০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়ার অস্তিত্ব ধারণ করতে হবে: আসিফ নজরুল

তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার অস্তিত্বকে ধারণ করতে হবে।

আজ শুক্রবার বিকেলে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজের’ উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি তার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। তখন একটা কথা বলতাম, বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি, অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয়; তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, বন্দি ছিলেন, ওনার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তখন ওনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।’

আইন উপদেষ্টা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ওনার (খালেদা জিয়া) একটা অদ্ভুত বিচার হয়েছিল, উদ্ভট বিচার। সেই বিচারে উনি শকড হয়েছিলেন অন্য পক্ষের আইনজীবীর কথা শুনে। উনি অবাক হয়ে বলেছিলেন যে ‘আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা?’ বিস্মিত এবং ব্যথিত হয়ে বলা এই বাক্যটাকে বিচারক লিখেছিলেন যে, বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি কাজটা করেছেন।”

 

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি আইনের ছাত্র হিসেবে বলি- এত জঘন্য একটা বিচার হয়েছে। এটার বিপক্ষে বিবৃতি লিখে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, ফোন করেছি বিভিন্ন মানুষকে, কিন্তু হাইকোর্টে কী করবেন না করবেন, এই ভয়ে চারজনের বেশি রাজি হয়নি। চারজনের তো বিবৃতি হয় না, এজন্য পত্রিকায় ধরাতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, উনি যখন মুমূর্ষু অবস্থায়, উনাকে চিকিৎসার জন্য যেন বিদেশে পাঠানো হয়, এজন্য কত মানুষকে অনুনয়-বিনয় করেছি। অনেকের ইচ্ছা ছিল কিন্তু সাহস করেনি।

আইন উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি উনি সৎ, পরমতসহিষ্ণু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আত্মত্যাগী ভূমিকার জন্য ছিলেন অনন্য। তার মধ্যে দেশপ্রেম ছিল, রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।

তিনি বলেন, আজকে আমার ভালো লাগছে, সবাই আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা জানাতে পারছি। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, বাংলাদেশের মানুষ আজকে স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এজন্যই এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। উপস্থাপনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এসময় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়ার অস্তিত্ব ধারণ করতে হবে: আসিফ নজরুল

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার অস্তিত্বকে ধারণ করতে হবে।

আজ শুক্রবার বিকেলে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজের’ উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি তার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। তখন একটা কথা বলতাম, বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি, অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয়; তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, বন্দি ছিলেন, ওনার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তখন ওনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।’

আইন উপদেষ্টা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ওনার (খালেদা জিয়া) একটা অদ্ভুত বিচার হয়েছিল, উদ্ভট বিচার। সেই বিচারে উনি শকড হয়েছিলেন অন্য পক্ষের আইনজীবীর কথা শুনে। উনি অবাক হয়ে বলেছিলেন যে ‘আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা?’ বিস্মিত এবং ব্যথিত হয়ে বলা এই বাক্যটাকে বিচারক লিখেছিলেন যে, বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি কাজটা করেছেন।”

 

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি আইনের ছাত্র হিসেবে বলি- এত জঘন্য একটা বিচার হয়েছে। এটার বিপক্ষে বিবৃতি লিখে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, ফোন করেছি বিভিন্ন মানুষকে, কিন্তু হাইকোর্টে কী করবেন না করবেন, এই ভয়ে চারজনের বেশি রাজি হয়নি। চারজনের তো বিবৃতি হয় না, এজন্য পত্রিকায় ধরাতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, উনি যখন মুমূর্ষু অবস্থায়, উনাকে চিকিৎসার জন্য যেন বিদেশে পাঠানো হয়, এজন্য কত মানুষকে অনুনয়-বিনয় করেছি। অনেকের ইচ্ছা ছিল কিন্তু সাহস করেনি।

আইন উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি উনি সৎ, পরমতসহিষ্ণু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আত্মত্যাগী ভূমিকার জন্য ছিলেন অনন্য। তার মধ্যে দেশপ্রেম ছিল, রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।

তিনি বলেন, আজকে আমার ভালো লাগছে, সবাই আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা জানাতে পারছি। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, বাংলাদেশের মানুষ আজকে স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এজন্যই এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। উপস্থাপনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এসময় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/সবা