ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ২১৯টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ১২১টি এবং জেলার আটটি উপজেলায় রয়েছে আরও ৯৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র।
রংপুর জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোটার সংখ্যা, পূর্বের সহিংসতার ইতিহাস, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা, সীমানা প্রাচীরের অনুপস্থিতি, প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের বাড়ির নিকটবর্তী কেন্দ্র এবং জনবহুল এলাকা বিবেচনায় নিয়ে এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, রংপুর সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ। গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৮টি, তারাগঞ্জে ৭টি, বদরগঞ্জে ৯টি, মিঠাপুকুরে ১০টি, পীরগঞ্জে সর্বোচ্চ ২৯টি, পীরগাছায় ১১টি এবং কাউনিয়া উপজেলায় ১২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অন্যদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। কোতোয়ালী থানা এলাকায় ৭৫টির মধ্যে ৩১টি, হারাগাছ থানা এলাকায় ৪৫টির মধ্যে ৩৫টি, হাজিরহাটে ২৪টির মধ্যে ১৫টি, মাহিগঞ্জে ২২টির মধ্যে ১৪টি, পরশুরামে ১৫টির মধ্যে ১০টি এবং তাজহাট থানা এলাকায় ২৩টির মধ্যে ১৬টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলো সাধারণ হিসেবে বিবেচিত।
রংপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ছয়টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৮৭৩টি। এর মধ্যে রংপুর-১ আসনে ১৩৯টি, রংপুর-২ আসনে ১৩৭টি, রংপুর-৩ আসনে ১৬৯টি, রংপুর-৪ আসনে ১৬৩টি, রংপুর-৫ আসনে ১৫২টি এবং রংপুর-৬ আসনে ১১৩টি ভোটকেন্দ্র।
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন, পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩১ জন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
শু/সবা



















