ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার চেয়েও অনুমতি পাননি ট্রাম্প » দৈনিক সবুজ বাংলা
০৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার চেয়েও অনুমতি পাননি ট্রাম্প

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার লক্ষ্যে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এতে সায় দেননি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ব্রিটিশ সরকার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুমতির বিষয়ে অনড় অবস্থান নেওয়ায় স্টার্মারের সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স–এর একটি ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে ব্রিটেন এতে সম্মতি দেয়নি।

এদিকে ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বোঝাপড়ায় আসুন, না হলে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।’ ওই পোস্টে তিনি একটি ‘ভয়ংকর রকমের অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শাসনের’ অবসান ঘটাতে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই মন্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর শাসনব্যবস্থার দিকে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সুইন্ডনের ওই ঘাঁটি থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিকল্পনা থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ২০০১ সালের ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কোনো মিত্র রাষ্ট্র সামরিক অভিযান পরিচালনা করলে ব্রিটেন সেই অভিযানের দায় আংশিকভাবে ভাগ করে নেয়—শর্ত হলো, অভিযানের বিষয়ে আগে থেকেই বিস্তারিত অবহিত করা। সুইন্ডনের ঘাঁটি ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনকে আগাম জানাতে বাধ্য নয়। এ কারণেই নিজেদের অজান্তে বড় কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না স্টার্মার সরকার।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অঞ্চলে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়েছে।

অন্যদিকে সিএনএনসিবিএস নিউজ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই ইরানে হামলার জন্য ‘প্রস্তুত’ রয়েছে মার্কিন সেনারা। তবে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

শু/ সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার চেয়েও অনুমতি পাননি ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১১:০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার লক্ষ্যে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এতে সায় দেননি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ব্রিটিশ সরকার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুমতির বিষয়ে অনড় অবস্থান নেওয়ায় স্টার্মারের সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স–এর একটি ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে ব্রিটেন এতে সম্মতি দেয়নি।

এদিকে ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বোঝাপড়ায় আসুন, না হলে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।’ ওই পোস্টে তিনি একটি ‘ভয়ংকর রকমের অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শাসনের’ অবসান ঘটাতে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই মন্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর শাসনব্যবস্থার দিকে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সুইন্ডনের ওই ঘাঁটি থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিকল্পনা থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ২০০১ সালের ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কোনো মিত্র রাষ্ট্র সামরিক অভিযান পরিচালনা করলে ব্রিটেন সেই অভিযানের দায় আংশিকভাবে ভাগ করে নেয়—শর্ত হলো, অভিযানের বিষয়ে আগে থেকেই বিস্তারিত অবহিত করা। সুইন্ডনের ঘাঁটি ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনকে আগাম জানাতে বাধ্য নয়। এ কারণেই নিজেদের অজান্তে বড় কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না স্টার্মার সরকার।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অঞ্চলে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়েছে।

অন্যদিকে সিএনএনসিবিএস নিউজ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই ইরানে হামলার জন্য ‘প্রস্তুত’ রয়েছে মার্কিন সেনারা। তবে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

শু/ সবা