বাংলাদেশ এখন আর কেবল সংকট থেকে উত্তরণের গল্প নয়, বরং অমিত সম্ভাবনার দেশ—এ কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা অসীম সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়। এটি সাহসী, সৃজনশীল ও উদ্যমী তরুণদের দেশ। তাদের প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষা, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ এবং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা—যেখানে মেধা, পরিশ্রম ও সততার মূল্যায়ন রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক দক্ষ, কর্মঠ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মীর চাহিদা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে রয়েছে বিপুল কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী। সঠিক প্রস্তুতি নিলে জাপান, কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল বাংলাদেশের তরুণদের শ্রম, মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগাতে আগ্রহী হবে। বাংলাদেশ নির্ভরযোগ্য দক্ষ জনশক্তি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের খোলা সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়—এটি বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার উন্মুক্ত দরজা। নেপাল, ভূটান ও সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলকে ঘিরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বিশ্বের শীর্ষ বন্দর পরিচালনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। দক্ষতা না বাড়ালে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পণ্যে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা মিলবে। এতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং সরবরাহ চেইন বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিশীল হবে।
জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে তিনি ঐতিহাসিক ও কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, রেলওয়ে সরঞ্জাম, গ্রিন টেকনোলজি ও উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্যে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে যুক্ত হতে পারবে। ফলে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
চীনের সঙ্গেও উন্নয়ন সহযোগিতা গভীরতর হয়েছে বলে জানান তিনি। গত বছর মার্চে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রকল্পে অগ্রগতি এবং নীলফামারিতে এক হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণে দুই দেশের সমঝোতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বল্পমূল্যের শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও মূল্য সংযোজনভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে হবে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে ‘শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সততা’—এই তিনটির কোনো বিকল্প নেই।
শু/সবা





















