কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোঠাল সীমান্তঘেঁষা এলাকায় রাতের আঁধারে নতুন করে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের খুব কাছাকাছি প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে পাকা সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করা হয়।
খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে বিএসএফ সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয় এবং ধীরে ধীরে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিতে শুরু করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নম্বর ৯৩৪-এর নিকট বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানাধীন মেঘ নারায়ণের কুঠি ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর দীপক কুমার।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৪-এর ১ এস থেকে ৯৩৪-এর ১১ এস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-দিনহাটা সংযোগকারী একটি প্রধান সড়ক রয়েছে। ওই সড়কটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে কোথাও ৫০ থেকে ৭০ গজ, কোথাও ১০০ থেকে ১২০ গজ দূরত্বে অবস্থিত। সড়কের পূর্ব পাশে গত কয়েকদিন ধরে পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়, যা বিএসএফের পাহারায় রাতের আঁধারে চলছিল।
খলিশাকোঠাল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মজির রহমান ও নুর আলম লিপু জানান, গত দুই-তিন দিন ধরে বিএসএফ সদস্যরা পুরোনো সড়কের পাশেই নতুন করে পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বালারহাট ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করেন।
বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুরে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বিজিবির টহল টিম সীমান্তে অবস্থান করছে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বিএসএফ সড়ক নির্মাণের কিছু সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছে।”
এ বিষয়ে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন শিমুলবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার নরেশ চন্দ্র রায় জানান, বিএসএফ নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট করছিল। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। গত বুধবার সন্ধ্যাতেও এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সড়ক নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিজিবি ও বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার (সিও) পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
শু/সবা



















