প্রয়াত সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বন্ধুজনের উদ্যোগে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মুহাম্মাদ আকরম খাঁ হলে এ সভার আয়োজন করা হয়।
স্মরণ সভায় সংগঠনের আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক রাজেন্দ্র চন্দ্র দেব মন্টুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আব্দুল বারী, নান্টু রায়, আতিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, গোলাম নবী, শেফালী দেউসি, জয়া শহীদ, শিকদার আব্দুস সালাম, কবি ও সাংবাদিক আশোক ধর, আশামণি, মিজানুর রহমানসহ আরও অনেকে। বক্তারা সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর পেশাগত সততা, সাহসী সাংবাদিকতা ও মানবিক গুণাবলির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ফরহাদ খাঁ ছিলেন আপসহীন ও নীতিবান সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তাঁর নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
ডা. মুক্তাদীরের সঞ্চালনায় স্মরণ সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মাহবুব পাটোয়ারী। এ সময় ইতালি প্রবাসী শহীদ সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর একমাত্র কন্যা আইরিন ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন এবং স্মরণ সভার আয়োজনের জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্মরণ সভায় বক্তারা দ্রুত ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির এই রায়কে স্বাগত জানালেও সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। তারা বলেন, সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর আত্মত্যাগ ও পেশাগত আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি ভাড়া বাসায় দৈনিক জনতার তৎকালীন সিনিয়র সহ-সম্পাদক সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ ও তাঁর স্ত্রী রহিমা খাতুনকে বোনের ছেলে (ভাগ্নে) নাজিমুজ্জামান ইয়ন ও তার বন্ধু রাজু আহমেদ নির্মমভাবে হত্যা করে।
এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ সাংবাদিক ফরহাদের ভাগ্নে নাজিমুজ্জামান ইয়ন ও তার বন্ধু রাজু আহমেদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ হাইকোর্টে আপিল দায়ের করলে ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আবদুল মবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে উভয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
এমআর/সবা





















