দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। শনিবার সকাল থেকে লঞ্চ ও ফেরিঘাটে ভিড় দেখা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকায় দৌলতদিয়া প্রান্তে সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২২ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা রাজধানীগামী মানুষ দূরপাল্লার বাস, মাহেন্দ্র, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে ঘাটে এসে ফেরি ও লঞ্চে নদী পার হচ্ছেন। ঢাকামুখী যানবাহনের সারি ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। গরমের মধ্যে যানজটে আটকে থাকায় অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। অপরদিকে দূরপাল্লার গণপরিবহনের থেকে ব্যাক্তিগত গাড়ির চাপ বেশি লক্ষ করা গেছে।
কুমারখালি থেকে আসা দূরপাল্লার একটি পরিবহনের ঘাট সুপারভাইজার বারেক মন্ডল বলেন, আজ দুপুরের আগপর্যন্ত ঘাট এলাকায় যাত্রী বা যানবাহনের তেমন চাপ ছিল না। বেলা দুইটার পর থেকে যানবাহনের সঙ্গে মানুষও আসতে শুরু করেছে। অপরদিকে পণ্যবাহী ট্রাক ঈদের আগে ৫ দিন ও পরে ৫ দিন বন্ধ থাকার কথা থাকলেও আজ অনেক গড়িই নদী পার হতে এসেছে। এতেকরে আজ গাড়ির দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে।
আরিচা লঞ্চমালিক সমিতির দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট প্রতিনিধি নুরুল আলম মিলন জানান, যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ২২টি লঞ্চ চলাচল করছে। ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী পরিবহন কেন করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করি যাতে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী লঞ্চে না উঠে। অনেক সময় লঞ্চ ছাড়ার সময় হলে যাত্রীরা দৌড়ে উঠে পরে। এর জন্যই কিছু সময় ধারণক্ষমতার বেশি হয়ে যায়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপারে ছোট-বড় ২১ টি ফেরির মধ্যে ১৮ টি ফেরি চলাচল করছে। যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকায় আজ সকাল থেকে দুটি ফেরি যুক্ত হয়েছে। এবার ঈদের আগে অধিকাংশ যাত্রীই ভোগান্তি ছাড়া নদী পার হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ঈদের পরেও ঘাটে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়া মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে পারবে বলে তিনি জানান।
























