১২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগে নারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়লেও এখনও তা কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এবারের নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দেশের সর্বশেষ চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নারীরা সংখ্যাগতভাবে পিছিয়ে ছিলেন। তবে পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণের ধারা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে নারীদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত ছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ভোট বর্জনের কারণে অধিকাংশ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই সময় গাইবান্ধা-২ (সদর) আসন থেকে মাহাবুব আরা গিনি এবং রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী নির্বাচিত হন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র তিন জন। রংপুর-৩ (সদর) আসনে রিটা রহমান, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী এবং গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে মাহাবুব আরা গিনি নির্বাচনে অংশ নেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩৩টি আসনে ২৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহারসহ প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচনে ১৫ জন নারী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে জয়ী হন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে উম্মে কুলসুম স্মৃতি এবং গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৩টি আসনের মধ্যে ১০ জন নারী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন:
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে নুরুন নাহার বেগম (জাতীয় পার্টি), ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আশা মনি (স্বতন্ত্র), দিনাজপুর-৩ আসনে লায়না তুল রীমা (মুসলিম লীগ), রংপুর-৩ আসনে আনোয়ারা ইসলাম রানী (তৃতীয় লিঙ্গ স্বতন্ত্র), রিটা রহমান (স্বতন্ত্র), রংপুর-৪ আসনে প্রগতি বর্মণ তমা (বাসদ), রংপুর-৬ আসনে তাকিয়া জাহান চৌধুরী (স্বতন্ত্র), কুড়িগ্রাম-৪ আসনে শেফালি বেগম (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি), গাইবান্ধা-১ আসনে ছালমা আক্তার (স্বতন্ত্র) এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে রাহেলা খাতুন (বাসদ-মার্কসবাদী)।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রংপুরে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও তা এখনও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়নি। বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীদের মনোনয়ন প্রায়শই প্রতীকী আসনে দেওয়া হয় বা এমন এলাকায়, যেখানে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সাংগঠনিক প্রভাব ছাড়াও নারীদের মাঠে কার্যক্রম ও জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বোর্ডে তাদের কণ্ঠ কম শোনা যায়।

রংপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, “নারীরা শুধু নামকাওয়াস্তে রাজনীতিতে আসছেন না। আমরা মাঠে কাজ করছি, ভোট চাইছি। নারীদের জন্য সমান সুযোগ নেই, এটাই বড় বাধা। এরপরও আমরা সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্য কাজ করছি।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও তা এখনও প্রতীকী। রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোগত সংস্কার, কোটা, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে নারীর অংশগ্রহণ কার্যকর প্রতিনিধিত্বে রূপ নেবে না।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে

আপডেট সময় : ০৭:১২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগে নারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়লেও এখনও তা কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এবারের নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দেশের সর্বশেষ চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নারীরা সংখ্যাগতভাবে পিছিয়ে ছিলেন। তবে পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণের ধারা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে নারীদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত ছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ভোট বর্জনের কারণে অধিকাংশ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই সময় গাইবান্ধা-২ (সদর) আসন থেকে মাহাবুব আরা গিনি এবং রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী নির্বাচিত হন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র তিন জন। রংপুর-৩ (সদর) আসনে রিটা রহমান, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী এবং গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে মাহাবুব আরা গিনি নির্বাচনে অংশ নেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩৩টি আসনে ২৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহারসহ প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচনে ১৫ জন নারী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে জয়ী হন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে উম্মে কুলসুম স্মৃতি এবং গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৩টি আসনের মধ্যে ১০ জন নারী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন:
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে নুরুন নাহার বেগম (জাতীয় পার্টি), ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আশা মনি (স্বতন্ত্র), দিনাজপুর-৩ আসনে লায়না তুল রীমা (মুসলিম লীগ), রংপুর-৩ আসনে আনোয়ারা ইসলাম রানী (তৃতীয় লিঙ্গ স্বতন্ত্র), রিটা রহমান (স্বতন্ত্র), রংপুর-৪ আসনে প্রগতি বর্মণ তমা (বাসদ), রংপুর-৬ আসনে তাকিয়া জাহান চৌধুরী (স্বতন্ত্র), কুড়িগ্রাম-৪ আসনে শেফালি বেগম (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি), গাইবান্ধা-১ আসনে ছালমা আক্তার (স্বতন্ত্র) এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে রাহেলা খাতুন (বাসদ-মার্কসবাদী)।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রংপুরে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও তা এখনও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়নি। বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীদের মনোনয়ন প্রায়শই প্রতীকী আসনে দেওয়া হয় বা এমন এলাকায়, যেখানে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সাংগঠনিক প্রভাব ছাড়াও নারীদের মাঠে কার্যক্রম ও জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বোর্ডে তাদের কণ্ঠ কম শোনা যায়।

রংপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, “নারীরা শুধু নামকাওয়াস্তে রাজনীতিতে আসছেন না। আমরা মাঠে কাজ করছি, ভোট চাইছি। নারীদের জন্য সমান সুযোগ নেই, এটাই বড় বাধা। এরপরও আমরা সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্য কাজ করছি।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও তা এখনও প্রতীকী। রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোগত সংস্কার, কোটা, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে নারীর অংশগ্রহণ কার্যকর প্রতিনিধিত্বে রূপ নেবে না।

শু/সবা