কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে চারটি দোকানঘর মালামাল সহ পুড়ে প্রায় সাত লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক।
রবিবার রাত ১২ টা ২ মিনিটে উমর মজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী হাফিজুর রহমান জানায় তারা প্রথমে নুর আলম সিদ্দিক হিরোর কম্পিউটারের দোকানে আগুন দেখতে পান। রাত গভীর হওয়ায় বাজারে তেমন লোকজন না থাকলেও তাদের চিৎকারে আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে আসে। পানির উৎস দূর হওয়া সত্বেও প্রাথমিকভাবে তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। তারা খবর দেন রাজারহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হলে তারা পৌঁছাতে দেরি হয়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় রাজারহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম জেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দিলে তারাও আসে ঘটনাস্থলে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই স্টেশনের দুটি টিম প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয়।
ফরকেরহাট বাজারের আরেক ব্যবসায়ী মঞ্জরুল ইসলাম মঞ্জু মিয়া বলেন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগে আমাদের দোকানে থাকা অগ্নি নির্বাপক চারটি মিনি সিলিন্ডার দিয়ে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হই। আমরা সিলিন্ডার দিয়ে চেষ্টা না করলে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেতো। নুর আলম সিদ্দিক হিরোর কম্পিউটার দোকানে কয়েকটি ল্যাপটপ সহ প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল, ওসমান গনি বাবুর ওষুধের দোকানে প্রায় ৫০ হাজার, নুর ইসলাম মিয়ার গবাদিপশুর ওষুধের দোকানে প্রায় ৬০ হাজার ও রুহানির মাছের খাদ্য ও ওষুধের দোকানে লক্ষাধিক সহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
রাজারহাট ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোঃ আখতারুজ্জামান সওদাগর বলেন- রাস্তায় অনেকগুলো বাঁক ও প্রচুর খানাখন্দ হওয়ায় দ্রুত পৌঁছাতে পারিনি। আগুনের তীব্রতা বেশি হবার আশঙ্কা থেকে কুড়িগ্রাম স্টেশনে খবর দিলে আমরা সম্মিলিতভাবে পুরোপুরি আগুন নেভাতে সক্ষম হই। আমাদের টিম আসার পূর্বেই স্থানীয়রা আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে পাশ্ববর্তী দোকান গুলো রক্ষা পায় । ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।





















