কোটা বিরোধী আন্দোলনের বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট অবরোধ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে ৩ টায় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা থেকে শুরু হয়ে বাংলাবাজার মোড়, রায়সাহেব বাজার হয়ে তাঁতিবাজার মোড়ে এসে পুলিশের বার বার বাধা অতিক্রম করে গুলিস্তান হয়ে জিরো পয়েন্টে অবরোধ করে অবস্থান নেয়।
সাধরণ শিক্ষার্থীরা তাদের চার দফা দাবি থেকে সরে এসে এক দফা দাবি ঘোষণা করে, ‘সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটাপদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে।’
শিক্ষার্থীরা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘মেধাবীদের কান্না আর না আর না’, ‘কোটাবৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘কোটা প্রথায় নিয়োগ পেলে, দুর্নীতি বাড়ে প্রশাসনে’, ‘মেধাবীদের যাচাই করো, কোটাপদ্ধতি বাতিল করো’,’আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠো আরেকবার’,‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’ মেধাবীরা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়িনাই, বাতিল বাতিল বাতিল চাই, কোটা প্রথা বাতিল চাই ইত্যাদি স্লোগানে কেপে ওঠে জিরো পয়েন্ট মোড়। এ ছাড়াও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গান গেয়ে, কবিতা আবৃত্তি করে বাংলা ব্লকেড আন্দোলন কর্মসূচি করছেন।
আন্দোলনের সমন্বয়কারী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না সবুজ বাংলাকে বলেন, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। কোনো বিশেষ শ্রেণির আন্দোলন নয়।দেশের সব সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করেছেন। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি চলবে।
আন্দোলনের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সাদ সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের দাবি সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিল করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট কোটার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন নয়। আমাদের আন্দোলন বৈষম্যমূলক কোটা প্রথার বিরুদ্ধে। আমাদের এক দফা দাবি মেনে নিতে হবে। দাবি মানা না হলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
























