➤১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মসূচিতে যাচ্ছেন শিক্ষকরা
➤নির্ধারিত ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা
➤ঢাবির সিনেটেও প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাব
সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ দাবি আদায়ে এরইমধ্যে নানা কর্মসূচি সহ গত দুই দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। দাবি না মানলে আগামী ৩০ জুন পূর্ণ কর্মবিরতি এবং পরবর্তী সময়ে পয়লা জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মসূচি শুরু করবেন তারা। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ক্লাস ও পরীক্ষা। এতে বিশ^বিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার পাশাপাশি নির্ধারিত ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। করোনাকালীন ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার মুহূর্তে শিক্ষকদের এ আন্দোলন দীর্ঘ হলে নতুন করে সেজনজটে পড়ার শঙ্কা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রমতে, দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সব নাগরিককে সম্পৃক্ত করতে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে সরকার। এরপর সর্বজনীন পেনশনে যোগ করা হয় ‘প্রত্যয়’ নামের একটি নতুন স্কিম। এতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ দেশের স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সব প্রতিষ্ঠানের নতুন যোগ দেওয়া কর্মীদের বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরই বিষয়টিকে ন্যায়সংগত নয় উল্লেখ করে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।
এরই অংশ হিসেবে প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার, পূর্বের পেনশন স্কিম চালু রাখা, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন কার্যকর করার দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে আসছে সংগঠনটি। এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মবিরতি পালন করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা। এসব কর্মসূচির জাঁতাকলে পড়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে সেশনজটের শঙ্কায় পড়েছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার অর্ধদিবস কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। এ সময় জুলাইয়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে সর্বাত্মক কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষক নেতারা। সারা দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একই কর্মসূচি পালন করা হয়। তিনদিনের কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবারও একইভাবে কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকেরা। তবে, চলমান পরীক্ষাগুলো এই কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে বলে জানান তারা।
এসময় শিক্ষকরা বলেন, দাবি আদায় না হলে ১ জুলাই থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালিত হবে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস এবং পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। অবশ্য, কর্মবিরতির ফলে সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হলে পরবর্তী সময়ে অনলাইন ক্লাস বা ঘনঘন ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে সেটি রিকভার করা হবে বলে জানান তারা।
কলা ভবনের মূল ফটকের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির ব্যানারে দুপুরে এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হূদা বলেন, অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ষড়যন্ত্রমূলক। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। আমরা শিক্ষকেরা সর্বোচ্চ পরিশ্রম করি। যেটার নায্য পারিশ্রমিক আমরা পাই না। তারপরেও বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম। ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব নিজামুল হক ভুঁইয়া বলেন, গত মার্চ মাসে ঘোষিত সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক, সংবিধান পরিপন্থি। আমাদের সঙ্গে ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্মতা পোষণ করে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গত বছরের ১৭ আগস্ট প্রগতি, সমতা, প্রবাস ও সুরক্ষা— এই চার কর্মসূচি নিয়ে চালু হয় সর্বজনীন পেনশন স্কিম। পরে এতে প্রত্যয় স্কিম যুক্ত করা হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে যা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। স্কিমটিতে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত হবেন রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত বা সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও সরকারি ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সব কমিশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যুক্ত হবেন।
চলমান কর্মবিরতিতে শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়ার শঙ্কা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব এবং ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমাদের কর্মবিরতির ফলে যদি সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে আমরা অনলাইন ক্লাস বা ঘনঘন ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে সময় কমিয়ে সেটি রিকভার করব। প্রয়োজনে শুক্রবার ও শনিবারেও স্পেশাল ক্লাস দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের সেশনজট কমাতে আমাদের সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, কর্মবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না কি অল্প দিনের হবে সেটি এখনো বলা যাচ্ছে না। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট হবে কি না সেটি নির্ভর করবে কর্মবিরতির স্থায়ীত্বের ওপর। এখন এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। ঢাবির সিনেটে প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাব: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে প্রত্যয় স্কিম প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধয়াপক ড. জিনাত হুদা। গতকাল বিকেলে আয়োজিত সিনেট সভায় তিনি এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনের সাথে সাথেই শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. নিজামূল হক ভূইয়া এটি সমর্থন করেন।






















