০৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম: ভারতীয় নাগরিকসহ ৬ জন আটক

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির সঙ্গে জড়িত এক ভারতীয় নাগরিকসহ ছয় বাংলাদেশি কারিগরকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কর্ণফুলী থানাধীন চর পাথরঘাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি কারখানায় নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম ও জাল তৈরির কাজ চলছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে কারখানাটি তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি অবৈধ ট্রলিং জাল, জাল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রলিং জাল তৈরির মূল কারিগর ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাস (৩৯) এবং ছয়জন বাংলাদেশি কারিগরকে আটক করা হয়। পণ্ডিত বিশ্বাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পণ্ডিত বিশ্বাস বাংলাদেশে অবস্থানকালে বিভিন্ন ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির কাজ করে আসছিলেন। তিনি সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এর আগে একাধিকবার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে এসে বরগুনার পাথরঘাটা, চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গত ১২ আগস্ট কোস্ট গার্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পণ্ডিত বিশ্বাসকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে কিছু অসাধু ট্রলিং জাল ব্যবসায়ীর সহায়তায় তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় অবৈধ কার্যক্রম শুরু করেন।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট ও ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহারের ফলে মা মাছ ও মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ধ্বংস হচ্ছে। এতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাছের প্রজনন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে এবং সাধারণ জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

তিনি আরও বলেন, জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধান উপদেষ্টা মু: আলামিন বাকলাই, সভাপতি শাহনাজ শিল্পী, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ

ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম: ভারতীয় নাগরিকসহ ৬ জন আটক

আপডেট সময় : ০৮:১৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির সঙ্গে জড়িত এক ভারতীয় নাগরিকসহ ছয় বাংলাদেশি কারিগরকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কর্ণফুলী থানাধীন চর পাথরঘাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি কারখানায় নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম ও জাল তৈরির কাজ চলছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে কারখানাটি তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি অবৈধ ট্রলিং জাল, জাল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রলিং জাল তৈরির মূল কারিগর ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাস (৩৯) এবং ছয়জন বাংলাদেশি কারিগরকে আটক করা হয়। পণ্ডিত বিশ্বাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পণ্ডিত বিশ্বাস বাংলাদেশে অবস্থানকালে বিভিন্ন ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির কাজ করে আসছিলেন। তিনি সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এর আগে একাধিকবার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে এসে বরগুনার পাথরঘাটা, চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গত ১২ আগস্ট কোস্ট গার্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পণ্ডিত বিশ্বাসকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে কিছু অসাধু ট্রলিং জাল ব্যবসায়ীর সহায়তায় তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় অবৈধ কার্যক্রম শুরু করেন।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট ও ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহারের ফলে মা মাছ ও মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ধ্বংস হচ্ছে। এতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাছের প্রজনন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে এবং সাধারণ জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

তিনি আরও বলেন, জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শু/সবা