সবাজারে ওই ম্যাচে ভুটানকে হারিয়েছিল ৯-০ গোলে। এই রেকর্ড অবশ্য ছাড়িয়ে যেতে পারল না বাংলাদেশের মেয়েরা।
এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছিল। শনিবারের ম্যাচটি তাই ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতার। কিন্তু এই ম্যাচেও এতটুকু ছাড় দেননি কোচ পিটার বাটলার। গত দুই ম্যাচের একাদশকেই খেলিয়েছেন তিনি।

শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। এবং এর ফলও পেয়েছে হাতেনাতেই। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা একের পর এক বক্সে ঢুকেছেন। এবং যেন মুড়কি মুড়কির মতো গোল দিতে শুরু করেন। প্রথম গোল হয়েছে ৩ মিনিটে। ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার উঁচু শটে স্বপ্না রানী করেন ১-০। এরপর ২-০ করেন ম্যাচের ৬ মিনিটের মাথায় শামসুন্নাহার জুনিয়র। জটলার মধ্যে বক্সে বল ঢুকলে তুর্কমেনিস্তানের গোলরক্ষক আমানবারিদায়েভা আয়েশার হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। সেই বল শামসুন্নাহারের পায়ে পড়লে ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

ম্যাচের তৃতীয় গোলটি হয়েছে ১৩ মিনিটে। আবারও গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। বা প্রান্ত থেকে শামসুন্নাহার সিনিয়রের ক্রস এরপর সরাসরি বলে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোল। স্কোরলাইন হলো ৩-০। মনিকা চাকমা প্রতিযোগিতার প্রথম গোল পেলেন তৃতীয় ম্যাচে এসে। বা পায়ের জোরালো শটে ১৬ মিনিটে তিনি জালে বল জড়ান (৪-০)। ম্যাচের পঞ্চম গোলটি করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। এটি তার চতুর্থ গোল টুর্নামেন্টে। এই গোলটি হয়েছে ১৮ মিনিটে।
ষষ্ঠ গোলটি হয়েছে ২০ মিনিটে। ঋতুপর্ণার বা প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে আলতো প্লেসিংয়ে সহজে তহুরা করেন নিজের দ্বিতীয় ও ম্যাচের ষষ্ঠ গোল (৬-০)।
৪০ মিনিটে ঋতুপর্ণা করেন সপ্তম গোল। কর্ণার থেকে মনিকা বল দেনে ঋতুপর্ণাকে। এরপর সেই বলটি বা পায়ের ট্রেডমার্ক শটে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দেন জালে (৭-০)। এটি ঋতুপর্ণার এই ম্যাচে দ্বিতীয় গোল। এবং সব মিলিয়ে পঞ্চম গোল করেছেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ঋতুপর্ণাকে তুলে নেন কোচ পিটার বাটলার। কিন্তু বদলি উমহেলা মারমা গোলের খাতা খুলতে পারেনি। মারিয়া মান্দা, আফঈদা খন্দকার ও মনিকা বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাই জয়ের ব্যবধানও আর বাড়েনি। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত মনিকা চাকমা বলেন, ‘আজকে অনেক অনেক ভালো লাগছে। কারণ আমরা এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে কোয়ালিফাই করেছি। অনেক খুশি আমরা। তো আমরা চাই এভাবে আরও ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে যেন আরো ভালো রেজাল্ট করতে পারি। আজকের দিনের জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাব, কারণ তারা পুরো দলকে সাহায্য করেছে। তো আসলে আমরা খুব খুশি। আমার সমর্থকদের অনেক ধন্যবাদ। কারণ আমাকে অনেক সমর্থন করেছে। আমি চাই এভাবে সমর্থন করে যাক।’