১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে, বেড সংকট

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিগুণ বেড়েছে। বর্তমানে শিশু বিভাগের দুটি ওয়ার্ডে সরকার অনুমোদিত বেডের তুলনায় রোগী ভর্তি রয়েছে প্রায় তিনগুণ। চিকিৎসকরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দিনের ভ্যাপসা গরম এবং রাতে তাপমাত্রা ওঠা-নামার কারণে কম বয়সী শিশুরা নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছে।

চট্টগ্রাম মা–শিশু ও জেনারেল হাসপাতালেও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে। চমেক হাসপাতালে দেখা যায়, অনেক মেয়ে শিশুদের মায়েরা কোলে নিয়ে বসে আছেন। কেউ কেউ শিশুকে নেবুলাইজ (শ্বাসযন্ত্রের ওষুধ প্রয়োগ) করছেন। ফটিকছড়ি থেকে আসা রাবেয়া আক্তার জানান, তার দেড় বছর বয়সী মেয়ের ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি শুরু হয়, স্থানীয় ডাক্তার তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠান। মেয়েটি সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে এবং বুকের দুধ খেতে পারছে না।

পটিয়ার বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা জানান, তার ছেলে শ্বাসকষ্ট ও কফ নিয়ে ভর্তি। বর্তমানে বেড সংকটের কারণে এক বেডে তিন থেকে চার শিশুকে রাখা হচ্ছে। একটি অক্সিজেন সঞ্চালন লাইন থেকে একাধিক শিশুকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়মিত চিকিৎসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু ওয়ার্ডের একজন চিকিৎসক বলেন, “একটি সঞ্চালন লাইন থেকে একাধিক শিশুকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে, ফলে প্রয়োজন মতো মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না। অক্সিজেনের পরিমাণ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।”

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ডে সরকার অনুমোদিত বেড সংখ্যা ১৩০। বর্তমানে গড়ে রোগী ভর্তি রয়েছে প্রায় ৪০০ জন। প্রতিদিন ১০০ জন নতুন রোগী আসছেন, যার মধ্যে ৬০ জন নিউমোনিয়ার।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যু মূলত নিউমোনিয়ার কারণে হয়। কম ওজন বা প্রি-ম্যাচিউরড শিশুদের নিউমোনিয়া বেশি হয়। ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির কারণে এবং ধূমপায়ী পরিবারের সন্তানদেরও ঝুঁকি থাকে। শিশুর পুষ্টি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং বুকের দুধ শিশুকে নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া সরকার নির্ধারিত সব টিকা ও প্রয়োজনে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকাও দিতে হবে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সেঁজুতি সরকার বলেন, “আমাদের ওয়ার্ডের দুই-তৃতীয়াংশ শিশু নিউমোনিয়ার রোগী। বছরের এই সময়ে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ে। নিউমোনিয়া মূলত ফুসফুসের প্রদাহজনিত রোগ। শিশু যদি ঘন ঘন শ্বাস নে, বুক বেশি দিতে থাকে বা খিঁচুনি হয়, তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।”

চমেক হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, “নিউমোনিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। সরকার অনুমোদিত বেডের তুলনায় অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় বাধ্য হয়ে এক বেডে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

চট্টগ্রামে শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে, বেড সংকট

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিগুণ বেড়েছে। বর্তমানে শিশু বিভাগের দুটি ওয়ার্ডে সরকার অনুমোদিত বেডের তুলনায় রোগী ভর্তি রয়েছে প্রায় তিনগুণ। চিকিৎসকরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দিনের ভ্যাপসা গরম এবং রাতে তাপমাত্রা ওঠা-নামার কারণে কম বয়সী শিশুরা নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছে।

চট্টগ্রাম মা–শিশু ও জেনারেল হাসপাতালেও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে। চমেক হাসপাতালে দেখা যায়, অনেক মেয়ে শিশুদের মায়েরা কোলে নিয়ে বসে আছেন। কেউ কেউ শিশুকে নেবুলাইজ (শ্বাসযন্ত্রের ওষুধ প্রয়োগ) করছেন। ফটিকছড়ি থেকে আসা রাবেয়া আক্তার জানান, তার দেড় বছর বয়সী মেয়ের ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি শুরু হয়, স্থানীয় ডাক্তার তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠান। মেয়েটি সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে এবং বুকের দুধ খেতে পারছে না।

পটিয়ার বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা জানান, তার ছেলে শ্বাসকষ্ট ও কফ নিয়ে ভর্তি। বর্তমানে বেড সংকটের কারণে এক বেডে তিন থেকে চার শিশুকে রাখা হচ্ছে। একটি অক্সিজেন সঞ্চালন লাইন থেকে একাধিক শিশুকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়মিত চিকিৎসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু ওয়ার্ডের একজন চিকিৎসক বলেন, “একটি সঞ্চালন লাইন থেকে একাধিক শিশুকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে, ফলে প্রয়োজন মতো মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না। অক্সিজেনের পরিমাণ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।”

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ডে সরকার অনুমোদিত বেড সংখ্যা ১৩০। বর্তমানে গড়ে রোগী ভর্তি রয়েছে প্রায় ৪০০ জন। প্রতিদিন ১০০ জন নতুন রোগী আসছেন, যার মধ্যে ৬০ জন নিউমোনিয়ার।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যু মূলত নিউমোনিয়ার কারণে হয়। কম ওজন বা প্রি-ম্যাচিউরড শিশুদের নিউমোনিয়া বেশি হয়। ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির কারণে এবং ধূমপায়ী পরিবারের সন্তানদেরও ঝুঁকি থাকে। শিশুর পুষ্টি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং বুকের দুধ শিশুকে নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া সরকার নির্ধারিত সব টিকা ও প্রয়োজনে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকাও দিতে হবে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সেঁজুতি সরকার বলেন, “আমাদের ওয়ার্ডের দুই-তৃতীয়াংশ শিশু নিউমোনিয়ার রোগী। বছরের এই সময়ে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ে। নিউমোনিয়া মূলত ফুসফুসের প্রদাহজনিত রোগ। শিশু যদি ঘন ঘন শ্বাস নে, বুক বেশি দিতে থাকে বা খিঁচুনি হয়, তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।”

চমেক হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, “নিউমোনিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। সরকার অনুমোদিত বেডের তুলনায় অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় বাধ্য হয়ে এক বেডে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

এমআর/সবা