নওগাঁর বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বদলগাছী লাবণ্য প্রভা পাইলট ও কমিউনিটি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম এবং বদলগাছী মাইলস্টোন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু জার গিফারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শূন্য আসনে মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করতে গত ১৭ জানুয়ারি মাইকিংয়ের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেয় বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা শুরুর মাত্র দুই-তিন মিনিট আগে ফোনের মাধ্যমে পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, বদলগাছী লাবণ্য প্রভা পাইলট ও কমিউনিটি বালিকা বিদ্যালয় এবং বদলগাছী মাইলস্টোন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করার নির্দেশ দেন। সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী তিনি পরীক্ষা স্থগিত করেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, লটারির মাধ্যমে অনেক সময় প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পায় না। সে কারণেই পরীক্ষা নিয়ে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসন পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, একজন অভিভাবক ও দুইজন প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু পাইলট হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে। এমনকি আমার বিদ্যালয়ের একাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর অভিভাবককে প্রলুব্ধ করে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা একজন শিক্ষকের জন্য সম্পূর্ণ বেমানান।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ইউএনও বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে ভর্তি পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, বদলগাছী মাইলস্টোন কোনও স্কুল নয় ওটা একটি কোচিং সেন্টার। তাদের না আছে রেজিষ্ট্রেশন, না আছে পাঠদানের অনুমতি। তারা অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে কোচিং বাণিজ্য করে অন্য স্কুল থেকে পরিক্ষা দেওয়ায়। আবু জার গিফারী একজন কোচিং সেন্টার চালায়। একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের কথা শুনে ইউএনও এধরণের কাজ করতে পারেন না। আর এটা আমরা মানতে পারিনা। তারা পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা চত্বর ত্যাগ না করার ঘোষণা দেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের শান্ত করেন। তিনি জানান, বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শু/সবা






















