লিচুর রাজধানী হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে বাজারে উঠতে শুরু করেছে সুস্বাদু ও রসালো বেদানাসহ বিভিন্ন জাতের লিচু। আর এসব লিচুবাগানে গাছ থেকে লিচু সংগ্রহের সময় যেগুলো নিচে ঝরে পড়ে, সেগুলো কুড়িয়ে বিক্রি করে টিফিন ও লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছে দরিদ্র শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা।
ঈদুল আজহার ছুটিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ভোরেই লিচুবাগানে ছুটছে শিশুরা। বাগান থেকে কুড়িয়ে আনা ঝরা লিচু পরে তারা সড়কের ধারে বসে বিক্রি করছে। এতে তাদের বাড়তি আয় হচ্ছে।
দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ সড়কের বিরল উপজেলার ধুকুরঝাড়ী বাজার এলাকায় দেখা গেছে, ফুটপাতে বসেছে ঝরা লিচুর ছোট ছোট বাজার। সেখানে শিশু-কিশোররা লিচু নিয়ে বসে আছে। ক্রেতারা এলে তারা দরদাম করে লিচু বিক্রি করছে।
কম দামে লিচু কিনতে সেখানে ভিড় করছেন স্বল্প আয়ের মানুষও। কৃষিশ্রমিক আব্দুল কাদের বলেন, বাজারে লিচুর দাম অনেক বেশি। তাই এখানে কম দামে ঝরা লিচু কিনতে এসেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য ২৫ টাকা দিয়ে ২৫টি লিচু কিনেছেন তিনি।
আরেক ক্রেতা নাজমা আক্তার বলেন, পথে শিশুদের এই লিচুর বাজার দেখে থেমেছেন। দাম কম হওয়ায় সন্তানদের জন্য কিছু লিচু কিনেছেন।
রাস্তার পাশে লিচু বিক্রি করা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, প্রতিদিন লিচু কুড়িয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। সেই টাকা জমিয়ে স্কুলের টিফিন খরচ চালাবে তারা। বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে খাবারও খাবে।
এলাকাবাসীর মতে, বিভিন্ন বাগানে ঝরে পড়া লিচু এখন দরিদ্র শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের টিফিন খরচের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, জেলার ১৩ উপজেলাতেই কমবেশি লিচুর চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ হাজার ৫৮০টি গাছে লিচু উৎপাদন হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন।
তিনি বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদরও ভালো থাকায় এবার লিচু খাত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা করা হচ্ছে।
শু/সবা
রংপুর ব্যুরো: 

















