আপনারা কখনো বলবেন না মুক্তিযুদ্ধে নারীদের সম্ভ্রম হানি অথবা ইজ্জত হানি হয়েছে বলবেন তাঁরা নির্যাতিত হয়েছিলো। মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপ- উপাচার্য অধ্যাপক বেণু কুমার দে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো মহান বিজয় দিবস উদযাপন ২০২৩। শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় স্বাধীনতা স্মারক ভাষ্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ১১টার দিকে স্বাধীনতা ভাস্কর্য চত্ত্বর থেকে বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর পর্যন্ত বিজয় র্যালি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে বেলা ১১:৪৫ এর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমেদের সভাপতিত্বে ও প্রক্টর প্রফেসর ড. নুরুল আজিম শিকদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপ- উপাচার্য প্রফেসর বেণু কুমার দে।
আলোচনা সভায় মেরিন সায়েন্সস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, একটা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করার চাইতে রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মকে মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করতে হবে।
আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আব্দুল্যাহ আল ফারুক বলেন, আমরা ৩০ লক্ষ শহিদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। বিজয়ের ৫২ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে দূর্বার। বাংলাদেশ জিডিপিতে ভারত পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে সামনের সারিতে অবস্থান করছে। মানবিকতা, উন্নয়ন ও সহায়তায় বাংলাদেশ পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে এগিয়ে আছে। বিজয়ের দিনে আমি বলবো দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আবার আমরা ক্ষমতায় আনতে হবে। মুক্তি যুদ্ধের স্বপক্ষে অবস্থানরত পক্ষকে ক্ষমতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্যাহ আল
মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার যে প্রত্যয় ছিল সে প্রত্যয়কে চেয়েছিল তাকে হত্যার মাধ্যমে নস্যাৎ করবে, কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা এই পরাশক্তিকে কঠোর হাতে দমন করেছিলেন এবং দেশকে উন্নয়নের পথে অগ্রে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আর্শিত হয়, তাহলে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাসে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে ও জানান দিতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে অগ্রে নিয়ে যেতে যেভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আমরা তার পক্ষে সমর্থক প্রার্থীকে ক্ষমতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. বেণু কুমার দে বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছর দেশের অপশক্তি যেভাবে আমাদেরকে শোষন করে কিন্তু আমাদের জাতির জনক তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে দেশ স্বাধীন করেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন করেও রাষ্ট্রদ্রোহির হাতে শহিদ হন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সকল কিছু উন্নয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বক্তব্যের এক পর্যায় তিনি আরও বলেন আমরা জাতিসংঘে জেনোসাইড ও বাংলাভাষাকে সপ্তম ভাষা হিসেবে স্বীকৃত দিতে জোর দাবি জানিয়েছি।মাতৃভাষা ছাড়া আমাদের কোন উন্নতি করতে পারবেনা। দেশকে উন্নয়ন করতে হলে আমাদের মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করতে হবে। নারীকে তার মর্যাদা আসন দিতে হবে। আর নারীর অধিকার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন। আমাদের রক্তের ঋণ শোদ করতে হলেও আমাদেরকে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করতে হবে। আপনাদেরকে আমি হাত জোর করে বলছি
সম্ভ্রম হানি বা ইজ্জত হানি বলবেন না বলবেন, মা বোনেরা নির্যাতিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, আমরা যখন বিজয় দিবসের কথা চিন্তা করি তখন একজনের কথা মনে পড়ে। তিনি ছাত্র জীবন কিশোর জীবনে নেতৃত্ব দিতেন। তিনি অল্প বয়সে গোপালগঞ্জে নেতা ছিলেন। আমরা জানি বাঙালি কখনো স্বাধীন ছিলো না। তাদেরকে সব সময় শোষণ করা হয়েছে। বাঙালি সব সময় ছুটেছে স্বাধীনের জন্য কিন্তু পারেনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এমন একজন মানুষ যিনি এখানকার হাওয়া বাতাসে বেড়ে উঠেছেন। দেশ স্বাধীন করেছেন। তার হাত ধরে তার সুযোগ্য কন্যা স্বাধীনতার ৫২ বছরে বাংলাদেশের অনেক অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। আজকে কক্সবাজারে মত জায়গায় ট্রেন চলেছে। কর্ণফুলী নদীতে টানেল হয়েছে। আমাদের আগামীতে দেশের উন্নয়নের জন্য আবারও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার বিকল্প নাই।


























