জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য মাফ চেয়ে জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগ করতে গিয়ে এক সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এ পরামর্শ দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। শুধু একটা কথা জোর দিয়ে বলতে চাই, এই এলাকায় হিন্দু ভাইয়েরা আছেন, মুসলমান ভাইয়েরা আছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছে। বাড়িঘর ছেড়ে আপনারা চলে গেছেন না ইন্ডিয়াতে? বাড়িঘর সব পুড়ায় দিয়েছিল না?’
ঠাকুরগাঁও শহরের বাড়ির কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাড়িটা ছাড়া কিচ্ছু ছিল না। পেট্রলপাম্পের আন্ডারগ্রাউন্ডের ট্যাংকটাও নিয়ে গিয়েছিল। আমার বাবার কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা ছিল। ট্রাক ছিল অনেকগুলো, সেগুলোও নিয়ে গিয়েছিল। এগুলো ১৯৭১ সালে পাক সেনাবাহিনীরা করেছিল। তখন তাদের কারা সহযোগিতা করেছিল, এটা আমরা খুব ভালো করেই জানি।’
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মাফ চাইছে সেটার জন্য যে ১৯৭১ সালের কৃতকর্মের জন্য মাফ চাই। তো মাফটা চান। বলেন যে, ভুল করেছি ওই সময়। তারপর জনগণের কাছে বলেন যে এবার আমাদের ভোট দেন।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যুদ্ধ করেছি আমার দেশের জন্য, আমার মাটির জন্য, আমার স্বাধীনতার জন্য। ওই স্বাধীনতার জন্য আমার জীবন বিসর্জন দিতেও রাজি আছি। এটাই বাস্তব। এটার জন্যই আমার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। বেগম জিয়া সেই পতাকাই তুলে ধরেছিলেন। তিনি কোনো দিন আপস করেননি। আজ সেই পতাকাই তারেক রহমান তুলে ধরেছেন। আমরা সেই পতাকা এগিয়ে নিয়ে যাব।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আর মাত্র ১৪ দিন পরে ভোট হবে। এই ভোটে যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারি, তাহলে আমরা আবার ভুগব। সারা দেশে বিএনপির যে জনপ্রিয়তা, বিএনপি ইনশা আল্লাহ সরকার গঠন করবে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা কি আমাকে এখানে একটু সুযোগ করে দেবেন, যেন আমি আপনাদের জন্য কিছু উন্নয়নের কাজ আনতে পারি। এখানে যদি আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেন, আমি ইনশা আল্লাহ সরকারে থাকব। তখন আমি আমাদের ছেলেদের চাকরির ব্যবস্থা করতে পারব। আমি আমাদের এই এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে পারব, ইপিজেড করতে পারব, এয়ারপোর্টটাও করতে পারব, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারব। এগুলো করতে হলে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই।’
এমআর/সবা























