মহাসড়ক উন্নয়নের নামে জাতির গর্ব ও শ্রদ্ধার প্রতীক বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মুর্যাল ভেঙে ফেলার ঘটনা দেশবাসীর জন্য কষ্টের হয়ে উঠেছে। নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও, পুনর্নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুর্যালটি অক্ষত রেখে কাজ চালানোর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। অনেকের মতে, বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙার আগে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মুর্যাল ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর মুর্যালটি ভেঙে দেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহাসড়ক নির্মাণকাজ শেষে একই নকশায় নতুন করে মুর্যালটি নির্মাণ করা হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক্সকেভেটর দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মুর্যাল ভাঙা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়রা জানান, জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত এই মুর্যালটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও পরিচিত স্থাপনা ছিল। তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার কাজের আওতায় পড়ায় এটি ভেঙে ফেলা হয়।
মাহমুদাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সুমন বলেন, ‘মুর্যালটি মহাসড়কের সম্প্রসারিত সীমানার মধ্যে পড়ে গেছে। ভাঙার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। গ্রামবাসীরাও সেখানে ছিলেন। কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয় এবং বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যও নয়। মুর্যালটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে।’
মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মুর্যাল ভাঙার ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণ সমালোচনা করেছেন। শুনেছি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আমার মনে হয়, মুর্যালটি না ভেঙে স্মৃতি হিসেবে রাখা যেত। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সম্মানে এটি সংরক্ষণ করা উচিত ছিল।’
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মুর্যালটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই অবগত ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলা পরিষদের অর্থায়নে ঠিক একই নকশায় সড়কের পাশেই মুর্যালটি নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।’
এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব এলাহীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো টেক্সট মেসেজেরও কোনো জবাব মেলেনি।
এমআর/সবা




















