# ২ হাজার মানুষকে উদ্ধার
# আশ্রয়কেন্দ্রে খাবারসহ নানা সহযোগিতা
চারদিকে থইথই পানিতে যখন একটুকু ডাঙার খোঁজে ছুটছে মানুষ এমন সময় তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতদিন ফেনীতে বন্যাক্রান্ত মানুষকে সহযোগিতায় কাজ করছে। তারা উদ্ধার কার্যক্রম, আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি, খাবার, পোশাক, ওষুধসহ অন্যান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার সৈয়দা প্রিয়াঙ্কা দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, এ পর্যন্ত পানিবন্দি এলাকাগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করেছে এবং উদ্ধারকৃত মানুষদের মধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
গতকাল রোববার কয়েক হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে ফাউন্ডেশনের একটি দল ফেনি গেছে। আজ সোমবার আরেকটি দল এক হাজার পরিবারের জন্য চাল, ডাল, তেল, বিস্কুট, মুড়ি, গুড়সহ বিভিন্ন জরুরি খাদ্যদ্রব্য নিয়ে ফেনী যাত্রা করবে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক আমিরুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের এই উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের জন্য আশার আলো জ্বালিয়েছে। আমরা বিপদাপন্ন মানুষের পাশে থাকতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, টিউবওয়েল মেরামত, স্বাস্থ্য সহায়তা এবং সাবলম্বীকরণের উদ্যোগ এই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন বহুমুখী সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নিজস্ব স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রম যেখানে শতাধিক পিতামাতাহীন এতিম শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বসবাস করেন। এর বাহিরে কয়েক জেলায় প্রজেক্ট স্কুলগুলোতে হাজারের অধিক সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সব শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাবার, শিশু অধিকার, মৌলিক চাহিদা নিশ্চয়তা করা হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসা খাতে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ‘মাস্তুল এইড’ প্রকল্পের মাধ্যমে অর্ধশতাধিকের অধিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অসচ্ছল পঙ্গুত্ববরণকারী রোগীদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি হুইলচেয়ার ও কৃত্রিম পা দিয়ে সাবলম্বী করছে।
ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর মুশফিক আলিফ দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের রয়েছে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তোলা হচ্ছে। এর বাইরে যাকাত স্বাবলম্বী প্রজেক্টের মাধ্যমে এক হাজার জনের বেশি মানুষকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। মাস্তুলের প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে দাফন-কাফন সেবা প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের অধিক লাশ দাফন হয়েছে। ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ মাফিয়া সুলতানা লিমা দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমরা মাস্তুল মেহমানখানা পরিচালনা করি যেখান থেকে শতাধিক অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের একবেলা পেটপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।






















