5:56 am, Tuesday, 26 May 2026

ভোটার হলেন কারাবন্দি ইনু–মেনন, অনিচ্ছুক মামুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দি কয়েদি ও হাজতি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দেশের ৭৫টি কারাগারে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী প্রস্তাবনায় সাড়া দেওয়া যেসব বন্দি ভোট দেবেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন মামলাধীন হাজতি ও দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা। পাশাপাশি মোট ভোটার সংখ্যার মধ্যে কয়েকজন নারী বন্দিও রয়েছেন। এ ছাড়া কারাবন্দি ভোটারদের মধ্যে আছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও।

গত ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দলগুলোর সাবেক এমপি-মন্ত্রীরাও কারাবন্দি অবস্থায় ভোটার হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননসহ আরও অনেকে।

কারা সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী আগামী ৩, ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধনভুক্ত কারাবন্দিরা পোস্টাল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ ও নওগাঁ জেলার কারাগারে পোস্টাল ব্যালট পেপার পৌঁছেছে।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী দেশের সব কারাগারে বন্দিদের জানানো হয়েছিল তারা ভোট দিতে আগ্রহী কি না। এদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা ৬ হাজার দুইশত প্লাস বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অ্যাপে নিবন্ধন করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন যাচাই–বাছাই শেষে মোট ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, প্রস্তাবনার মাধ্যমে কারাবন্দিদের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করা হয়।

পরে নির্বাচন কমিশন যাচাই–বাছাই করে ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। পোস্টাল ব্যালট পেপার ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ ও নওগাঁ কারাগারে পৌঁছেছে। প্রতিটি ভোটারের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে আলাদা খামযুক্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার পাঠানো হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৩, ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এদিকে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে ১৫টি।

আজকের হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে মোট কারাবন্দির সংখ্যা আনুমানিক ৮৬ হাজার। সব কারাগারে বন্দিদের জানানো হয়, কারা ভোট দিতে ইচ্ছুক। এর মধ্যে বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ৬ হাজার দুইশত প্লাস কারাবন্দি ভোটার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই অনুযায়ী তাদের এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে নিবন্ধন করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন যাচাই–বাছাই শেষে ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

তিনি আরও বলেন, এই ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও রয়েছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলায় কারাবন্দি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও মন্ত্রীসহ মোট ২২ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভোটার হয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছেন সাবেক পাঁচজন সচিব এবং পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ভোটার হতে অনিচ্ছুক হওয়ায় তার নাম নিবন্ধন করা হয়নি।

ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে এসব বন্দি রয়েছেন। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশের শর্তে তাকে ক্ষমা করা হবে বলে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিয়েছিলেন।

ভোটার হওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আবু রেজা নদভী, এম. এ. লতিফ, ডা. এনাম ও কাজী রহিম উল্লাহসহ আরও অনেকে। এছাড়া শিবলী ওবায়েদও রয়েছেন।

ভোটার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—অর্নিবান চৌধুরী, ইফতেখার মাহমুদ, মির্জা সালাউদ্দিন, মো. শহিদুল্লাহ শাহ ও মো. মশিউর রহমান।

তিনি জানান, বিভাগভিত্তিক পোস্টাল ব্যালটে ভোটার কারাবন্দির সংখ্যা হলো —ঢাকা বিভাগ-১-এ ১ হাজার ৪০৯ জন, ঢাকা বিভাগ-২-এ ৯৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৪ জন, সিলেটে ৫১৫ জন, রংপুরে ৩১৫ জন, ময়মনসিংহে ১৫৩ জন, বরিশালে ২৩৮ জন, রাজশাহীতে ৬৮৯ জন এবং খুলনা বিভাগে ৬৮০ জন কারাবন্দি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এমআর/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

16 + 9 =

About Author Information

M Rahman

Popular Post

দেনমোহর (মাহর) : ইসলামী বিবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার

ভোটার হলেন কারাবন্দি ইনু–মেনন, অনিচ্ছুক মামুন

Update Time : ১১:৪১:২৮ pm, Thursday, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দি কয়েদি ও হাজতি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দেশের ৭৫টি কারাগারে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী প্রস্তাবনায় সাড়া দেওয়া যেসব বন্দি ভোট দেবেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন মামলাধীন হাজতি ও দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা। পাশাপাশি মোট ভোটার সংখ্যার মধ্যে কয়েকজন নারী বন্দিও রয়েছেন। এ ছাড়া কারাবন্দি ভোটারদের মধ্যে আছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও।

গত ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দলগুলোর সাবেক এমপি-মন্ত্রীরাও কারাবন্দি অবস্থায় ভোটার হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননসহ আরও অনেকে।

কারা সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী আগামী ৩, ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধনভুক্ত কারাবন্দিরা পোস্টাল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ ও নওগাঁ জেলার কারাগারে পোস্টাল ব্যালট পেপার পৌঁছেছে।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী দেশের সব কারাগারে বন্দিদের জানানো হয়েছিল তারা ভোট দিতে আগ্রহী কি না। এদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা ৬ হাজার দুইশত প্লাস বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অ্যাপে নিবন্ধন করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন যাচাই–বাছাই শেষে মোট ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, প্রস্তাবনার মাধ্যমে কারাবন্দিদের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করা হয়।

পরে নির্বাচন কমিশন যাচাই–বাছাই করে ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। পোস্টাল ব্যালট পেপার ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ ও নওগাঁ কারাগারে পৌঁছেছে। প্রতিটি ভোটারের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে আলাদা খামযুক্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার পাঠানো হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৩, ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এদিকে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে ১৫টি।

আজকের হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে মোট কারাবন্দির সংখ্যা আনুমানিক ৮৬ হাজার। সব কারাগারে বন্দিদের জানানো হয়, কারা ভোট দিতে ইচ্ছুক। এর মধ্যে বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ৬ হাজার দুইশত প্লাস কারাবন্দি ভোটার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই অনুযায়ী তাদের এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে নিবন্ধন করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন যাচাই–বাছাই শেষে ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

তিনি আরও বলেন, এই ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও রয়েছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলায় কারাবন্দি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও মন্ত্রীসহ মোট ২২ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভোটার হয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছেন সাবেক পাঁচজন সচিব এবং পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ভোটার হতে অনিচ্ছুক হওয়ায় তার নাম নিবন্ধন করা হয়নি।

ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে এসব বন্দি রয়েছেন। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশের শর্তে তাকে ক্ষমা করা হবে বলে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিয়েছিলেন।

ভোটার হওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আবু রেজা নদভী, এম. এ. লতিফ, ডা. এনাম ও কাজী রহিম উল্লাহসহ আরও অনেকে। এছাড়া শিবলী ওবায়েদও রয়েছেন।

ভোটার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—অর্নিবান চৌধুরী, ইফতেখার মাহমুদ, মির্জা সালাউদ্দিন, মো. শহিদুল্লাহ শাহ ও মো. মশিউর রহমান।

তিনি জানান, বিভাগভিত্তিক পোস্টাল ব্যালটে ভোটার কারাবন্দির সংখ্যা হলো —ঢাকা বিভাগ-১-এ ১ হাজার ৪০৯ জন, ঢাকা বিভাগ-২-এ ৯৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৪ জন, সিলেটে ৫১৫ জন, রংপুরে ৩১৫ জন, ময়মনসিংহে ১৫৩ জন, বরিশালে ২৩৮ জন, রাজশাহীতে ৬৮৯ জন এবং খুলনা বিভাগে ৬৮০ জন কারাবন্দি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এমআর/সবা