০২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চবি ‘বি-২’ উপ-ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে বহিষ্কার দুই পরীক্ষার্থী 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের ‘বি-২’ উপ-ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা খাওয়ায় দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরীক্ষায় ওএমআর পরিবর্তন করে একজনের প্রশ্নের উত্তর আরেকজন দাগিয়ে দেওয়ার কারণে ওই দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮জানুয়ারি) বি-২ উপ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে চবির শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনের তৃতীয় তলায় ইতিহাস বিভাগের ৩০২৩ নম্বর কক্ষে ঘটনাটি ঘটে।
সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে বেলা ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ‘বি-২’ উপ–ইউনিটের পরীক্ষা হয়।
বহিষ্কৃত দুই পরীক্ষার্থীর দুজনই রাজশাহীর আত্রাই আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের  মোহাম্মদ মুত্তালিব এবং আরেকজন রাজশাহীর হাফিজুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘ নকল ধরা পড়ার বিষয়টা প্রথমে যারা পরীক্ষক আছে তারা দেখেন। তারা দেখেন যে দুইজন তাদের ওএমআর পরিবর্তন করেছে। তাৎক্ষণিক আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনের তৃতীয় তলায় যাই। সেখানে ইতিহাস বিভাগের ৩০২৩ নম্বর কক্ষে ঘটনাটি ঘটে।’
তিনি জানান, “সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসি। এখানে এনে তাদের কাছের থেকে মুচলেকা নিয়েছি। এটা মূলত তাদের সাবধান করার জন্য। তাদের পরীক্ষা তো বাতিল করা হয়েছেই। তাদের বাবা-মা কে আমরা ডাকাইনি। কারণ আমরা শুধু সতর্ক করতে চেয়েছি, যেন তারা ভবিষ্যতে আরও কোনজয়গায় পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন এমন ভুল না করে।”
বি-২ উপ-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় ৮৭ দশমিক ৮১ শতাংশ পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের মতো এ বছরও এই উপ–ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা শুধু মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরিয়া ভবনে (নতুন কলা অনুষদ) এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ ও পালি বিভাগ নিয়ে গঠিত হয়েছে বি-২ উপ–ইউনিট। এতে বিজ্ঞান, ব্যবসা ও প্রশাসন ও মানবিক বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ বছর ২৮০টি আসনের বিপরীতে আসনের বিপরীতে ৪ হাজার ৮৪৯ শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় বসেছেন ৪ হাজার  ২৫৮ জন। বাকি ৫৯১ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি। সে হিসাবে পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ৮৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।
আজ দুপুরে উপস্থিতির এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি-২’ উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. ইকবাল শাহীন খান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ৪ হাজার ৮৪৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ২৫৮ জন পরীক্ষা দিয়েছেন।
বি-২ উপ-ইউনিটে বাংলা বা ঐচ্ছিক ইংরেজিতে ২০, ইংরেজিতে ২০, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, বুড্ডিস্ট স্টাডিজ ও পালি এবং সাধারণ জ্ঞানে (যেকোনো দুটি বিষয় উত্তর দিতে হবে) ৬০ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বাংলায় ন্যূনতম ৫, ইংরেজিতে ৫, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে, বুড্ডিস্ট স্টাডিজ ও পালি ১২ আর সাধারণ জ্ঞানে ৯ নম্বর পেতে হবে।
শু/সবা
জনপ্রিয় সংবাদ

চবি ‘বি-২’ উপ-ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে বহিষ্কার দুই পরীক্ষার্থী 

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের ‘বি-২’ উপ-ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা খাওয়ায় দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরীক্ষায় ওএমআর পরিবর্তন করে একজনের প্রশ্নের উত্তর আরেকজন দাগিয়ে দেওয়ার কারণে ওই দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮জানুয়ারি) বি-২ উপ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে চবির শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনের তৃতীয় তলায় ইতিহাস বিভাগের ৩০২৩ নম্বর কক্ষে ঘটনাটি ঘটে।
সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে বেলা ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ‘বি-২’ উপ–ইউনিটের পরীক্ষা হয়।
বহিষ্কৃত দুই পরীক্ষার্থীর দুজনই রাজশাহীর আত্রাই আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের  মোহাম্মদ মুত্তালিব এবং আরেকজন রাজশাহীর হাফিজুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘ নকল ধরা পড়ার বিষয়টা প্রথমে যারা পরীক্ষক আছে তারা দেখেন। তারা দেখেন যে দুইজন তাদের ওএমআর পরিবর্তন করেছে। তাৎক্ষণিক আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনের তৃতীয় তলায় যাই। সেখানে ইতিহাস বিভাগের ৩০২৩ নম্বর কক্ষে ঘটনাটি ঘটে।’
তিনি জানান, “সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসি। এখানে এনে তাদের কাছের থেকে মুচলেকা নিয়েছি। এটা মূলত তাদের সাবধান করার জন্য। তাদের পরীক্ষা তো বাতিল করা হয়েছেই। তাদের বাবা-মা কে আমরা ডাকাইনি। কারণ আমরা শুধু সতর্ক করতে চেয়েছি, যেন তারা ভবিষ্যতে আরও কোনজয়গায় পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন এমন ভুল না করে।”
বি-২ উপ-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় ৮৭ দশমিক ৮১ শতাংশ পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের মতো এ বছরও এই উপ–ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা শুধু মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরিয়া ভবনে (নতুন কলা অনুষদ) এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ ও পালি বিভাগ নিয়ে গঠিত হয়েছে বি-২ উপ–ইউনিট। এতে বিজ্ঞান, ব্যবসা ও প্রশাসন ও মানবিক বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ বছর ২৮০টি আসনের বিপরীতে আসনের বিপরীতে ৪ হাজার ৮৪৯ শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় বসেছেন ৪ হাজার  ২৫৮ জন। বাকি ৫৯১ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি। সে হিসাবে পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ৮৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।
আজ দুপুরে উপস্থিতির এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি-২’ উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. ইকবাল শাহীন খান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ৪ হাজার ৮৪৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ২৫৮ জন পরীক্ষা দিয়েছেন।
বি-২ উপ-ইউনিটে বাংলা বা ঐচ্ছিক ইংরেজিতে ২০, ইংরেজিতে ২০, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, বুড্ডিস্ট স্টাডিজ ও পালি এবং সাধারণ জ্ঞানে (যেকোনো দুটি বিষয় উত্তর দিতে হবে) ৬০ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বাংলায় ন্যূনতম ৫, ইংরেজিতে ৫, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে, বুড্ডিস্ট স্টাডিজ ও পালি ১২ আর সাধারণ জ্ঞানে ৯ নম্বর পেতে হবে।
শু/সবা