লটারির বদলে ভর্তি পরীক্ষার দাবিতে রংপুরে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মানববন্ধন

রংপুর ব্যুরো
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

সরকারি বিদ্যালয়ে তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে লটারির পরিবর্তে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। আগামী শিক্ষাবর্ষে মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা বহাল রাখা এবং শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জিলা স্কুলের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লটারি জুয়া নয়, মেধার ভিত্তিতে ভর্তি চাই’সহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন অভিভাবক সালাহ উদ্দিন, রাবেয়া সুলতানাসহ অন্যরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে সরকারি বিদ্যালয়ে তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির পদ্ধতি চালু করা হয়। এতে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের অনেকে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতির সমালোচনা করে তাঁরা বলেন, কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ব্যবস্থা মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করে না। লটারিতে নাম উঠলেই ভর্তির সুযোগ পাওয়া এবং পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই না করার এই পদ্ধতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচারের শামিল।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী লটারির পরিবর্তে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিতে শুরু করে। কিন্তু একটি মহল আবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির পদ্ধতি চালুর চেষ্টা করছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

অভিভাবকেরা শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং দ্রুত মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা কার্যকর করার দাবি জানান। তাঁদের মতে, সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা মূল্যায়নের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL