প্রতিক বরাদ্দ পেয়ে প্রচারণার প্রথম দিনেই মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। বিএনপি চাই হারানো আসন দখলে নিতে । বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি গণসংযোগ এ বলেন, আমি বিএনপির কাজল জন মানুষের সাথে ছিলাম আছি থাকবো।
কক্সবাজার ০৩ আসনটি বরাবরই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত সংসদীয় আসন। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কেন্দ্রবিন্দু, সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে রাজনীতি মানেই শুধু ভোটের হিসাব নয় এখানে জড়িয়ে আছে ধর্মীয় আবেগ, উন্নয়ন প্রত্যাশা ও দলীয় ঐতিহ্যের দীর্ঘ ইতিহাস।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাঠে সরব হয়ে উঠছে রাজনৈতিক দলগুলো। এরই মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বিএনপির পুরোনো ভোটব্যাংক বা অভিজ্ঞতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, কক্সবাজার ৩ আসনে বিএনপির রয়েছে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি। অতীতে দলটি এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে এবং এখনও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শক্ত নেটওয়ার্ক বিদ্যমান।
তবে দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর চাপ, তরুণ ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা বিএনপি ঘরানার ভোটাররা এখনও পরিবর্তনের আশায় দলটির দিকে তাকিয়ে থাকলেও, নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলছে। দলটি এমন একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন যিনি গ্রহণযোগ্য, আন্দোলনে সক্রিয় এবং স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল। জামায়াতে ইসলামী নীরব সংগঠন, কিন্তু হিসেবের বাইরে নয়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার০৩ আসনে ধীরে কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতিক নিয়ে কৌশলে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। জামায়াতের শক্তির জায়গা শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন,আদর্শভিত্তিক কর্মী, ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট অংশের সমর্থন। বিশেষ করে রামু ও ঈদগাঁও এলাকায় জামায়াতের প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি নির্বাচন অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তাহলে জামায়াত এই আসনে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারে।
এই আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মানুষ এখন শুধু দল নয় প্রার্থী, সততা ও এলাকার বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনা দেখতে চায়।
একজন তরুণ ভোটার বলেন, “আমরা চাই এমন এমপি, যিনি কক্সবাজারের মর্যাদা বোঝেন, শুধু রাজনীতি নয় কাজও করেন।”
আবার একজন প্রবীণ ভোটারের ভাষ্য, “দল যেই হোক, মানুষ ভালো হলে আমরা তাকেই ভোট দেব।”
কক্সবাজার ০৩ আসনে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যকার রাজনৈতিক সমীকরণ দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপির লুৎফুর রহমান কাজল এবং জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুর কে পাচ্ছেন কক্সবাজার – ০৩ আসনের চেয়ার , নির্বাচনের পরিবেশ কেমন থাকবে এবং ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ঝুঁকবেন সব মিলিয়ে এই আসনটি হতে যাচ্ছে নির্বাচনের অন্যতম হটস্পট।
এই আসনে অন্য তিন প্রার্থীরা হচ্ছেন স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতিক নিয়ে মো ইলিয়াস মিয়া, প্রজাপতি প্রতিকে আমজনতার নুরুল আবছার ও লেবার পার্টির আনারস প্রতিক নিয়ে জগদীশ বড়ুয়া।
শু/সবা




















