লেবানন ও ইসরায়েল নতুন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র দুই দেশের সার্বভৌম সরকারেরই রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে লেবাননের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর সদস্য ও অপারেটিভদের সরিয়ে নিতে হবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লেবাননে কয়েকটি পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলা হবে, যেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না। এসব এলাকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে।
গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হওয়া এবং এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা হুমকির মুখে পড়ে।
এর আগে গত সোমবার একটি আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। ওই সমঝোতায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতে বড় ধরনের হামলা চালাবে না বলে জানানো হয়।
তবে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি দাবি করেছেন, কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি হয়নি; শুধু বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মানতে হিজবুল্লাহ বাধ্য নয়।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করেছেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি নিরাপদ ও স্বাধীন লেবানন গঠনের পথ তৈরি হবে।
একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আগামী ২২ জুন আবারও আলোচনায় বসবে লেবানন ও ইসরায়েল। তবে নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ।
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























