❖বছর না ঘুরতেই সিস্টেম বিপর্যয়
❖স্বাভাবিক যাত্রীসেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা
❖শিডিউল বিপর্যয়, ডিসপ্লে সমস্যাসহ কারিগরি নানান ত্রুটি
জটের নগরী ঢাকায় অনেকটা আশির্বাদ হয়ে এসেছে জাদুর মেট্রো রেল। যানজটমুক্ত নির্বিঘ্ন চলাচল, পরিবেশবান্ধব এই বাহন অল্প সময়েই মন জয় করে ঢাকাবাসীর। তবে উদ্বোধনের কয়েকমাস পর থেকেই যান্ত্রিক ত্রুটির ফাঁদে পড়ে বাহনটি। বিগত কয়েকমাস যা নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন-তখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চলাচলের দ্রুততম এই বাহনটি। কখনো যান্ত্রিক জটিলতা, কখনো ঘুড়ি, কখনও ফানুস, কখনও বা বিদ্যুৎ, ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক কারণসহ নানা কারণে থেমে যাচ্ছে মেট্রো রেলের চাকা। আবার যাত্রীদের এমআরটি পাস নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফলে ভরসার মেট্রো রেল মাঝে মাঝেই হয়ে উঠেছে অনিশ্চয়তার কারণ।
সবশেষ মে মাসের শেষ সপ্তাহে ৪ বার কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয় মেট্রো রেল। এর মধ্যে ২৫ মে দুইবার বন্ধ হয় মেট্রো সেবা। গত মঙ্গলবার রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী শেষ ট্রিপের মেট্রো রেল কারিগরি ত্রুটিতে পরে। ত্রটির কারণে স্টেশনে গেল খুলতে ও লাগাতে দেরি, পরে ঘোষণা দেয়া হয় যে, সিস্টেম ত্রুটির কারণে ট্রেনটি ১৫ কিলোমিটার গতিতে চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ট্রেনটি বিজয় সরণী পার হওয়ার পর স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসে বলে জানান যাত্রীরা।
সাম্প্রতিক জটিলতাগুলো ভাবাচ্ছে জরুরি সময়ে হঠাৎ আটকে পড়া নিয়ে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই চলতে চলতে হঠাৎ বন্ধ হচ্ছে মেট্রো রেল। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নানা সময়ে নানা কারণ দেখাচ্ছে। কখনও অল্প সময়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা বললেও ঘণ্টাখানেকও বিলম্ব হচ্ছে। ফলে যাত্রীরা যে সময়ের পরিকল্পনা নিয়ে মেট্রো রেল এসেছিলেন বা কাজের পরিকল্পনা করেছিলেন, তা অনিশ্চয়তার কবলে পড়ছে।
শুধু রেল নয় অন্য সেবাগুলোতেও রয়েছে নানান ত্রুটি। কাজীপাড়া স্টেশনের টাইম ডিসপ্লে বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। এতে ট্রেন আসার সময়ক্ষণ জানতে পারছে না যাত্রীরা। আবার অনেক সময় অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন আসার সময় ঘোষণারও কয়েক মিনিট পর ট্রেন আসে। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও সচিবালয় স্টেশনে ১ নং প্লাটফর্মে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে সাউন্ড সিস্টেম। আছে এমআরটি পাস নিয়েও ভোগান্তি। যাত্রীদের অভিযোগ কোনো কারণ ছাড়াই অকার্যকর হয় কার্ড।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু মেট্রো রেলে। প্রথম দিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে চললেও গত বছরের নভেম্বর থেকে পুরো দমে শুরু হয়েছে মেট্রো রেলের কার্যক্রম। দৈনিক ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় চলাচল করছে আধুনিক এই বাহনটি। তবে যাত্রীদের দাবি দিন-রাত ২৪ ঘন্টা চালু হোক মেট্রো সেবা। কর্তৃপক্ষ মধ্যরাতেও মেট্রাসেবা চালুর ঘোষণা দিলেও তা এখনও বাস্তবায়ন স্মভব হয়নি।
মেট্রো রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) একটি সূত্র জানায়, হুটহাট মেট্রো বন্ধ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ আগের চেয়ে বেশি তৎপর হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির জন্য মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকলেও কীভাবে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএমটিসিএলের আরেকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, মেট্রো রেলে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে পুরো ব্যবস্থা বন্ধ করে এর কারণ খুঁজতে হয়। এরপর ত্রুটি চিহ্নিত করে সমাধান করার পর পুনরায় চালু করলেই মেট্রো রেল চলা শুরু করে না। পুরো ব্যবস্থাটি পুনরায় চালু হতে সময় লাগে।
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘মানুষ কম সময়ের মধ্যে কোথাও যেতে চাইলে মেট্রো রেলকে ভরসা করে। আর দিন দিন মেট্রো রেলের চাহিদা বাড়ছে। ঠিক এ সময়ের মধ্যে হুটহাট মেট্রো রেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা বিপাকে পড়ে যায়। যার জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মেট্রো রেলে। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করা।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শুধু আমাদের দেশে নয়, উন্নত অনেক দেশেও মেট্রো রেল যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য বন্ধ হয়। তবে আমরা সব সময় চেষ্টা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেট্রো রেলের যান্ত্রিক ত্রুটি হলে সেটির সমাধান করা বলে জানান তিনি।























