10:59 am, Tuesday, 28 April 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আগে বিএনপি-জামায়াতের সম্মতি ছিল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার আগে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সম্মতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বুধবার (৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

খলিলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) নির্বাচনের আগেই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিল এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। “সুতরাং এমন নয় যে, আমরা এটি অন্ধকারে করেছি। চুক্তিটি ঠিক নির্বাচনের তিন দিন আগে সম্পন্ন হয়েছে— এমন ধারণা সঠিক নয়,” বলেন তিনি।

চুক্তির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর এপ্রিল মাসে পারস্পরিক শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করা হলে এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত টানা আলোচনা চলে।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের সঙ্গেই নয়, আরও অনেক দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের আলোচনা করেছে। আলোচনার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা সুতা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ পাল্টা শুল্ক এবং ‘রুলস অব অরিজিন’ নির্ধারণে কিছুটা সময় লাগে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা তাদের বলেছিলাম, আমেরিকান তুলা বা মানুষের তৈরি তন্তু দিয়ে উৎপাদিত যে পোশাক আমরা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করব, সেখানে আমরা শূন্য শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাই। এটি কার্যকর করতে তাদের সময় লেগেছে। মনে রাখতে হবে, এটি আমাদের স্বার্থেই করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ‘রুলস অব অরিজিন’ নির্ধারণেও যুক্তরাষ্ট্র সময় নিয়েছে। গত বছরের ৩১ জুলাই চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয় এবং ১ আগস্ট থেকে ২০ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হয়। তাই এটি হঠাৎ করে নির্বাচনের তিন দিন আগে করা হয়েছে— এমন ধারণা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

12 − 1 =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আগে বিএনপি-জামায়াতের সম্মতি ছিল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৮:৪১:১৬ pm, Wednesday, ৪ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার আগে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সম্মতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বুধবার (৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

খলিলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) নির্বাচনের আগেই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিল এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। “সুতরাং এমন নয় যে, আমরা এটি অন্ধকারে করেছি। চুক্তিটি ঠিক নির্বাচনের তিন দিন আগে সম্পন্ন হয়েছে— এমন ধারণা সঠিক নয়,” বলেন তিনি।

চুক্তির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর এপ্রিল মাসে পারস্পরিক শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করা হলে এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত টানা আলোচনা চলে।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের সঙ্গেই নয়, আরও অনেক দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের আলোচনা করেছে। আলোচনার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা সুতা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ পাল্টা শুল্ক এবং ‘রুলস অব অরিজিন’ নির্ধারণে কিছুটা সময় লাগে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা তাদের বলেছিলাম, আমেরিকান তুলা বা মানুষের তৈরি তন্তু দিয়ে উৎপাদিত যে পোশাক আমরা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করব, সেখানে আমরা শূন্য শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাই। এটি কার্যকর করতে তাদের সময় লেগেছে। মনে রাখতে হবে, এটি আমাদের স্বার্থেই করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ‘রুলস অব অরিজিন’ নির্ধারণেও যুক্তরাষ্ট্র সময় নিয়েছে। গত বছরের ৩১ জুলাই চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয় এবং ১ আগস্ট থেকে ২০ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হয়। তাই এটি হঠাৎ করে নির্বাচনের তিন দিন আগে করা হয়েছে— এমন ধারণা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শু/সবা