10:54 pm, Wednesday, 10 June 2026

হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি, কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলা

কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পর কেশম দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে তাদের যোগাযোগ অবকাঠামোয় মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর জবাবে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে চারটি তেলবাহী ট্যাংকার প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছাড়া হরমুজ প্রণালি ত্যাগের চেষ্টা করলে তাদের নৌবাহিনী সতর্কবার্তা দেয়। পরে একটি ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং বাকি জাহাজগুলো ফিরে যায়। এরপর রাত আড়াইটার দিকে কেশম ও সিরিক এলাকায় আইআরজিসির দুটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। মার্কিন বাহিনী চারটি ড্রোন ভূপাতিত করে এবং পরবর্তীতে ইরানের কেশম দ্বীপ ও গোরুক এলাকার রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। পরে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার ছয়টি ভূপাতিত করা হয় এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি হলে তাদের প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকবে না। তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বহন করতে হবে।

বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

 

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

two + ten =

About Author Information

বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক কর্মশালা

হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি, কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলা

Update Time : ০৪:৫৮:১১ pm, Saturday, ৬ জুন ২০২৬

কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পর কেশম দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে তাদের যোগাযোগ অবকাঠামোয় মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর জবাবে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে চারটি তেলবাহী ট্যাংকার প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছাড়া হরমুজ প্রণালি ত্যাগের চেষ্টা করলে তাদের নৌবাহিনী সতর্কবার্তা দেয়। পরে একটি ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং বাকি জাহাজগুলো ফিরে যায়। এরপর রাত আড়াইটার দিকে কেশম ও সিরিক এলাকায় আইআরজিসির দুটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। মার্কিন বাহিনী চারটি ড্রোন ভূপাতিত করে এবং পরবর্তীতে ইরানের কেশম দ্বীপ ও গোরুক এলাকার রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। পরে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার ছয়টি ভূপাতিত করা হয় এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি হলে তাদের প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকবে না। তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বহন করতে হবে।

বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

 

শু/সবা