০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় কপোতাক্ষ ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা গ্রামবাসী

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৩
  • 178
 সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকা জুড়ে বয়ে চলা কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাধ ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসিরা। ভাঙনের পলে ঝুঁকিতে রয়েছে একটি এতিমখানার অর্ধ শতাধিক ছাত্র ও প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ।
এতে বিলীন হতে পারে চাষের জমি, বসতঘর, ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ, কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ লাখ লাখ টাকার সম্পত্তি।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলার পাটকেলঘাটা থানা হতে এক কিলোমিটার দূরে দলুয়া আচিমতলা নামক স্থানে নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। অতিদ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এতে ক্ষতির শেষ থাকবে না এসব এলাকার মানুষের। এছাড়া ভাঙন কবলিত এলাকায় গত ৮ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হওয়া রহমতুল্লাহ আওরঙ্গী এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে।  যেখানে ৬০ জন ছাত্র আবাসিক ভাবে লেখাপড়া শেখেন। ভাঙন আতঙ্কে তাদের মানসিকতার ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাবউদ্দীন,আব্দুল গফফার মোড়ল, মিন্টু মোড়ল, মোজাফফর মোড়ল, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সবুর জানান, কপোতাক্ষ নদের ভাটি অঞ্চল আচিমতলা নামক স্থানে নদ পুনঃ খননের সময় মূল নকশা অনুযায়ী খনন না করে প্রবাহিত অঞ্চল দিয়ে নদ খনন করায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদের অপর প্রান্ত কুমিরা আচিমতলা এলাকায় ভূমি গঠন সহ বিস্তীর্ণ চর জেগে উঠছে। এদিকে ভাঙন কবলিত এলাকা আচিমতলার অধিবাসীদের পৈত্রিক ভিটাবাড়ি সহ আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হতেই আছে।
এতিমখানার শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন, মেহেদী হাসান সহ আরো কয়েকজন জানান, তাদের পিতা মাতা নেই। বুদ্ধিজ্ঞান হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসাই ঘরবাড়ি। যখন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিলাম সে সময় মাদ্রার পিছনে নদের ধারে গাছ-গাছালি সহ পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। তা এখন ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আমাদের ক্লাস রুম সহ থাকার ঘর কখন জানি নদে ভেঙ্গে পড়ে এ ভয়ে ঘুম আসে না। শুধু তাই নয় ভাঙনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ততকালীন ঈদগাহ, কবরস্থান বিলীনের পথে। এর থেকে পরিত্রাণে ২০২৩ সালের আগষ্ট মাসে ক্ষতিগ্রস্থরা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করলেও এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকরিতা না হওয়ায় স্থানীয়দের দিন কাটছে চরম উৎকন্ঠায়।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, বিষয়টি জেনেছি। অতি দ্রুত ভাঙন রক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় কপোতাক্ষ ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা গ্রামবাসী

আপডেট সময় : ০১:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৩
 সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকা জুড়ে বয়ে চলা কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাধ ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসিরা। ভাঙনের পলে ঝুঁকিতে রয়েছে একটি এতিমখানার অর্ধ শতাধিক ছাত্র ও প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ।
এতে বিলীন হতে পারে চাষের জমি, বসতঘর, ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ, কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ লাখ লাখ টাকার সম্পত্তি।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলার পাটকেলঘাটা থানা হতে এক কিলোমিটার দূরে দলুয়া আচিমতলা নামক স্থানে নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। অতিদ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এতে ক্ষতির শেষ থাকবে না এসব এলাকার মানুষের। এছাড়া ভাঙন কবলিত এলাকায় গত ৮ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হওয়া রহমতুল্লাহ আওরঙ্গী এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে।  যেখানে ৬০ জন ছাত্র আবাসিক ভাবে লেখাপড়া শেখেন। ভাঙন আতঙ্কে তাদের মানসিকতার ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাবউদ্দীন,আব্দুল গফফার মোড়ল, মিন্টু মোড়ল, মোজাফফর মোড়ল, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সবুর জানান, কপোতাক্ষ নদের ভাটি অঞ্চল আচিমতলা নামক স্থানে নদ পুনঃ খননের সময় মূল নকশা অনুযায়ী খনন না করে প্রবাহিত অঞ্চল দিয়ে নদ খনন করায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদের অপর প্রান্ত কুমিরা আচিমতলা এলাকায় ভূমি গঠন সহ বিস্তীর্ণ চর জেগে উঠছে। এদিকে ভাঙন কবলিত এলাকা আচিমতলার অধিবাসীদের পৈত্রিক ভিটাবাড়ি সহ আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হতেই আছে।
এতিমখানার শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন, মেহেদী হাসান সহ আরো কয়েকজন জানান, তাদের পিতা মাতা নেই। বুদ্ধিজ্ঞান হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসাই ঘরবাড়ি। যখন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিলাম সে সময় মাদ্রার পিছনে নদের ধারে গাছ-গাছালি সহ পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। তা এখন ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আমাদের ক্লাস রুম সহ থাকার ঘর কখন জানি নদে ভেঙ্গে পড়ে এ ভয়ে ঘুম আসে না। শুধু তাই নয় ভাঙনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ততকালীন ঈদগাহ, কবরস্থান বিলীনের পথে। এর থেকে পরিত্রাণে ২০২৩ সালের আগষ্ট মাসে ক্ষতিগ্রস্থরা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করলেও এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকরিতা না হওয়ায় স্থানীয়দের দিন কাটছে চরম উৎকন্ঠায়।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, বিষয়টি জেনেছি। অতি দ্রুত ভাঙন রক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।