ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার ৮টি সড়ক সংস্কারের কাজ ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ের নির্মাণকাজ পেয়েছিলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাদের এন্টারপ্রাইজ। দরপত্র দাখিলের পর থেকে অজ্ঞাত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া শুরু করে। দরপত্র প্রত্যাহার না করলে প্রাণে মেরে ফেলাও হুমকি দেয়। এরপর সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তিনি কার্যাদেশটি পাওয়ায় গত ২২ জুলাই ১৫-২০ জনের একটা চাঁদাবাজ চক্র তাকে দাগনভূঁঞা বাজারে খোঁজ করতে থাকে। প্রাণ
বাঁচাতে তিনি পালিয়ে যান।
রোববার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবদুল কাদের মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় দাগনভূঞা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ওইদিন (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তিনি উপজেলার ফাজিলের ঘাট রোডে ফাইন ওভারসিজে গেলে পরবর্তীতে সেখানেও চাঁদাবাজরা খোঁজ করতে যায়। এসময় ‘তাকে না পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মেরে ফেলার হুমকি দেয়। একইসাথে বিভিন্ন অফিসে তাকে জায়গা না দেয়ার জন্য চাপ দেয় তারা। একইদিন দুপুর ১টার দিকে ফেনী রোডে তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে গিয়েও খুঁজে না পেয়ে গালাগালি করা হয়। ওই সময় তারা স্থানীয় বিএনপি নেতা কামরুল উদ্দিন ও আবদুল কাদের বাবুকেও গালমন্দ করে। একপর্যায়ে টেন্ডার খোলার ৫ দিন পর বিকেল ৫টার দিকে ০১৬১৯৫৩৩৩৩২ এবং এর প্রায় আড়াই মাস আগে রাত ৮টার দিকে ০১৭৯৭৩৩৯৮০১ নম্বর থেকে কল করে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
তবে হুমকিদাতাদের নাম পরিচয় জানলেও প্রাণের ভয়ে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি স্থানীয় রামনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক এ নেতা। তার দাবি, উল্লেখিত ঘটনাস্থলগুলোতে
সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পুলিশ গিয়ে সেইসব ফুটেজ সংগ্রহ করলে চাঁদাবাজদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই দাগনভূঞা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম আজহারুল হক দাগনভূঞা বাজারের পুরনো থানা রোড ও হাজী ক্লিনিক থেকে সওদাগর বাড়ি সড়ক সংস্কার কাজ উদ্বোধন করেন। দরপত্র অনুযায়ী কাজ শুরু করার সময় রাস্তার পাশে সাইনবোর্ড লাগালে রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সেই সাইনবোর্ড তুলে ফেলে দেয় ও স্টিকার ছিড়ে ফেলে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন আবারও ঢালাই করে সাইনবোর্ড প্রতিস্থাপন করলে গত ২৭ জুলাই রাতে আবারও অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে ওই সাইনবোর্ডটিও কেটে নিয়ে যায়। এদিকে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণকে।
চাঁদাবাজদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সড়কগুলোর সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দাগনভূঞা থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়টি এড়িয়ে বলেন, সাধারণ ডায়েরি সংক্রান্তে তদন্ত কাজ চলছে। ঠিকাদার কাজ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, প্রয়োজনে পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করতে সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়ার পরও তিনি তা করছেন না।





















