কালীগঞ্জে ভেঙে পড়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা,  ফলাফল বিপর্যয়

রবিউল ইসলাম , ঝিনাইদহ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এবার বড় বিপর্যয় লক্ষ করা যায় । জানা যায়, উপজেলা মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক ৪৯ টি বিদ্যালয়ের ২,৩৬৩ জন পরীক্ষার্থী ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে কৃতকার্য হয় ১,৪২৭ জন,অকৃতকার্য হয় ৯৪৬ জন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৮৯ জন। উপজেলার ২৬ টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৫১ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে কৃতকার্যের সংখ্যা ৩৯৮ জন, অকৃতকার্যের সংখ্যা ২৫১ জন  এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থী। আর নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কারিগরি শাখা থেকে ১৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয় ৮৪ জন অকৃতকার্য হয় ৬৩ জন ও জিপিএ ৫ পায় মাত্র ৩ জন। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১১৪ জন অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১০৪ জন কৃতকার্য হয়েছে। অকৃতকার্যের সংখ্যা  ১০ জন এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্ত  শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৩ জন। অর্থাৎ ৯১.২৩ শতাংশ পাশের এ হারের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা সর্বোচ্চ আসনে অবস্থান করছে। অপরদিকে হাট বারবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০৬ জনের মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৯ জন। উপজেলার সবচেয়ে বেশি অকৃতকার্যের রেকর্ড অর্জন করেছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। তারপরেই রয়েছে বিসিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬৯ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ৩৩ জন অকৃতকার্য হয়েছে। 

কালীগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষকরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ঠিকমত পাঠ দান করান না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চারটার দু'ঘণ্টা পূর্বেই ছুটি দিয়ে দেন। শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষে ভালোভাবে পাঠদান না করিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর দিকে বেশি মনোনিবেশ করেন। বিদ্যালয় গুলোর অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সময়  নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নিজেরা তৈরীর না করে কথিত শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে নোট গাইড কোম্পানি থেকে প্রশ্ন কিনে ওই প্রশ্নে পরীক্ষা নেন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কতিপয় অসাধু শিক্ষকের যোগসাজশে "শিক্ষক সমিতি" নামের একটি অনিবন্ধিত সংগঠনের অনৈতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্র তৈরি করতে ব্যাস্ত সময় পার করে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে , কারিকুলাম ও পাঠদান সম্পর্কে শিক্ষকদের দক্ষতার অভাব, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যথাযথ তদারকি,খোঁজখবর নেওয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শীথিলতা। মূলত এসব কারণেই কালীগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।যার প্রভাব পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। আর  

ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই শ্রেণীকক্ষে পাঠদান,অবৈধ নোট গাইড ও প্রাইভেট বাণিজ্য,   শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে সব মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের (ভারপ্রাপ্ত) সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি জানান, আমি অল্প কিছুদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের লোকবল সংকট। ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে কাজ করার চেষ্টা করছি। 

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ (ইউএনও) বলেন,এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে আমি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ডেকেছি। তাদের সাথে কথা বলবো। আমার পরিষ্কার বার্তা শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো প্রকার গাফলতির সুযোগ দেওয়া হবে না। 

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত